?>

ফিলিস্তিন বিষয়ে মুসলিম দেশগুলোর পার্লামেন্ট প্রতিনিধিদের বৈঠক

ফিলিস্তিন বিষয়ে মুসলিম দেশগুলোর পার্লামেন্ট প্রতিনিধিদের বৈঠক

ইরানের সংসদ মজলিশে শুরায়ে ইসলামির উদ্যোগে আজ ফিলিস্তিন ও বায়তুল মোকাদ্দাসের প্রতি সমর্থন জানিয়ে মুসলিম দেশগুলোর সংসদের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির কারণে অনলাইনে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): আজকের এ ভার্চুয়াল সম্মেলনে ইরানসহ তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইয়েমেন, পাকিস্তান, আলজেরিয়া, আফগানিস্তান, কাতার, তিউনিসিয়া, লেবানন, বলিভিয়া, ভেনিজুয়েলা, ইরাক, সিরিয়া, ফিলিস্তিন ও দক্ষিণ আফ্রিকার সংসদের প্রধান ও সংসদ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, কয়েকটি দিক থেকে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে এ ধরনের বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, মুসলিম দেশগুলোর জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে সেসব দেশের সংসদ সদস্যরা মুসলিম বিশ্বের প্রধান সমস্যা ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে আলোচনায় বসেছেন। দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে এ ইস্যুটি ফের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্থাপনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এমন সময়ই এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হল যখন মধ্যপ্রাচ্যসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগে দখলদার ইসরাইল নতুন করে অপরাধী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন সমর্থন নিয়ে দখলদার ইসরাইল 'ডিল অফ দা সেঞ্চুরি' নামক ষড়যন্ত্রমূলক পরিকল্পনার আওতায় এ অঞ্চলের আরব দেশগুলোকে ভেঙে টুকরো টুকরো করে সমগ্র অঞ্চলের উপর তাদের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে।

জাতিসংঘের একাধিক প্রস্তাবে বায়তুল মোকাদ্দাসকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারের প্রতি সমর্থন জানানো হলেও আমেরিকার সমর্থন নিয়ে ইহুদিবাদী ইসরাইল আন্তর্জাতিক এসব প্রস্তাবের কোনো তোয়াক্কা করছে না। এমনকি তারা নিজেদেরকে আইনের ঊর্ধ্বে মনে করছে। তারা এ অঞ্চলের জাতিগুলোর উপর জুলুম নির্যাতন অব্যাহত রেখেছে, যুদ্ধ চাপিয়ে দিচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার উপর নিজেদের অন্যায় আবদার চাপিয়ে দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সিদ্ধান্ত বা প্রস্তাবকে তারা উপেক্ষা করছে। এ কারণে ইসরাইল সারা বিশ্বের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য বিরাট হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক সমাজের উচিত ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলি জুলুম-নির্যাতন ও জবর দখলের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া।

ইরানের রাজনৈতিক বিশ্লেষক আব্দুল আমির রুহিয়ে এ ব্যাপারে বলেছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, সুদানের মত আরব দেশগুলোর নেতারা দখলদার ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করায় ফিলিস্তিন সংকট আরো জটিল হয়ে পড়ল। কেননা এতে করে ফিলিস্তিনি জনগণের সংগ্রাম আরো কঠিন হবে। মার্কিন সরকারের প্রচেষ্টায় ইসরাইলের সঙ্গে আরব দেশগুলোর সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার কারণে ইসরাইল এ অঞ্চলে তাদের সম্প্রসারণকারী লক্ষ্য বাস্তবায়নে আরো বেশি বেপরোয়া হয়ে পড়বে এবং ফিলিস্তিনের জনগণের অধিকারকে পদদলিত করার সাহস পাবে।

মুসলিম দেশগুলোর সংসদ প্রতিনিধিদের এই সম্মেলনের তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যসহ সারাবিশ্বে ইসরাইলি অপরাধযজ্ঞের পরিণতি এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি সবার দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে। বাস্তবতা হচ্ছে অবৈধভাবে প্রতিষ্ঠিত ইহুদিবাদী ইসরাইলের ভবিষ্যত অনিশ্চিত। অন্যদিকে তাদের প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের পতনের আলামত লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং এই অঞ্চল থেকে বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের সময় হয়ে এসেছে। তাই এতে কোন সন্দেহ নেই যে ফিলিস্তিন ও বাইতুল মুকাদ্দাস আবারো মুক্ত হবে এবং বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ফিলিস্তিনিরা আবারো নিজের দেশে ফিরে আসতে সক্ষম হবে।#

342/


আপনার মন্তব্য প্রেরণ করুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ফিল্ডসমূহ * এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে

*

پیام رهبر انقلاب به مسلمانان جهان به مناسبت حج 1441 / 2020
conference-abu-talib
We are All Zakzaky