?>

কৃষক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পম্পেওকে ৭ এমপি'র চিঠি

কৃষক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পম্পেওকে ৭ এমপি'র চিঠি

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের করা নয়া তিন কৃষি আইনের বিরুদ্ধে চলমান কৃষক আন্দোলনে উদ্বেগ প্রকাশ করে এবার মার্কিন সাংসদদের একটি গোষ্ঠী সে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওকে সক্রিয় হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): সাত প্রভাবশালী মার্কিন সংসদ সদস্যদের একটি গোষ্ঠী যার মধ্যে ইন্দো-আমেরিকান নারী সংসদ সদস্য প্রমীলা জয়পালও আছেন তাঁরা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওকে চিঠি দিয়ে তাঁর ভারতীয় প্রতিপক্ষের সাথে ভারতে কৃষক আন্দোলনের বিষয়টি উত্থাপন করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তাঁরা বলেছেন, ‘কৃষক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে অসংখ্য ইন্দো-আমেরিকান সরাসরি প্রভাবিত হয়েছেন। কারণ পঞ্জাবে আমাদের পূর্বপুরুষ এবং পরিবারের জমি-বাড়ি রয়েছে। ভারতে পরিবারের সদস্যদের জন্য উদ্বিগ্ন আমরা। এই গুরুগম্ভীর পরিস্থিতিতে ভারতীয় বিদেশসচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করছি।’   

মার্কিন ওই এমপিরা ভারত সরকারের জাতীয় নীতি কার্যকর করার বিষয়ে সম্মান প্রদর্শনের কথা উল্লেখ করলেও তাঁরা বলেছেন, ভারতে এবং বিদেশে যাঁরা  শান্তিপূর্ণভাবে কৃষি আইনের বিরোধিতা করছেন, তাঁদের সে অধিকার রয়েছে। কারণ  বহু ভারতীয় পরিবার ওই কৃষি আইনকে নিজেদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তায় আঘাত হিসেবে  দেখছেন।’

ভারত অবশ্য আগেই বিদেশি নেতা ও রাজনীতিকদের কৃষকদের বিরোধিতা প্রসঙ্গে করা মন্তব্যকে ‘অনুচিত’ এবং ‘অসম্পূর্ণ ও ভুল তথ্য ভিত্তিক’ বলে  অভিহিত করেছে। ওই বিষয়টি একটি গণতান্ত্রিক দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় সম্পর্কিত বলেও জানানো হয়েছে।

ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব চলতি মাসের শুরুতে বলেছিলেন, ‘আমরা কিছু অসম্পূর্ণ তথ্য-ভিত্তিক মন্তব্য দেখেছি, যা ভারতের কৃষকদের সাথে সম্পর্কিত। এ জাতীয় মন্তব্য অনুচিত, বিশেষত এটি একটি গণতান্ত্রিক দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়।’ 

ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এরকম স্পষ্ট অবস্থান সত্ত্বেও মার্কিন সংসদ সদস্যরা গত ২৩ ডিসেম্বর সে দেশের বিদেশ মন্ত্রী মাইক পম্পেওকে দেওয়া চিঠিতে বলেছেন,পাঞ্জাবের সাথে যুক্ত শিখ আমেরিকানদের পক্ষে ওই আন্দোলন বিশেষ উদ্বেগের বিষয়। এছাড়াও, এটি ভারতের অন্যান্য রাজ্যের সংশ্লিষ্ট ভারতীয়-আমেরিকানদেরও বেশ প্রভাবিত করে।

মার্কিন সাংসদের ওই গোষ্ঠী তাঁদের চিঠিতে বলেছেন, আমেরিকা এমন একটি দেশ যা রাজনৈতিক বিরোধের সাথে পরিচিত এবং বর্তমান সামাজিক অস্থিরতার সময়ে ভারতকে পরামর্শ দিতে পারে।

চলতি মাসের প্রথমে কংগ্রেস প্রতিনিধি জিম কোস্টা ও শেলিয়া জ্যাকসন লি-ও বিক্ষোভকারী কৃষকদের সমর্থনের কথা জানিয়েছিলেন। সে সময়ে কৃষক আন্দোলনকে দমনপীড়ন করে আটকানোর সরকারি প্রচেষ্টারও বিরোধিতা করা হয়েছিল। ডেমোক্রেট মার্কিন আইন প্রণেতা ডেভিড ট্রন ভারত সরকারের উদেশ্যে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা সমাধানের দাবি জানিয়েছিলেন। এক্ষেত্রে সুপ্রিমকোর্টের মধ্যস্থতার কথাও বলেন তিনি। কৃষক আন্দোলনকে ঘিরে চলমান সঙ্কটের মধ্যে মার্কিন এমপিদের উদ্বেগ ভারতের  কেন্দ্রীয় সরকারকে বিড়ম্বনায় ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

342/


আপনার মন্তব্য প্রেরণ করুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ফিল্ডসমূহ * এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে

*