রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করলেন জাতিসংঘ মহাসচিব

রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করলেন জাতিসংঘ মহাসচিব

রোহিঙ্গা সঙ্কট প্রসঙ্গে কথা বলতে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শনিবার রাতে ফোন করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম জানান, রাত সাড়ে নয়টার দিকে প্রধানমন্ত্রীকে টেলিফোন করেন জাতিসংঘ মহাসচিব।

তিনি জানান, এ সময় দুজনের মধ্যে প্রায় ২০ মিনিট আলোচনা হয়। এ সময় রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের প্রতি একাত্মতা পুনর্ব্যক্ত প্রকাশ করেন জাতিসংঘ মহাসচিব। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও অন্যান্য সেবা দেয়ায় বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

এ সময় শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘‘জোরপূর্বক বাস্তু-চ্যুত রোহিঙ্গারা যাতে শান্তিপূর্ণভাবে তাদের নিজ ভূমিতে  ফিরে যেতে পারে তার  উপায় বের করতে ইতোমধ্যেই মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ শুরু করেছে বাংলাদেশ।’

গুতেরেসকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আপনি খুব ভালোভাবে জানেন যে, সমস্যার মূল মিয়ানমারে এবং সেখানেই এই সংকটের সমাধান পাওয়া যাবে।”

এদিকে, রাখাইনে রোহিঙ্গা নির্যাতন তদন্তে বাংলাদেশ সফরে এসে পৌঁছেছে জাতিসংঘের নিরপেক্ষ ফ্যাক্টফাইন্ডিং টিম। তিন সদস্যের এ প্রতিনিধিদল আগামীকাল সোমবার থেকে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, ফ্যাক্টফাইন্ডিং টিমের সদস্য মারজুকি দারুসমান ও শ্রীলঙ্কার রাধিকা কুমরাস্বামী গতকাল শনিবার ঢাকায় পৌঁছেছেন। অন্য সদস্য অস্ট্রেলিয়ার ক্রিস্টোফার ডমিনিক সিডোটি আজ রোববার ঢাকায় পৌঁছান। কাল থেকে প্রতিনিধি দলটি মাঠপর্যায়ে কাজ করবে। এরপর সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলবে। জেনেভায় ফিরে প্রতিনিধি দলটি একটি প্রতিবেদন জমা দেবে।

গত বছরের অক্টোবরে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ব্যাপক নিধনযজ্ঞের পর এ বছরের মার্চে জাতিসংঘের নিরপেক্ষ  ফ্যাক্টফাইন্ডিং টিমটি গঠন করা হয়েছিল। জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে সিদ্ধান্ত হয়েছিল,  ফ্যাক্টফাইন্ডিং টিমটি মিয়ানমার গিয়ে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর ব্যাপকহারে হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের ব্যাপারে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযোগের তদন্ত করবে। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে বেশ কয়েকবার অনুরোধ জানানোর পরও দলটিকে মিয়ানমার সে দেশে ঢুকতে দেয়নি। এই পরিস্থিতিতে এ বছরের ২৫শে আগস্টের পর রাখাইনে নতুন করে আবার দমন অভিযান শুরু হয়। ফলে এবার দলটিকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া শরণার্থীদের কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর (ওএইচসিএইচআর)।

অপরদিকে, বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন এর প্রধান (সিইও), ডেনমার্কের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন পার্লামেন্টের মেম্বার মিস হ্যালে থরনিং-স্মিথ বলেছেন, রোহিঙ্গা সমস্যা একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা এবং এর সমাধান আন্তর্জাতিক ভাবে হওয়া প্রয়োজন।

মিস হ্যালে থরনিং-স্মিথ ১৯ অক্টোবর তিন দিনের সফরে বাংলাদেশ আসেন এবং বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শিশু, তাদের বর্তমান অবস্থা, কক্সবাজারে সেভ দ্য চিলড্রেন এর কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। সফরের শেষ দিন কক্সবাজারে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন।

মিস হ্যালে থরনিং-স্মিথ বলেন, এই রোহিঙ্গা শিশুরা সীমান্তের অপরপাশে যে ভয়াবহ সহিংসতা দেখে এসেছে তা কোন শিশুরই দেখা কাম্য নয়। শিশু সুরক্ষা সম্পর্কে দৃঢ় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ক্ষুধা ও সহিংসতা থেকে পালিয়ে আসা মানুষের ভিড়ে অসংখ্য শিশু পরিবার হতে বিচ্ছিন্ন একাকী। বেশিরভাগ শিশুই এখনও মানসিকভাবে বিভীষিকা কাটিয়ে উঠতে পারেনি।
..............
300


আপনার মন্তব্য প্রেরণ করুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ফিল্ডসমূহ * এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে

*

Arba'een
Mourining of Imam Hossein
پیام رهبر انقلاب به مسلمانان جهان به مناسبت حج 1440 / 2019
We are All Zakzaky
conference-abu-talib