?>

মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকার কথা অস্বীকার করেছে পাকিস্তান সরকার

মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকার কথা অস্বীকার করেছে পাকিস্তান সরকার

পাকিস্তান সরকার সে দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকার কথা অস্বীকার করেছে এবং বলেছে এ ব্যাপারে যেসব কথাবার্তা ও খবরা খবর শোনা যাচ্ছে তা দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচায়ক।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা) : পাকিস্তান ও মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের বৈঠকের একই সময়ে পাক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জাহেদ হাফিজ চৌধুরী এক বিবৃতিতে সে দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের জন্য ইসলামাবাদের সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রকাশিত খবরকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি আরো বলেছেন, সে দেশে আমেরিকার সামরিক কিংবা বিমান বাহিনীর কোনো ঘাটি নেই এবং এ ধরনের কোনো প্রস্তাবও ইসলামাবাদ পায়নি। পাক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, কেবল সন্দেহের ভিত্তিতে এ ধরনের গুঞ্জন একেবারেই ভিত্তিহীন এবং দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয়। তাই এ থেকে সবারই বিরত থাকা উচিত।

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী উপজাতি অধ্যুষিত শালুজান ও তেরমিনাল এলাকায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের কাজ চলছে বলে কয়েকটি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হওয়ার পর পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এই প্রতিক্রিয়া জানানো হলো। অবশ্য চলতি বছর সেপ্টেম্বর নাগাদ আফগানিস্তান থেকে সব সেনা প্রত্যাহারের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ঘোষণা দেয়ার পর বিকল্প হিসেবে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে আমেরিকার সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের ব্যাপারে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। মার্কিন কোনো কোনো রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তারা সম্প্রতি পাকিস্তানের নাম উল্লেখ না করে বলেছিলেন আফগানিস্তানের ওপর নজরদারি অব্যাহত রাখার জন্য মার্কিন সেনাদের একটি অংশ আফগানিস্তানের আশেপাশে কয়েকটি ঘাঁটিতে মোতায়েন রাখা হবে। যদিও মার্কিন কর্মকর্তারা আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের পর এইসব সেনাদের একটি অংশ কোথায় মোতায়েন রাখা হবে সে ব্যাপারে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিভিন্ন খবরে জানা গেছে পাকিস্তানই এক্ষেত্রে আমেরিকার টার্গেট।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন পাকিস্তানে মার্কিন সেনা মোতায়েনের ব্যাপারে সেদেশের রাজনৈতিক দলগুলো ও জনগণের মধ্যে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া ও স্পর্শকাতরতা লক্ষ্য করা গেছে। এ কারণে এ সংক্রান্ত খবর প্রকাশের সাথে সাথে পাকিস্তান সরকার এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে মার্কিন ঘাঁটি স্থাপনের খবরকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। এর আগে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণার পর তাদেরকে কোথায় মোতায়েন রাখা হবে সে ব্যাপারে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন এ ব্যাপারে যেসব কথাবার্তা শোনা যাচ্ছে তা কেবলই গুঞ্জন এবং ইসলামাবাদ সে দেশে মার্কিন ঘাঁটি স্থাপনের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।

বাস্তবতা হচ্ছে, প্রায় নয় বছর আগে মার্কিন সরকার তাদের সর্বশেষ সামরিক ঘাঁটি পাকিস্তানের হাতে হস্তান্তর করতে বাধ্য হয়েছিল যা ছিল পাকিস্তানের জনগণের দীর্ঘ প্রত্যাশার ফল। এ অবস্থায় আবারও পাকিস্তানে মার্কিন ঘাঁটি নির্মাণের খবরে সেদেশের জনমনে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে তালেবানসহ অন্যান্য উগ্রগোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা বৃদ্ধিতে ওই অঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হওয়ায় মার্কিন সেনা উপস্থিতিকে ভালো চোখে দেখছে না সে দেশের জনগণ।

তবে পাকিস্তান সরকার যতই অস্বীকার করুক না কেন জেনেভায় পাক-মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সাম্প্রতিক বৈঠকের পর সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের ব্যাপারে ইসলামাবাদের উপর হোয়াইট হাউজের চাপ বৃদ্ধির ব্যাপারে জনমনে উদ্বেগ বেড়েছে।#

342/


আপনার মন্তব্য প্রেরণ করুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ফিল্ডসমূহ * এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে

*