১৫ শাবান: শেকল ভাঙার মহানায়কের জন্মদিন

১৫ শাবান: শেকল ভাঙার মহানায়কের জন্মদিন

সর্বশেষ ত্রাণকর্তার আবির্ভাবের যুগকে শেষ জামানা বা এপোক্যালিপসি বলা হয়। অবশ্য প্রত্যেক ধর্ম ও সম্প্রদায় ইতিহাসের শেষ অংশকে ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্যে চিত্রিত করে আসছে। এসব বর্ণনার অধিকাংশের মধ্যেই অক্ষ শক্তি বা অসত্যের পক্ষের শক্তিগুলোর সাথে সর্বশেষ ত্রাণকর্তার অনুগত বাহিনীর রক্তাক্ত ও ভয়াবহ যুদ্ধ ঘটার এবং এসব ত্রাণকর্তার অনুগত বাহিনীর বিজয়ী হবার কথা বলা হয়েছে।

আবনা ডেস্ক: ন্যায়বিচারের বসন্ত সমাগত। সামেরা থেকে বিশ্বের দিগ-দিগন্তে ছড়িয়ে পড়ছে ১৫ শাবানের অপূর্ব খুশবু। মাহদীর আলোকিত অস্তিত্ব প্রাণে প্রাণে জাগিয়ে তুলছে আনন্দের মহাসমীরণ।
পবিত্র শবে বরাত বা ১৫ শাবান বিশ্বের মুসলমানদের মধ্যে ইসলামের প্রাথমিক যুগ থেকেই কিংবা অন্তত প্রায় ১২০০ বছর ধরে একটি বিশেষ পবিত্র ও আনন্দঘন দিন হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। অনেক বিশিষ্ট সুন্নী মনীষী মনে করেন, সবচেয়ে মহিমান্বিত রাতগুলোর মধ্যে ১৫ শাবান অন্যতম। ভারত উপমহাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এই দিনে নানা ধরনের মিষ্টি বিতরণ ও ব্যাপক ইবাদত বন্দেগী করা হয়। আলেমদের অনেকেই মনে করেন এই রাতের ইবাদত-বন্দেগী কবুল হয় এবং মুসলমানের সব গোনাহ মাফ করিয়ে নেয়ার এক উপযুক্ত সুযোগ দেয়া হয় এই রাতে।
চিন্তাবিদ ও দার্শনিকরা প্রাচীন যুগ থেকেই আদর্শ সমাজ গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছেন। যেমন, প্লেটো তার কল্পিত ইউটোপিয়ায়, ফারাবী তার সূর্যের নগরে, টমাস ম্যুর তার কল্পিত পৃথিবীর স্বর্গে আদর্শ সমাজ বা দেশ গড়ার স্বপ্ন তুলে ধরেছেন। খোদায়ী ধর্মগুলোও মানুষকে ধ্বংস, লাঞ্ছনা ও বঞ্চনা থেকে মুক্তি দানকারী সর্বশেষ ত্রাণকর্তার আবির্ভাবের সুসংসবাদ সব সময়ই দিয়ে এসেছে। সর্বশেষ ত্রাণকর্তার শাসন ব্যবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, সবার মধ্যে উচ্চ শিক্ষা ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেয়া, ন্যায় বিচার, নিরাপত্তা, শান্তি এবং সবার জন্য সুখ-সমৃদ্ধি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠা।
সর্বশেষ ত্রাণকর্তার আবির্ভাবের যুগকে শেষ জামানা বা এপোক্যালিপসি বলা হয়। অবশ্য প্রত্যেক ধর্ম ও সম্প্রদায় ইতিহাসের শেষ অংশকে ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্যে চিত্রিত করে আসছে। এসব বর্ণনার অধিকাংশের মধ্যেই অক্ষ শক্তি বা অসত্যের পক্ষের শক্তিগুলোর সাথে সর্বশেষ ত্রাণকর্তার অনুগত বাহিনীর রক্তাক্ত ও ভয়াবহ যুদ্ধ ঘটার এবং এসব ত্রাণকর্তার অনুগত বাহিনীর বিজয়ী হবার কথা বলা হয়েছে।
মুসলমানদের মধ্যে অনেকেই মনে করেন ১৫ শাবান হল মানবজাতির শেষ ত্রাণকর্তা হযরত ইমাম মাহদী (আ.)'র পবিত্র জন্মদিন। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)'র পবিত্র আহলে বাইতের ১১তম সদস্য ইমাম হযরত ইমাম হাসান আসকারী (আ.)'র পুত্র হিসেবে তাঁর জন্ম হয়েছিল ২২৫ হিজরিতে ইরাকের বর্তমান রাজধানী বাগদাদের উত্তরে পবিত্র সামেরা শহরে। তাঁর মায়ের নাম ছিল নার্গিস। এবং তিনি আল্লাহর আদেশে এক পর্যায়ে অদৃশ্য হয়ে যান। তাঁর অদৃশ্য থাকার সময়ও দুই ভাগে বিভক্ত। স্বল্পকালীন সময়ের জন্য অদৃশ্য হওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদে অদৃশ্য থাকা। দীর্ঘ মেয়াদে অদৃশ্য থাকার পর উপযুক্ত সময়ে তিনি আবার আবির্ভূত হবেন এবং সব ধরনের জুলুম ও বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে বিশ্বব্যাপী ন্যায়বিচার ও ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠা করবেন। তাঁর আগমনে সকল আঁধার দূর হয়ে বিশ্বে আসবে ঝলমলে ভোর।

তুমি আসবে জানি এই ধরাধামে করতে আঁধার দূর,
কাটাবে অমানিশা, দেখাবে আলোর দিশা,
আনবে ঝলমলে ভোর
সেই আশাতেই বুক বাধি,
তুমি আসবে জানি আসবে ইমাম মাহদী।
দিকে দিকে শুনি শুধু মজলুমের কান্না,
দেখি সব তাগুতি আয়োজন,
ভাঙগাতে মোদের নিদ,
কাঁপাতে জালিমের ভিত,
তোমাকেই আজ বড় প্রয়োজন
আলোকিত করবে এ সমাজ বিশ্ব
ছড়িয়ে কুরআনের নূর...... ঐ
ইসলামের ছায়াতলে মানুষেরা দলে দলে
আসবে তোমারই দাওয়াতে,
অন্যায় অবিচার দূর্নীতি অনাচার,
দুর হবে তোমারই ছোঁয়াতে,
ধ্বনিত হবেই জানি সকলেরই কণ্ঠে
আল্লাহ নামেরই সুর.......... ঐ
(গানের কথা, সুর ও কণ্ঠ : রফিকুল ইসলাম রিমন)

বাংলাদেশি গীতিকার ও সুরকার রফিকুল ইসলাম রিমনের গানে ইমাম মাহদী (আ.)-এর আগমনে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনের সুরা কাসাসের পঞ্চম আয়াতে বলেছেন:
"এবং আমি ইচ্ছা করলাম যে, যাদের পৃথিবীতে দুর্বল করে রাখা হয়েছিল , তাদের প্রতি অনুগ্রহ করতে, তাদের নেতৃত্ব দান করতে এবং তাদেরকে পৃথিবীর শাসন-ক্ষমতার উত্তরাধিকারী করতে।"
এই আয়াতের তাৎপর্য অনুযায়ী এমন এক যুগ আসবে যখন বিশ্বব্যাপী ন্যায়পরায়ন ব্যক্তিদের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। আর ওই ন্যায়পরায়ন ব্যক্তিদেরই নেতা হবেন হযরত ইমাম মাহদী (আ.)। তিনি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবেন মানুষের প্রকৃত মর্যাদা।
মানব জাতির শেষ ত্রাণকর্তা হযরত ইমাম মাহাদী (আ.) এমন সময় বিশ্বে পুনরায় আবির্ভূত হবেন যখন বিশ্বব্যাপী অবিচার ও জুলুমের মাত্রা বাড়তে থাকায় একদিকে ঈমানদারদের ঈমান ও প্রতিরোধ বাড়তে থাকবে এবং দুর্বল চিত্তের অধিকারী জনগণ ক্রমেই মুক্তির ব্যাপারে বেশি আশাহীন হতে থাকবেন।
শিয়া ও সুন্নী সূত্রগুলোতে প্রসিদ্ধ এক বর্ণনা অনুযায়ী ইমাম মাহদী (আ.)'র যুগে মানবজাতি অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কল্যাণ অর্জন করবে। ইমাম মাহ্দী (আ.)-এর দানশীলতা ও মানব জাতির প্রতি তাঁর মমত্ববোধ এবং ভালোবাসাও এ রেওয়ায়েত থেকে স্পষ্ট। মহানবী (সা.) বলেছেন :
"মাহ্দীর যুগে আমার উম্মত এমন নেয়ামত লাভ করবে যে, তারা পূর্বে কখনই তা লাভ করেনি। আকাশ থেকে তাদের ওপর বৃষ্টি বর্ষিত হবে এবং তখন পৃথিবীর বুকে সব ধরনের উদ্ভিদই জন্মাবে।”
ইমাম মাহ্দী (আ.)-এর যুগে মানব সমাজ প্রথমে দারিদ্র্যমুক্ত ও অভাবমুক্ত একটি সমাজে পরিণত হবে। পৃথিবীর সমস্ত বিধ্বস্ত ও বিরাণ এলাকা তাঁর মাধ্যমে আবাদ হয়ে যাবে।

যুগের নেতা ইমাম মাহদী (আ.) সম্পর্কে বাংলাদেশি কবি ও ছড়াকার শাহ নওয়াজ তাবিবের একটি কবিতা লিখেছেন। কবিতাটি এ রকম:
আল মাহদী, মাহদী ইমাম
আওলাদে রাসূল, মা ফাতেমার সন্তান
আল মাহদী, মাহদী ইমাম।
হাসান আসকারি পিতা মহান
মা নার্গিস কোলে পান পনের শাবান।
এলেন ধরায় সাহেবে জামান
কায়েমে ইমাম, মাহদী ইমাম
আল মাহদী, মাহদী ইমাম।
ন্যায়ের প্রতীক তিনি সাহেবে জামান
তোমার প্রকাশে জুলুমের অবসান
তোমার পথপানে তৃষিত এ প্রাণ
কায়েমে ইমাম, মাহদী ইমাম
আল মাহদী, মাহদী ইমাম।
যেই দিল্‌ শূন্য তুমি বিনে
দোয়া করো সে যেন তোমারে চেনে
হেদায়েত দাও তুমি অন্তরে মোর
কায়েমে ইমাম, মাহদী ইমাম
আল মাহদী, মাহদী ইমাম।
চরণে আমি তোমার পাই যেন ঠাঁই
তুমি আল্লাহর হুজ্জাত কোথা আমি যাই
তুমি বিনে অধমের কোনো গতি নাই।
কায়েমে ইমাম, মাহদী ইমাম
আল মাহদী, মাহদী ইমাম।

বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) বলেছেন যে, তাঁর উম্মত মাহ্দীর কাছে এমনভাবে আশ্রয় নেবে যেমনভাবে মক্ষীরাণীর কাছে মৌমাছিরা আশ্রয় নিয়ে থাকে। তিনি পৃথিবীকে ঠিক সেভাবে ন্যায়বিচার দিয়ে পূর্ণ করে দেবেন যেভাবে তা অন্যায়-অবিচার ও বৈষম্য দিয়ে পূর্ণ হবে। আর সমগ্র মানব জাতি ঠিক তাদের আদি সমাজের মতো হয়ে যাবে। তিনি কোনো ঘুমন্ত ব্যক্তিকে জাগ্রত করবেন না এবং কোনো রক্ত ঝরাবেন না তথা অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করবেন না।”
সাঈদ ইবনে জুবাইর থেকে বর্ণিত হয়েছে :"যে বছর আল কায়েম আল মাহ্দী আবির্ভূত হবেন এবং কিয়াম করবেন সে বছর চব্বিশবার পৃথিবীর ওপর মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষিত হবে যার বরকত ও কল্যাণকর প্রভাব সর্বত্র দৃষ্টিগোচর হবে।”
ইমাম সাদিক (আ.) বলেছেন:“জ্ঞান সাতাশটি অক্ষর (শাখা-প্রশাখা) সমতুল্য। সকল নবী-রাসূল সম্মিলিতভাবে যা এনেছেন তা আসলে জ্ঞানের দু'টি অক্ষরস্বরূপ। মানব জাতি মাহ্দীর আবির্ভাবের দিবস পর্যন্ত এ দু'টি অক্ষরের বেশি কিছু জানতে পারবে না। আর যখন আল কায়েম আল মাহদী আবির্ভূত হবে ও কিয়াম করবে তখন সে জ্ঞানের অবশিষ্ট পঁচিশটি অক্ষর বের করে তা মানব জাতির মধ্যে প্রচার করবে; আর এভাবে সে জ্ঞানের সাতাশ ভাগই প্রচার করবে ও জনগণের মাঝে ছড়িয়ে দেবে।”
বর্তমান পৃথিবী দিন দিন বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ইমাম মাহদীর আগমন ত্বরান্বিত হোক- এ প্রত্যাশা সবার। বাংলাদেশি কবি ও লেখক আমিন আল আসাদের প্রত্যাশাও তাই। তার প্রত্যাশার কথা জানব তার লেখা কবিতায়:

একরত্তি স্বস্তিতে নেই পৃথিবীর মানুষ এখন
নীতিহীন বিপন্ন দুনিয়ায় আমরা এক
দিকভ্রান্ত মাঝিহীন তরণিতে ভাসছি উত্তাল তরঙ্গে
সীমাহীন ভ্রান্তির মহাসমুদ্রে
শুধু বিশ্বাসীরাই নয়
জগতের সমুদয় শান্তিকামী মানুষ সন্ধানে রয়েছে কোনো এক মহান সাহায্যকারীর

হে ইমাম!
আপনার প্রতীক্ষায় অপেক্ষমান
পৃথিবীর নিপীড়িত মানবতা
অপেক্ষমান প্রাণীকুল, উদ্ভিদ প্রকৃতির সকল কিছুই
সৃষ্টির সেরা মানুষ আজ লিপ্ত হয়েছে ভয়ানক আত্ম হননে
মহাসত্যের প্রতিপক্ষ সাম্রাজ্যবাদের দানবীয় হুঙ্কারে
আর সন্ত্রাসের ঝাঁঝালো আওয়াজে ত্রস্ত বসুন্ধরা
আপনার সান্নিধ্যহীনতায় বেখবর মানুষ শান্তি শান্তি বলে ছুটছে প্রান্তরে প্রান্তরে
তথাকথিত বিশ্বসংস্থাগুলোর দুয়ার দুয়ারে কড়া নাড়ছে
অনিশ্চিত মরীচিকায় আছড়ে পড়ছে তাদের ব্যর্থ হাহাকার
অবিরাম হানাহানি, সম্পর্কের টানাপড়েনের
ভীষণ তেজস্ক্রিয়ায় ঝলসে যাচ্ছে মানব হৃদয়
মরে যাচ্ছে জলজ, ফলবান বৃক্ষ
ধুসর হয়ে যাচ্ছে বিস্তীর্ণ সবুজ
লণ্ডভণ্ড আজ প্রকৃতির নিয়ম-কানুন
ভূমিকম্প, ভূমিধস, সুনামি-প্রলয়ঙ্করী জলোচ্ছ্বাস
টর্নেডো, বন্যা, খরতাপ, দাবদাহ
জলে-স্থলে যত বিপর্যয় আজ মানুষেরই ভুলে- মানুষেরই হাতের অর্জন
হে নবী বংশের সন্তান !
প্রকাশিত হোন
আপনার পদস্পর্শে পুনরায় সুশোভিত হোক পৃথিবীর বিশাল ভূ-ভাগ
ধরনীধন্য হোক আপনার পুনরাবির্ভাবে
আপনার আগমন ত্বরান্বিত হোক হে ইমাম
বর্ষিত হোক আপনার ওপর হাজার সালাম।

ইমাম মাহদী (আ.)-এর আগমনে ধরণী ধন্য হবে। তাঁর পদস্পর্শে সুশোভিত হবে আমাদের বসুন্ধরা। ইমাম সাদিক (আ.) বলেছেন : "আল কায়েমের যুগে প্রাচ্যে বসবাসরত মুমিন ব্যক্তি পাশ্চাত্যে অবস্থানকারী নিজ ভাইকে দেখতে পাবে এবং যে ব্যক্তি পাশ্চাত্যে আছে সেও প্রাচ্যে বসবাসরত তার ভাইকে দেখতে পাবে।"
ইমাম মাহ্দী (আ.)-এর সাথে সংশ্লিষ্ট রেওয়ায়েতসমূহ থেকে খুব ভালোভাবে বোঝা যায় যে, তিনি যে বিশ্ব ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠা করবেন তা হযরত সুলাইমান (আ.) ও বাদশাহ যূলকারনাইনের রাজত্ব অপেক্ষাও বিশাল।
রেওয়ায়েতসমূহের ভিত্তিতে ইমাম মাহ্দী (আ.)-এর হুকুমত সমগ্র বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত হবে। যার ফলে এমন কোন জনপদ থাকবে না যেখানে মহান আল্লাহর একত্ব এবং মহানবী (সা.)-এর রিসালাতের সাক্ষ্য দেয়া হবে না। আর পৃথিবীর বুকে এমন কোনো বিধ্বস্ত অঞ্চলও বিদ্যমান থাকবে না যার পুনর্গঠন ও আবাদ করা হবে না।
ইমাম মাহ্দী (আ.)-এর বিশ্বজনীন সরকার পৃথিবীর ধ্বংস হওয়া পর্যন্ত অব্যাহতভাবে চলতে থাকবে। আর তাঁর পর তাঁর সন্তান-সন্ততিগণ যাঁরা তাঁরই আদর্শ ও পথ নিরবচ্ছিন্নভাবে সংরক্ষণ ও অনুসরণ করবেন তাঁরাই শাসনকর্তৃত্ব পাবেন। আর তখন কতিপয় নবী এবং আহলে বাইতের কয়েকজন ইমাম পুনঃপ্রত্যাবর্তন করবেন এবং তাঁরা এ বিশ্বের পরিসমাপ্তিকাল পর্যন্ত রাজত্ব করবেন ও ইসলামী শাসনব্যবস্থা অব্যাহত রাখবেন। এ কারণেই আকাশ-বাতাসসহ গোটা পৃথিবীতে খুশির হিল্লোল বয়ে যাবে। কবি জাফর পাঠান তার নিজের লেখা 'আখেরি জামানার কাণ্ডারি' কবিতায় এ সম্পর্কে লিখেছেন:

খুশি, আকাশ- বাতাস- তাবৎ ভূমণ্ডল
যার আগমনে বইবে- আনন্দ হিন্দোল,
অশান্তিকে করবে- শান্তি মশালে উজ্জল
মানুষে- মানুষে- ভ্রাতৃত্ব বন্ধন প্রাঞ্জল।

তাঁর আগমনি বার্তা দেবে সিয়াম মাস
একই মাসে চন্দ্র-সূর্য- গ্রহণ উচ্ছ্বাস,
হবে চল্লিশ বছরে ‘নূরালোর' প্রকাশ
মেটাবেন- ভবের যত শান্তির পিয়াস।

গড়বেন- স্রষ্টার সাথে- সৃষ্টির সম্পর্ক
ভাঙবেন এজিদি বিশ্বাস- হয়ে সতর্ক,
ফাসেকদের লালিত লেলিহান ঐ ঘাঁটি
ভেঙে হবে চুরমার- রবে ঈমান খাঁটি।

ক্বালবি শিক্ষায় শিক্ষিত আধ্যাত্মিক জ্ঞানী
রাসূল নূরে- নূরান্বিত- তার মুখ খানি,
তাঁর নূরেতে ভেগে যাবে যত কৃষ্ণ-কালো
উঠবে জ্বলে রাসূলের দ্বীনি প্রভা আলো।

ইসলামের শত্রু আজ- উন্মত্ত- ঔদ্ধত্য
মোনাফেক মুসলিমরা- যত নত, তত,
অধির আগ্রহে অপেক্ষমান- সত্যবাদী
কখন এসে ধরবে হাল- ‘ইমাম মাহদী'।

ইমাম মাহদী (আ.) আবির্ভূত হয়ে পৃথিবীর নেতৃত্ব গ্রহণ করুক- এটা প্রতিটি শান্তিকামী মানুষের প্রত্যাশা।#


আপনার মন্তব্য প্রেরণ করুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ফিল্ডসমূহ * এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে

*

Arba'een
Mourining of Imam Hossein
پیام رهبر انقلاب به مسلمانان جهان به مناسبت حج 1440 / 2019
We are All Zakzaky
conference-abu-talib