?>

পশ্চিম আফ্রিকায় বোকোহারাম জঙ্গিরা ফের তৎপর: হামলায় নিহত ১৬০

পশ্চিম আফ্রিকায় বিশেষ করে নাইজেরিয়া ও এর আশেপাশের দেশগুলোতে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তৎপরতা অনেক বেড়ে গেছে। বুর্কিনাফাসোর উত্তরাঞ্চলে একটি গ্রামে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের সর্বসাম্প্রতিক হামলায় ১৬০ জনের বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে এবং তাদের ঘরবাড়ি ও দোকানপাটে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। জাতিসংঘ এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা) : জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস লোমহর্ষক ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ওই অঞ্চলের উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে মোকাবেলা করার জন্য আন্তর্জাতিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি সন্ত্রাসীদের মোকাবেলা করার জন্য পশ্চিম আফ্রিকার সরকারগুলোকে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে আরও বেশি সহায়তা করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

পশ্চিম আফ্রিকার বেশ কিছু দেশে অনেক বছর ধরে উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বোকোহারামের সশস্ত্র তৎপরতা বজায় রয়েছে। অন্যদিকে পূর্ব আফ্রিকার দেশগুলোতেও আরেক উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আশ-শাবাব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। নাইজেরিয়া, মালি, সোমালিয়াসহ আরো বেশ কিছু দেশে তৎপর আফ্রিকার এই দুই সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ওই অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদ লুণ্ঠন এবং ধর্মের নামে বিকৃত ও উগ্র চিন্তা ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে।

যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তারা উগ্র সন্ত্রাসবাদীদের মোকাবেলার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছেন এবং এদেরকে মোকাবেলায় বিদেশি সেনা মোতায়েনের ওপর গুরুত্বারোপ করে আসছেন এবং এজন্য তারা অনেক পদক্ষেপও নিয়েছেন কিন্তু তারপরও সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় তারা সফল হতে পারেননি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোর নীতিতে পরিবর্তন, উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোতে রাজনৈতিক পরিবর্তন, গোলযোগ ও অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বৃহৎ শক্তিগুলোর নীতিতে পরিবর্তন প্রভৃতি কারণে আফ্রিকার বহুদেশে সন্ত্রাসবাদীরা আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।

প্রায় এক মাস আগে নাইজেরিয়ার বিভিন্ন স্কুলে হামলা চালিয়ে সন্ত্রাসীরা বহু শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে। এছাড়া বিভিন্ন শহরে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বহু লোককে তারা হত্যা করেছে।

বাস্তবতা হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশ বা আইএস জঙ্গিরা চরমভাবে পরাজিত হওয়ার পর তারা এখন আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছে এবং সেখানে সন্ত্রাসী তাণ্ডব চালাচ্ছে। কিন্তু তাদের প্রতিহত করার ক্ষেত্রে আফ্রিকার সরকারগুলোর মধ্যে জোরালো তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। রাজনৈতিক বিশ্লেষক জোরদান কুপ আফ্রিকা মহাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা নিরাপত্তাহীনতা ও অর্থনৈতিক দুর্বলতা বা বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে আইএস জঙ্গিদের মতাদর্শে উজ্জীবিত বোকোহারাম ও আশ-শাবাবের মত জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর তৎপরতার কথা উল্লেখ করে বলেছেন, সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য এতটাই বেড়ে গেছে যে অচিরেই আমরা আফ্রিকা মহাদেশে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে প্রকৃত যুদ্ধের দৃশ্য দেখতে পাবো।

বাস্তবতা হচ্ছে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আফ্রিকার দেশগুলোর সেনাবাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব, সেনাবাহিনীর জন্য পর্যাপ্ত বাজেটের অভাব, বিশেষ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য বিদেশীদের হস্তক্ষেপ ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় অজুহাতে ভিন্ন উদ্দেশ্যে বিদেশি সেনা উপস্থিতি উগ্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা বিস্তারে ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে আফ্রিকার দেশগুলোর অর্থনৈতিক দুরবস্থা ও দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে একদিকে যেমন বিদেশীরা হস্তক্ষেপের সুযোগ পাচ্ছে অন্যদিকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো তাদের তৎপরতা বিস্তারের সুযোগ পাচ্ছে। দরিদ্রতার সুযোগ নিয়ে সন্ত্রাসীরা আফ্রিকার যুবকদেরকে উগ্রতার দিকে টেনে আনার চেষ্টা করছে এবং সন্ত্রাসী কাজে তাদেরকে ব্যবহার করছে।


342/


আপনার মন্তব্য প্রেরণ করুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ফিল্ডসমূহ * এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে

*