?>

বালাকোটে সাংবাদিকদের পাকিস্তান যা দেখাল

বালাকোটে সাংবাদিকদের পাকিস্তান যা দেখাল

সাংবাদিকেরা দেখেন, বালাকোটের বিশাল মাদ্রাসা ভবনটি পুরোপুরি অক্ষত। এই মাদ্রাসা জঙ্গি ক্যাম্প—ভারতের এমন দাবি অস্বীকার করে আসছে পাকিস্তান।

আবনা ডেস্ক: পাকিস্তানের বালাকোট পরিদর্শন করেছেন বিদেশি সাংবাদিক ও কূটনীতিকেরা। গতকাল বুধবার পুরোপুরি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে তাঁদের ওই ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগে কেবল আল–জাজিরার সংবাদকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। অবশ্য পুরো এলাকা পরিদর্শন করতে পারেননি তাঁরা।
বালাকোট পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের জাব্বা এলাকায়। এটি রাজধানী ইসলামাবাদ থেকে ১০০ কিলোমিটার উত্তরে। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি এই অঞ্চলে বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করে ভারত। ভারত জানায়, পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণরেখায় (লাইন অব কন্ট্রোল) বালাকোটে জইশ-ই-মুহাম্মদসহ তিনটি জঙ্গি স্থাপনা তারা গুঁড়িয়ে দিয়েছে। নিহত হয়েছে বহু। পাকিস্তানের পাল্টা দাবি, ওই এলাকায় ভারতীয় বিমানবাহিনীর অভিযানে বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির ঘটনাই ঘটেনি। ওই এলাকায় বিদেশি সাংবাদিকদের ঢুকতে দেয়নি পাকিস্তান। বিভিন্ন স্যাটেলাইট ছবির মাধ্যমে ঘটনার সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করেন সাংবাদিকেরা।
ঘটনার দেড় মাস পর গতকাল বিকেলে বালাকোটের ইসলামিক স্কুল পরিদর্শনে বিদেশি গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে গেল পাকিস্তান সেনাবাহিনী। সাংবাদিকেরা দেখেন, বালাকোটের বিশাল মাদ্রাসা ভবনটি পুরোপুরি অক্ষত। এই মাদ্রাসা জঙ্গি ক্যাম্প—ভারতের এমন দাবি অস্বীকার করে আসছে পাকিস্তান।
বালাকোটে মাঝারি আকারের একটি গর্ত দেখতে পান সাংবাদিকেরা। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়, ভারতীয় বিমানবাহিনীর বোমার আঘাতে ওই গর্তের সৃষ্টি।
বিবিসির প্রতিবেদক ওসমান জাহিদ এক প্রতিবেদনে বলেন, বোমার আঘাতে একটি বাড়ির আংশিক ভেঙে যায় এবং একজন আহত হন। দুই পরিদর্শক কিছু গাছ পড়ে থাকতে দেখেন। সাংবাদিক ও কূটনীতিকদের পাহাড়ের ওপর অবস্থিত একটি মাদ্রাসায় নেওয়া হয়। প্রায় আড়াই হাজার ছাত্রের সংকুলান আছে ওই মাদ্রাসায়। তবে ওই সময় দর্শনার্থীরা শ দুয়েক ছাত্র দেখতে পান। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল আসিফ গফুর জোর দিয়ে বলেন, বিমান হামলায় এই মাদ্রাসার কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ দাবি করেছিল, এই মাদ্রাসাটিই জঙ্গি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। এটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদক ওই মাদ্রাসার একজন ছাত্র ও শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলেন, তাঁরা নিজেদের স্থানীয় বলে পরিচয় দেন। তাঁরা জানান, ওই ঘটনার পর থেকে মাদ্রাসা বন্ধ রয়েছে।
গণমাধ্যমকর্মীরা যখন সাক্ষাৎকার নিচ্ছিলেন, তাঁদের কথোপকথন সংক্ষিপ্ত করতে বলা হয়। এটি পরিষ্কার যে পুরো ভ্রমণটি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রিত ছিল।
দুই দেশের সর্বশেষ সংকটের শুরু ১৪ ফেব্রুয়ারি। ওই দিন ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পুলওয়ামায় দেশটির আধা সামরিক সিআরপিএফের গাড়িবহরে আত্মঘাতী হামলায় ৪০ জনের বেশি জওয়ান নিহত হন। পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মুহাম্মদ এ হামলার দায় স্বীকার করে। এ ঘটনার ১২ দিন পর ২৬ ফেব্রুয়ারি ভোরে পাকিস্তাননিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বালাকোটে বিমান হামলা চালায় ভারত। ওই ঘটনার পর আল–জাজিরার সংবাদকর্মীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সেখানে তাঁরা চারটি বোমা বিস্ফোরণের প্রমাণ পেয়েছেন। এর মধ্যে তিনটি বোমা পড়েছে বনের মধ্যে এবং একটি বোমা পড়েছে কৃষিজমিতে। এতে বেশ কিছু পাইনগাছ ধ্বংস হয়েছে। এ ছাড়া কিছু গাছে বোমার স্প্লিন্টার গেঁথে থাকতে দেখেন তাঁরা। এ ছাড়া সৃষ্টি হওয়া চারটি গর্তের আশপাশে বোমার ধ্বংসাবশেষও দেখেছেন তাঁরা। এতে কেউ নিহত হননি বলে স্থানীয় লোকজন আল–জাজিরার সাংবাদিকদের জানান। তবে সে সময় মাদ্রাসা ভবনটিতে যেতে পারেননি আল জাজিরার সাংবাদিকেরা।


আপনার মন্তব্য প্রেরণ করুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ফিল্ডসমূহ * এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে

*