?>

পশ্চিমবঙ্গে স্বাস্থ্য পরিসেবা বেহাল, চিকিৎসকদের গণইস্তফার হিড়িক!

পশ্চিমবঙ্গে স্বাস্থ্য পরিসেবা বেহাল, চিকিৎসকদের গণইস্তফার হিড়িক!

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে জুনিয়র ডাক্তাররা কর্মবিরতি পালন করায় রাজ্য স্বাস্থ্য পরিসেবা বেহাল হয়ে পড়েছে। স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে খবর, আজ (শুক্রবার) দুপুর পর্যন্ত চার জন অধ্যক্ষ এবং ১৭০ জন চিকিৎসক ইস্তফা দিয়েছেন। কার্যত নজিরবিহীন এই পরিস্থিতিতে গোটা রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।

(ABNA24.com) ভারতের পশ্চিমবঙ্গে জুনিয়র ডাক্তাররা কর্মবিরতি পালন করায় রাজ্য স্বাস্থ্য পরিসেবা বেহাল হয়ে পড়েছে। স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে খবর, আজ (শুক্রবার) দুপুর পর্যন্ত চার জন অধ্যক্ষ এবং ১৭০ জন চিকিৎসক ইস্তফা দিয়েছেন। কার্যত নজিরবিহীন এই পরিস্থিতিতে গোটা রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।

এরইমধ্যে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ, আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ, এসএসকেএম, ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের মতো একাধিক হাসপাতালের চিকিৎসকরা গণইস্তফা দেয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে, কোলকাতার এনআরএস-এর জুনিয়র ডাক্তারদের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন করে কর্মবিরতিতে সামিল হয়েছেন দিল্লির এইমস হাসপাতালের চিকিৎসকরা। আন্দোলনের আঁচ লেগেছে মহারাষ্ট্র, উত্তর প্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলঙ্গানা, ছত্তিসগড়সহ প্রায় গোটা দেশে। এরফলে কার্যত গোটা দেশেই স্বাস্থ্য পরিসেবা সঙ্কটের মুখে পড়েছে।

গত (সোমবার) কোলকাতার এনআরএস মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যুর জেরে জুনিয়র ডাক্তারদের মারধর করে একদল ক্ষুব্ধ মানুষ। ওই ঘটনায় দু’জন চিকিৎসক আহত হন। এরপরেই তারা নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন দাবিতে কর্মবিরতি পালন করায় হাসপাতালগুলোতে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।  

গতকাল (বৃহস্পতিবার) মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চার ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে চিকিৎসকদের কাজে যোগ দেয়ার আহ্বান জানালেও তাতেও বিশেষ ফল হয়নি।

চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রসঙ্গে রাজ্যের মন্ত্রী ও কোলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম আজ বলেন, ‘চিকিৎসকরা হলেন ভগবানের আর এক রূপ। সেই ভগবান যদি মুখ ফিরিয়ে থাকেন তাহলে আমাদের মতো সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে! সেজন্য আজকেও আমি বিভিন্নভাবে তাদেরকে অনুরোধ করেছি, মমতা ব্যানার্জিও অনুরোধ করেছেন পরিসেবা দিন, তারপরে আর কী কী আছে সেসব নিয়ে আলোচনা নিশ্চয় হতে পারে। পরিসেবাটা দিন। সমাজের কিছু মানুষ আছেন যারা অত্যাচারী, যারা ডাক্তারবাবুদের গায়ে হাত দেন তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি যাতে আদালত দেয় সেই ব্যবস্থা নিশ্চিতভাবে করতে হবে। সেজন্য ডাক্তারবাবুদের কাছে আমাদের অনুরোধ, আপনারা কাজটা করুন। রোগীর সঙ্গে দয়া করে শত্রুতা করবেন না।’

এদিকে, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন আজ (শুক্রবার) বলেন, ‘চিকিৎসকদের আমি আশ্বস্ত করতে চাই, তাদের নিরাপত্তা দিতে সরকার বদ্ধপরিকর। চিকিৎসকদের কাছে আমার আবেদন, আপনারা শুধু প্রতীকী প্রতিবাদ করুন এবং নিজেদের দায়িত্ব পালন করুন।’ তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীকে আবেদন জানাচ্ছি, বিষয়টি ব্যক্তিগত সঙ্ঘাত হিসেবে নেবেন না।’ উনি চিকিৎসকদের চরম হুঁশিয়ারি  দেয়ার ফলেই তারা  ক্ষুব্ধ হয়ে  কর্মবিরতি চালিয়ে যাচ্ছেন বলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন মন্তব্য করেন।

এ সম্পর্কে আজ (শুক্রবার) কোলকাতার সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র সাদিক মণ্ডল রেডিও তেহরানকে বলেন,  ‘আমাদের প্রধান দাবি হল, আমদেরকে মেরে চলে যাচ্ছে অনেকে তারা কেন দোষী সাব্যস্ত হবে না, বা তারা কেন শাস্তি পাবে না? এজন্য আমাদের তিন দিন ধর্মঘট চলল। কিন্তু গতকাল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়  এসএসকেএম হাসপাতালে এসে বললেন, চার ঘণ্টার মধ্যে তোমরা কাজে যোগ দাও, নইলে হোস্টেল খালি করতে হবে। উনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, তার মুখে আমরা পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেয়ার আশস্তবাণী শুনতে চাই। কিন্তু তা  না বলে উনি চার ঘণ্টার মধ্যে কাজে যোগ না দিলে হোস্টেল থেকে বের করে দেয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন। একথাটা অনেকেই ভালোভাবে নেয়নি। সেজন্য আমাদের সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজ থেকে প্রথম আটজন অধ্যাপক পদত্যাগ করেছেন। রাজ্যের বিভিন্ন কলেজ থেকে অধ্যাপকরা পদত্যাগ করতে শুরু করেছেন। এ পর্যন্ত কমপক্ষে চারশ’ চিকিৎসক ইস্তফা দিয়েছেন বলেও কোলকাতার সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজের ডাক্তারি ছাত্র সাদিক মণ্ডল জানান। #




/129


আপনার মন্তব্য প্রেরণ করুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ফিল্ডসমূহ * এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে

*