?>
ভারতে মুসলিম গণহত্যা:

ভারতে ভয়াবহ মুসলিম গণহত্যাকে কীভাবে দেখছে ইরান?

ভারতে ভয়াবহ মুসলিম গণহত্যাকে কীভাবে দেখছে ইরান?

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিসহ দেশটির বিভিন্ন এলাকায় নিরীহ মুসলমানদের ওপর উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও বিজেপি সরকার রহস্যজনকভাবে নীরব রয়েছে। সম্প্রতি দিল্লিতে মুসলমানদের ওপর উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের পর এ পর্যন্ত ৫০ জন নিহত এবং শত শত মানুষ আহত হয়েছে।

(ABNA24.com) ভারতের মুসলমানদের অন্তত ১০টি মসজিদ ও অন্যান্য পবিত্র ধর্মীয় স্থাপনায় আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছে যা কিনা সাম্প্রতিক দিনগুলোতে উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের মানবতা বিরোধী ও ইসলাম বিদ্বেষী কর্মকাণ্ডের বড় দৃষ্টান্ত। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, ভারতের  পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী উগ্র হিন্দুদের তাণ্ডব শুধু চেয়ে দেখেছে এবং জ্বালাও পোড়াও ও মুসলিম গণহত্যারোধে তারা কোনো পদক্ষেপই নেয়নি। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুলিশ নিজেই মুসলমানদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত। গণমাধ্যমগুলোতে এ নিয়ে বহু ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।

ভারতের মুসলমানদের ওপর উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের পরিকল্পিত গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের ব্যাপারে বিজেপি সরকারের রহস্যজনক নীরবতা থেকে তাদের ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী চরিত্রের বিষয়টি ফুটে উঠেছে। বিশেষ করে সম্প্রতি ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের স্বায়ত্বশাসন কেড়ে নিয়ে কেন্দ্রিয় সরকার ওই এলাকাকে বেআইনিভাবে ভারতের সঙ্গে যুক্ত করার মধ্য দিয়ে তাদের মুসলিম বিদ্বেষের প্রমাণ দেয়া শুরু করেছে। যদিও তাদের ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষ নতুন কিছু নয় কিন্তু সাম্প্রতিককালে উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো অতিমাত্রায় উগ্র হয়ে উঠেছে।

এখন এ ধারণা করা হচ্ছে, মুসলমানদের বিরুদ্ধে উগ্র হিন্দুদের গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের মূল কারণ বিজেপি সরকারের ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী নীতি। দিল্লীতে সম্প্রতি ভয়াবহ মুসলিম গণহত্যার ঘটনা ২০০২ সালে সংঘটিত গুজরাটে মুসলিম গণহত্যার কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সে সময় গুজরাট রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। তখনও  তিনি গণহত্যা রোধে কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় হাজার হাজার মুসলমান নিহত হয়েছিল। মোদির বিরুদ্ধে ওই গণহত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠলেও এর কয়েক মাস পর আদালত তাকে নির্দোষ বলে ঘোষণা দিয়েছিল যা কিনা মুসলিম সমাজকে ক্ষুব্ধ করে তুলেছিল।

ভারতজুড়ে গত কয়েক দশক ধরে উগ্র হিন্দুদের হাতে মুসলিম বিরোধী হত্যাকাণ্ড ও ধ্বংসযজ্ঞ চলে আসছে। আর এ ক্ষেত্রে সব সরকারই সরাসরি উগ্র হিন্দুদেরকে সরাসরি সমর্থন দিয়ে এসেছে।  এ প্রসঙ্গে ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংস ও হাজার হাজার মুসলমানকে হত্যার কথা উল্লেখ করা যায়।

সম্প্রতি মুসলমানদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়ার জন্য সরকারের গৃহীত নানা আইনের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিবাদ বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর ভারতের বিভিন্ন স্থানে মুসলমানদের ওপর হত্যাকাণ্ড ঘটেই চলেছে। এসব অমানবিক ঘটনার ব্যাপারে ভারতের বিজেপি সরকার, পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর নীরবতা থেকে বোঝা যায় মুসলিম বিরোধী হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার প্রতি তাদের সমর্থন রয়েছে।

এরই মধ্যে বিশ্বের অনেক মুসলিম দেশ মুসলমানদের ওপর হত্যাকাণ্ড বন্ধ করার জন্য ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেছেন, "ভারতে মুসলমানদের হত্যা করার কারণে গোটা মুসলিম বিশ্বের হৃদয় আহত হয়েছে। উগ্র হিন্দু এবং উগ্র হিন্দুদের সমর্থনকারী দলগুলোর মোকাবেলায় ভারত সরকারকে রুখে দাঁড়াতে হবে এবং মুসলমান হত্যা বন্ধের মাধ্যমে মুসলিম বিশ্বে তাদের একঘরে হয়ে পড়া ঠেকাতে হবে।"

যাইহোক, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার হুশিয়ারি সত্বেও অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, ভারতের মোদি সরকার বিষয়টিকে খুব একটা আমলে নিচ্ছে না। এ অবস্থায় আগামীতে পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটতে পারে বলে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন।

............
340


আপনার মন্তব্য প্রেরণ করুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ফিল্ডসমূহ * এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে

*