?>

ভিয়েনা বৈঠকে মতপার্থক্য কমে আসার দাবির মধ্যেই ফের মার্কিন হুমকি

ভিয়েনা বৈঠকে মতপার্থক্য কমে আসার দাবির মধ্যেই ফের মার্কিন হুমকি

ইরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার বিষয়ে ভিয়েনার গ্র্যান্ড হোটেলে চলমান অষ্টম দফা আলোচনা গতকালও অব্যাহত ছিল। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধান পরমাণু আলোচক আলী বাকেরি কানি গতকাল শেষ বেলায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক উপ প্রধান ও পরমাণু সমঝোতা বিষয়ক যৌথ কমিশনের সমন্বয়কারী এনরিকা ম্যুরার সঙ্গে সাক্ষাত করেন। এ সময় জার্মানি, ফ্রান্স ও ব্রিটেনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা) : এদিকে, পরমাণু সমঝোতার সঙ্গে যুক্ত সব দেশের প্রতিনিধিরা আজো আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং ইরানের ব্যাংকিং, জ্বালানি ও আইন বিশেষজ্ঞরাও এ বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া সংক্রান্ত অষ্টম দফার এই বৈঠকে এই প্রথম ইরান ছাড়াও রাশিয়া, চীন, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির বিশেষজ্ঞরাও হাজির হয়েছেন। ভিয়েনায় উপস্থিত এসব দেশের কর্মকর্তারা চলমান আলোচনায় অগ্রগতির খবর দিয়ে বলেছেন, গত এক মাসে বিভিন্ন বিষয়ে বিরাজমান মতপার্থক্য অনেকটাই কমে এসেছে।

নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া সংক্রান্ত সংলাপের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে ইরানের শীর্ষ আলোচকরা জানিয়েছেন, মতপার্থক্য অনেকটাই কমে এসেছে। ভিয়েনা সংলাপে যোগদানকারী রুশ প্রতিনিধি মিখাইল উলিয়ানভও বলেছেন, সংলাপে ইতিবাচক পরিবেশ বিরাজ করছে এবং আমরা ধীরে ধীরে সমনের দিকে অগ্রসর হচ্ছি। ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ ইভ লুদ্রিয়া বলেছেন, গত কয়েক দিনের আলোচনায় বেশ খানিকটা অগ্রগতি হয়েছে এবং যদিও সময় দ্রুত শেষ হয়ে আসছে কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি স্বল্প সময়ের মধ্যেই একটি সমঝোতায় পৌঁছা সম্ভব।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সব পক্ষ আলোচনায় অগ্রগতির খবর দিলেও কিংবা ইতিবাচক পরিবেশের কথা জানালেও বাস্তবতা হচ্ছে এখনো চূড়ান্ত কোনো সমঝোতার খবর পাওয়া যায়নি এবং সব কিছু নির্ভর করছে মার্কিন সিদ্ধান্তের ওপর। ভিয়েনা বৈঠকে ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার পর নতুন করে আর কোনো নিষেধাজ্ঞা দেয়া হবে না এমন নিশ্চয়তা চায় তেহরান। কেননা সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেখিয়ে দিয়েছিলেন দ্বিপক্ষীয় কিংবা বহুপক্ষীয় আন্তর্জাতিক কোনো চুক্তি বা সমঝোতা রক্ষায় মার্কিন সরকার প্রতিশ্রুতি বদ্ধ নয়। এমনকি এখনো কোনো কোনো মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ভিয়েনায় সম্ভাব্য সমঝোতা থেকে পরবর্তী মার্কিন সরকারের বেরিয়ে যাওয়ারও হুমকি দিয়েছেন।

মার্কিন টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান দলের প্রতিনিধি টেড ক্রুজ দাবি করেছেন, ইরানকে কোনো বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দেয়ার কোনো ধরনের এখতিয়ার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নেই। ইরানের সঙ্গে যে সমঝোতাই হোক না কেন তাতে সিনেটের সমর্থন লাগবে। এসব বিষয়ে তোয়াক্কা না করে বর্তমান বাইডেন প্রশাসন যদি ইরানের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় যায় তাহলেও আমেরিকার পরবর্তী রিপাবলিকান দলের যে প্রেসিডেন্টই ক্ষমতায় আসুক না কেন তিনি ওই সমঝোতা ছিঁড়ে ফেলবেন।

যাইহোক এ কারণে অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার আলোকে আবারো আমেরিকা পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাবে না এমন নিশ্চয়তা চায় ইরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেন আমির আব্দুল্লাহিয়ান বলেছেন, তার দেশ অত্যন্ত শক্ত অবস্থানে থেকে আলোচনা চালিয়ে যাবে এবং আমাদের প্রস্তাব ও স্বচ্ছ অবস্থান সবার কাছে তুলে ধরা হয়েছে। তাই আমাদের প্রতিপক্ষ পাশ্চাত্যকেই এখন সৎ মনোভাব ও আন্তরিকতা দেখাতে হবে।#    

342/


আপনার মন্তব্য প্রেরণ করুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ফিল্ডসমূহ * এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে

*