?>

বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যার্তদের দুর্ভোগ চরমে: সিলেটে ২২ জনের প্রাণহানি

বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যার্তদের দুর্ভোগ চরমে: সিলেটে ২২ জনের প্রাণহানি

বাংলাদেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সব নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় এসব অঞ্চলে বন্যার বিস্তৃতি বাড়ছে। অন্যদিকে সিলেটসহ বিভিন্ন স্থানে বন্যার্তদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): উজানে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে সিলেট অঞ্চল গত কয়েকদিন ধরেই বন্যা কবলিত। ভারতের আসাম ও মেঘালয়ে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টির পর বন্যার কবলে পড়ে বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চল। এরই মধ্যে ব্রহ্মপুত্রে পানি বাড়ার মধ্যে সোমবার রংপুর সীমান্তের ওপারে শিলিগুড়িতে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টির খবর এসেছে।

বাংলাদেশের বন্যা পুনর্বাসন ও সতর্কতা কেন্দ্র আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা, গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকাসহ দেশের সব নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। 

ইতোমধ্যে ব্রহ্মপুত্র নদী পানি উন্নয়ন বোর্ডের চারটি পয়েন্টেই বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। যমুনা নদীও পাঁচটি পয়েন্টে রয়েছে বিপদসীমার উপরে। কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধায় ধরলা, ঘাঘট নদীও বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে।

আগামী ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার উপরে চলে যেতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এর ফলে  রংপুর অঞ্চলে আরও নতুন এলাকা প্লাবিত হতে পারে।

লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, জামালপুর, টাঙ্গাইল জেলায় বন্যার অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুন) সকালে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। যমুনার পানি কাজিপুর পয়েন্টে এখন ৫৪ সেন্টিমিটার ও সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ৪৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

যমুনায় পানি বাড়ায় জেলার কাজীপুর, চৌহালী, এনায়েতপুর ও শাহজাদপুরের চরাঞ্চলে দেখা দিয়েছে তীব্র নদী ভাঙন। ভাঙন এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জ, সিলেট, নেত্রকোনায় বন্যা পরিস্থিতি থাকলেও হবিগঞ্জে পরিস্থিতি অবনতি হতে পারে। যার অর্থ ওই এলাকায়ও বন্যা কবলিত এলাকা বাড়বে। সুরমা-কুশিয়ারা এখনও বিপদসীমার উপর দিয়েই বইছে।

ভারতের ত্রিপুরায় ভারী বর্ষণে কুমিল্লায় গোমতী নদীও বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। সেখানে নদী তীরের অনেক এলাকা ডুবেছে। মুহুরী নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ  বাঁধ ভেঙে ফেনীতে তলিয়েছে নতুন এলাকা।

ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নুর নবী জানান, সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত একদিনে মুহুরী নদীতে ১২৩ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। মুহুরী রেগুলেটরে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ২ দশমিক ৭ সেন্টিমিটার হলেও বর্তমানে সেই প্রবাহ ৩ দশমিক ৯ সেন্টিমিটারে ঠেকেছে। পানির প্রবাহ ৪ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার হলে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, “সোমবার সারাদিনে মুহুরী নদীর ১২২ কিলোমিটার বাঁধের চারটি স্থান ভেঙে ফুলগাজী ও পরশুরামের কয়েকটি গ্রামে পানি প্রবেশ করায় বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দুই উপজেলা যাতে বন্যার কবলে না পড়ে সেই বিবেচনায় অতিরিক্ত পানি সরে যেতে রেগুলেটরের সব গেট খুলে দেওয়া হয়েছে।”

তা ছাড়া। পার্বত্য চট্টগ্রামের নদীগুলোর পানিও বাড়তে পারে বলে আভাস মিলেছে। অতি বৃষ্টির সঙ্গে জোয়ারে চট্টগ্রাম নগরীতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

 বন্যা-বজ্রপাতে সিলেটে ২২ জনের প্রাণহানি

ওদিকে, বন্যার পানিতে ডুবে, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে, বজ্রপাত ও টিলাধসে এক সপ্তাহে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে অন্তত ২০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। প্রকৃতপক্ষে এই সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। তবে, দুই জেলায় মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় সব তথ্য পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।#

342/


আপনার মন্তব্য প্রেরণ করুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ফিল্ডসমূহ * এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে

*