?>
সংবাদ সম্মেলনে মাজমা’র মহাসচিব:

মুসলমানরাই বেশিরভাগ সহিংসতার শিকার / জনসেবার জবাবে কি যাকযাকি এমন জুলুমের শিকার?

নাইজেরিয়ার ইসলামি মুভমেন্টের নেতা’র শারীরীক অবস্থার সম্পর্কে আহলে বাইত (আ.) বিশ্বসংস্থার মহাসচিব জানিয়েছেন: চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে শেইখ যাকযাকি’র অবস্থা এখনও সংকটাপূর্ণ। ২০১৫ সালে হামলার ঘটনায় তার শরীরে গুলিবিদ্ধ হওয়ার স্থানগুলোর ক্ষত এখনো সেরে ওঠেনি। তিনি এক চোখের দৃষ্টি হারিয়েছেন। পাশাপাশি ব্লাড পয়জনিংসহ বিভিন্ন সমস্যার কারণে জরুরী ভিত্তিতে তাকে উন্নত চিকিৎসা সেবা প্রদান প্রয়োজন।

হলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): নাইজেরিয়ার জারিয়া অঞ্চলে ইমাম হুসাইন (আ.) এর আজাদারীররত নিরীহ মুসলমানদের উপর নৃশংস হামলার ৪র্থ বর্ষপূর্তী এবং দেশটির ইসলামি মুভমেন্টের নেতা ও আহলে বাইত (আ.) বিশ্বসংস্থার নাইজেরিয় সদস্য হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন শাইখ ‘ইব্রাহিম যাকযাকি’র শারীরীক অবস্থার অবনতির বিষয়ে আহলে বাইত (আ.) বিশ্বসংস্থার মহাসচিবের উপস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আহলে বাইত (আ.) বিশ্বসংস্থা (মাজমা)-এর মহাসচিব ‘আয়াতুল্লাহ রেজা রামাজানি’ এ সম্মেলনে শাইখ যাকযাকিকে অবৈধভাবে কারারুদ্ধ করা, শাইখ, তার পরিবার এবং তার সমর্থকদের বিষয়ে বারংবার মানবাধিকার লংঘনের বিষয়ে কথা বলেছেন। এ ঘটনায় মানবাধিকার রক্ষার দাবীদার আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের প্রতি আহবান জানিয়েছেন তিনি।


সম্মেলনে আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনা’র পরিচালক হুজ্জাতুল ইসলাম সৈয়দ আরেফ হুসাইন হুসাইনি উপস্থিত মিডিয়া কর্মীদেরকে স্বাগত জানিয়ে নাইজেরিয়ার জারিয়া অঞ্চলে ঐ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে শাইখ যাকযাকি’র বাসভবন সংলগ্ন বাকিয়াতুল্লাহ ইমামবাড়ি (হুসাইনিয়াহ)’তে চালানো ঐ অমানবিক হামলায় বহু লোক প্রাণ হারায় এবং নিখোঁজ হয় আরও অনেকে। আর ঐ সময় থেকে শাইখ যাকযাকিকে সস্ত্রীক অবৈধভাবে আটক করে রাখা হয়েছে।
হুজ্জাতুল ইসলাম হুসাইনি আরেফ বলেন: এর এক বছর আগে ২০১৪ সালে, জারিয়া অঞ্চলে আয়োজিত বিশ্ব কুদস দিবসের শিয়া মুসলিমদের অংশগ্রহণে আয়োজিত র্যা লীতেও বর্বর হামলা চালানো হয়। দুঃখজনকভাবে এ দুই হামলায় শাইখ যাকযাকি’র ৬ সন্তান শহীদ হন।

আহলে বাইত (আ.) বিশ্বসংস্থার জনসংযোগ বিষয়ক বিভাগের প্রধান উক্ত সম্মেলন আয়োজনের উদ্দেশ্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন: ঐ মর্মান্তিক হামলার চতুর্থ বর্ষপূর্তী, শাইখ যাকযাকিকে মানবেতর অবস্থায় আটকে রাখা, অবৈধভাবে তাকে গৃহবন্দী করে রাখার পর তাকে কারাগারে স্থানান্তরিত করাসহ অন্যান্য বিষয়ে আলোকপাত করতে আহলে বাইত (আ.) বিশ্বসংস্থার মহাসচিব আয়াতুল্লাহ রামাজানি’র উপস্থিতিতে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি তার বক্তব্যের পর উপস্থিতদের প্রশ্নের উত্তর দেবেন।


আহলে বাইত (আ.) বিশ্বসংস্থার মহাসচিবের বক্তব্য
বক্তব্যের শুরুতে আয়াতুল্লাহ রামাজানি উপস্থিত সাংবাদিকদেরকে স্বাগত জানিয়ে বলেন: আহলে বাইত (আ.) বিশ্বসংস্থা যৌক্তিকতা, আধ্যাত্মিকতা, ন্যায়পরায়নতা ও প্রতিরোধ –এই ৪ মূলনীতির উপর ভিত্তি করে প্রকৃত ইসলামের শিক্ষা বিশ্বের দরবারে ছড়িয়ে দিতে চায়।
আয়াতুল্লাহ রামাজানি ন্যায়পরায়নতা ও প্রতিরোধ ২ মূলনীতির কথা উল্লেখ করে বলেন: কেউ কেউ ইসলামকে পরম দয়ার ধর্ম হিসেবে পরিচয় করিয়ে থাকেন। সুনিশ্চিতভাবে ইসলাম ধর্মের মূল শিঁকড় দয়া ও রহমতের দিকে প্রত্যাবর্তন করে। স্বয়ং মহানবিও (স.) সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য রহমত স্বরূপ। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, অপশক্তিগুলোর বিপরীতে কোন অবস্থান তাঁর থাকবে না। বরং অপশক্তিগুলোর বিপরীতে অবস্থান গ্রহণ বুদ্ধিবৃত্তি সমর্থিত একটি বিষয়, এছাড়া ইসলাম ধর্মেও এর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
তিনি মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের প্রতি গুরুত্বারোপ করে বলেন: আহলে বাইত (আ.) এর মাজহাবকে বিশ্বব্যাপী সর্বোত্তম পন্থায় এবং আন্তর্জাতিক মহলে প্রচলিত সাহিত্য ও ভাষার মাধ্যমে পরিচয় করাতে হবে। অতএব, আহলে বাইত (আ.) বিশ্বসংস্থার দৃষ্টিভঙ্গী কোন জাতি বা গোষ্ঠীর মাঝে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর দৃষ্টিভঙ্গী বৈশ্বিক ও আন্তর্জাতিক।
ইউরোপের শিয়া উলামা ইউনিয়নের প্রধান বলেন: কাউকে মুসলমান বানিয়ে অন্যদেরকে উস্কে দেয়া আমাদের উদ্দেশ্য নয়, বরং আমরা ইসলাম ধর্মকে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও গভীরভাবে পরিচিত করাতে চাই। এরপর যার যেটা মন চাইবে সে সেটা বেছে নেবে।
এমন দু’টি নাম যা দ্বারা ইসলাম ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে
আয়াতুল্লাহ রামাজানি বলেন: বর্তমানে ‘লিবারাল ইসলাম’ ও ‘উগ্রতাবাদি ইসলাম’ নামক দু’টি দৃষ্টিভঙ্গী ইসলাম ধর্ম ও ইসলামি সমাজকে হুমকির মুখে ফেলেছে। কেননা লিবারাল ইসলামের কারণ শরিয়ত এবং ব্যক্তিগত ও সামাজিক ধর্মীয় হুকুম-আহকাম থেকে মুসলমানদের দূরত্ব বাড়ে; এর ফলে উগ্রতাবাদী ইসলাম সহিংসতার প্রসার এবং অনৈসলামি ও অধর্মীয় ভাষা-সাহিত্যের ব্যবহারের কারণ হয়।


‘ইউরোপের যুবকদের প্রতি মহামান্য রাহবারের চিঠি’, ইসলামের নামে যে উগ্রতাবাদী কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে তা নিষ্ক্রিয় হওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন: ইসলামের বিষয়ে জানতে আগ্রহী ইউরোপের যুবকদের উচিত জায়নবাদ মদতপুষ্ট মিডিয়া থেকে দূরে সরে ইসলামকে অধ্যায়ন করা। আর যদি তারা চায় ইসলামের বিষয়ে মন্তব্য করতে তবে তাদেরকে অবশ্যই কুরআন ও সুন্নতকে অধ্যয়নপূর্বক মতামত ব্যক্ত করা উচিত।
মুসলমানরাই বেশিরভাগ সহিংসতার শিকার
আয়াতুল্লাহ রামাজানি এরপর তার বক্তব্যের মূল অংশে ২০১৪ ও ২০১৫ সালে নাইজেরিয়ার মুসলমানদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে বলেন: বিগত দুই দশক ধরে বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদ ও অপশক্তিগুলোর চক্রান্তমূলক নীতির বলি হয়েছে মুসলমানরা; এ ২ দশকে সহিংসতায় সর্বাধিক কুরবানি দিয়েছে মুসলমানরাই। ভয়-ভীতি ও ত্রাস সৃষ্টি -চাই তা মুসলমানদের বিষয়ে হোক অথবা অমুসলিমদের বিষয়ে- বিশ্বের যেখানেই হোক না কেন তা নিন্দনীয় এবং অগ্রহণযোগ্য।
যাকযাকি ছিলেন শান্তিপ্রিয়, আইনের অনুগত ও সংশোধক
মাজমা’র মহাসচিব বলেন: সর্বদা শাইখ যাকযাকির অবস্থান ছিল শান্তিপূর্ণ ও সন্ধি কেন্দ্রীক। তিনি সবসময়ে মুসলিম মাজহাবসমূহের মধ্যকার ঐক্য কামনা করতেন এবং ইসলামি ফের্কাহগুলোর মধ্যকার দ্বন্দের ঘোর বিরোধী ছিলেন।
তিনি বলেন: শাইখ যাকযাকি’র অবস্থান ছিল পারস্পারিক সহনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সংলাপের পক্ষে এবং প্রতিদ্বন্দিতার লক্ষ্যে বিরোধিতার বিরুদ্ধে। আর সামাজিক তৎপরতার ক্ষেত্রে তিনি আইনের অনুগত ছিলেন এবং নাইজেরিয়ার সংবিধানের তিনি কখনো বিরোধী ছিলেন না এবং বিরোধী নন।
তার সংযোজন: তার এ সকল অনন্য বৈশিষ্ট্যের প্রতি দৃষ্টি রেখে বলা যায়, তিনি যে মুভমেন্টকে ফলো করেছেন তার মূল লক্ষ্য ছিল সংশোধন; যা সমাজের বিভিন্ন সমস্যা নিরসনে চেষ্টা করে। শাইখ যাকযাকি’র তত্ত্বাবধানে যে সকল সংস্থার কার্যক্রম অব্যাহত ছিল তার সবটাই এতিম ও দুস্থদের সাহায্য এবং সমাজের জন্য হুমকি এমন সব বিষয় নিরসনে তৎপর ছিল। অতএব, এ সকল উৎকৃষ্ট গুণাবলী, শান্তিপূর্ণ তৎপরতা এবং সেবামূলক কর্মকাণ্ডের কারণে মুসলিম ও অমুসলিম নির্বিশেষে বহু মানুষ তার সমর্থন করেন।
মানবাধিকারের পতাকাধারীদের গড়িমসি
আয়াতুল্লাহ রামাজানি বলেন: দেশের প্রচলিত আইন মেনে শাইখ যাকযাকির সেবামূলক কর্মকাণ্ডের জবাবে তার উপর যে হামলা চালানো হয়েছে তা অগ্রহণযোগ্য। আশ্চর্যের বিষয় হল, এ ঘটনা এমন এক সময় ঘটেছে ও ঘটছে যখন জাতিসংঘ মানিবাধিকার রক্ষাকে আসমানী গ্রন্থের শিক্ষার পাশাপাশি বলে গণ্য করছে। এতদসত্ত্বেও জাতিসংঘ শাইখ যাকযাকির মত ব্যক্তিত্বের অধিকারের বেলায় নিষ্ক্রিয় এবং নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। কিন্তু কেন? এ প্রশ্নের উত্তর আমরা খুঁজছি।
তিনি বলেন: শাইখ যাকযাকি ২০১৪ ও ২০১৫ সালের হামলার ঘটনায় নিজের ৬ সন্তান ও বোনকে হারিয়েছেন, সাথে হারিয়েছেন শত শত সমর্থককে। পাশাপাশি আহত অবস্থায় সস্ত্রীক আটক হয়েছেন এবং বর্তমানে অবৈধভাবে তাকে কারাগারে রাখা হয়েছে।
আয়াতুল্লাহ রামাজানী মুক্ত বিবেকগুলোর উদ্দেশ্যে এ প্রশ্ন রাখলেন যে, সংশোধন ও সেবা ছাড়া যাকযাকি কি এমন অন্যায় করছিলেন যে, তার ৬ সন্তানকে হত্যা করা হল এবং তাকেও এমন নির্মম জুলুমের শিকার হতে হল? মানবাধিকারের পতাকাধারী হওয়ার দাবীদ্বার দেশ ও সংস্থাগুলো এখন কোথায়?!
নাইজেরিয়ার ইসলামি মুভমেন্টের নেতার শারীরীক অবস্থার বিষয়ে তিনি বলেন: শেইখ যাকযাকি’র অবস্থা এখনও সংকটাপূর্ণ বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। ২০১৫ সালে হামলার ঘটনায় তার গুলিবিদ্ধ হওয়ার স্থানগুলোর ক্ষত এখনো সেরে ওঠেনি। তিনি একটি চোখের দৃষ্টি হারিয়েছেন। পাশাপাশি ব্লাড পয়জনিংসহ অন্যান্য সমস্যার কারণে জরুরী ভিত্তিতে তার উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন।


তিনি বলেন: নাইজেরিয়া সরকারের উচিত বিষয়টিকে নিরাপত্তাজনিত বিষয়ের তালিকায় না ফেলে যতদ্রুত সম্ভব সমাজ সংশোধক এ নেতার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। আর যে সকল সংস্থা মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সচেষ্ট তাদের উচিত শাইখের উন্নত চিকিৎসার ক্ষেত্র তৈরী করা। আর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে শাইখ যাকযাকির চিকিৎসা শুরু করার বিষয়টি নূন্যতম চাওয়া।
এ মানুষটিই মানবাধিকার প্রাপ্তির দাবীদারদের তালিকার শীর্ষে
আয়াতুল্লাহ রামাজানি বলেন: আমরা ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের অবস্থান থেকে নয় বরং একজন মানুষ হিসেবে এবং মানবিক মূল্যবোধের দৃষ্টিকোন থেকে বলতে চাই, শাইখ যাকযাকিকে তার মানবিক অধিকার দিতে হবে। আর তাই বিশ্বে যে সকল সংস্থা মানবাধিকার অঙ্গনে তৎপর তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, মানবাধিকারের দাবীদারদের তালিকার শীর্ষ রয়েছেন এ ব্যক্তি।
প্রশ্নোত্তর
ইরান প্রেস: যারিয়া হত্যাকাণ্ড ও শাইখ যাকযাকিকে সস্ত্রীক আটকের ৪টি বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও তিনি এবং তার সমর্থকরা নাইজেরিয়া সরকারের চাপের মুখে রয়েছে। এ বিষয়ে মুসলিম সরকারগুলো কি ভূমিকা রাখতে পারে?


আয়াতুল্লাহ রামাজানী: ইসলামি দেশসমূহ বিভিন্ন উপায়ে শাইখ যাকযাকির মুক্তির জন্য চেষ্টা চালাতে পারে। এক. ওআইসি’র মাধ্যমে; আন্তর্জাতিক ইসলামি এ সংস্থা পারে নাইজেরিয়া সরকারকে শাইখ যাকযাকির মানবিক অধিকারের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিতে। ২. স্বয়ং মুসলিম সরকারগুলোর উচিত শাইখ যাকযাকি’র সুস্থ্যতার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে নাইজেরিয়া সরকারের প্রতি দাবী জানানো। ৩. গণমুখী সংস্থাসমূহ শাইখ যাকযাকি’র উন্নত চিকিৎসা শুরু না করা পর্যন্ত একযোগে তার প্রতি সমর্থনের ঘোষণা দিতে পারে।
অবশ্য, নাইজেরিয়া প্রশাসনের অভ্যন্তরে তৎপর কিছু অপশক্তির দোসরদের বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে। যারা শাইখ যাকযাকি’র চিকিৎসাকে রাজনৈতিক খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
মেহের নিউজ: শাইখ যাকযাকি’র সুস্থ্যতার জন্য আহলে বাইত (আ.) বিশ্বসংস্থা এ পর্যন্ত কি পদক্ষেপ নিয়েছে?
আয়াতুল্লাহ রামাজানী: আহলে বাইত (আ.) বিশ্বসংস্থা একটি বেসরকারি সংস্থা। আহলে বাইত (আ.) এর ভক্তবৃন্দ ও মুসলিম বিশ্বের প্রায় ৭০০ ব্যক্তিত্ব এ সংস্থার সাধারণ পরিষদের সদস্য। শাইখ যাকযাকি তাদেরই একজন।
আহলে বাইত (আ.) বিশ্বসংস্থার পক্ষ থেকে যে সকল পদক্ষেপ শাইখ যাকযাকি ও নাইজেরিয়ার নিপীড়িত মানুষগুলোর জন্য গৃহীত হয়েছে:
-শাইখ যাকযাকি ও বিভিন্ন হামলায় শাহাদাতপ্রাপ্তদের মজলুমিয়্যাতের কথা বিশ্বের ২৫টি ভাষায় বিভিন্ন মাধ্যমে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরা হয়েছে।
-নিজ নিজ দেশ থেকে বৈধভাবে উল্লিখিত বিষয়ে প্রতিবাদ জানানোর লক্ষ্যে আহলে বাইত (আ.) বিশ্বসংস্থার সদস্যদের মাঝে সমন্বয় সৃষ্টি করা হয়েছে।
-সাধ্যের মধ্যে যে কোন প্রকার মানবিক পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থানরত শিয়া মুসলিম ও মাজমা’র সাথে যোগাযোগ রক্ষাকারীদের প্রতি আহবান।
-২০১৪ সালে শাইখ যাকযাকির সমর্থকদের উপর হামলার ঘটনার পর শাইখ ও শহীদ পরিবারের সদস্যদেরকে সান্ত্বনা প্রদানের লক্ষ্যে আহলে বাইত (আ.) বিশ্বসংস্থার তৎকালীন মহাসচিবের নাইজেরিয়া সফর।
-শাইখ যাকযাকিসহ হামলায় ক্ষতিগ্রস্থ অপর ব্যক্তিদের সমস্যা দূর করার লক্ষ্যে নাইজেরিয়ার রাষ্ট্রপতি এবং দেশটির ওলামা ও শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্বদের উদ্দেশ্যে পত্র প্রেরণ।
-ইরান ও ইরানের বাইরে শাইখ যাকযাকি ও যারিয়ার শহীদদের উপর বিভিন্ন সম্মেলনের আয়োজন; যার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্থদের সমস্যা নিরসনের দাবী তোলা হয়েছে।
-ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্বের বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা বরাবর চিঠি প্রেরণ।
ইত্যাদি ছিল আহলে বাইত (আ.) বিশ্বসংস্থার এ বিষয়ক কার্যক্রমের কিছু অংশ।
ইরানি সরকারি টিভি ও রেডিও চ্যানেলের প্রতিনিধি: শাইখ যাকযাকিকে বিভিন্নভাবে হেনস্ত ও নির্যাতনের পাশাপাশি তার চিকিৎসকদেরকে মারধরের ঘটনা প্রকাশিত হয়েছে। শাইখের বর্তমান শারীরীক অবস্থা কেমন? তিনি জীবিত আছেন তো?!
আয়াতুল্লাহ রামাজানী: শাইখ যাকযাকি’র চিকিৎসকদেরকে মারধরের বিষয়টি আমার জানা নেই; কিন্তু গতরাতে আমি যে তথ্য পেয়েছি তার ভিত্তিতে আল-হামদু লিল্লাহ তিনি বেঁচে আছেন। অবশ্য চিকিৎসকরা আশংকা প্রকাশ করেছেন কারণ তার অবস্থা সংকটাপূর্ণ। যতদ্রুত সম্ভব তার উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। দুঃখজনকভাবে এখনো সে অনুমতি দেয়া হয় নি যে, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তার চিকিৎসা শুরু করবেন।


ইরনা প্রতিনিধি: শাইখ যাকযাকির মত আহলে বাইত (আ.) বিশ্বসংস্থার অন্য কোন সদস্য কি সাম্রাজ্যবাদী সরকারগুলোর দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছে?
আয়াতুল্লাহ রামাজানী: জ্বী, বাহরাইনের শীর্ষস্থানীয় শিয়া আলেম আয়াতুল্লাহ শাইখ ঈসা কাসেম, কুয়েতের বিশিষ্ট আলেম শাইখ হুসাইন মা’তুক, কোমোরোসে’র সাবেক রাষ্ট্রপতি ‘সৈয়দ আহমাদ সামবু’ সাম্রাজ্যবাদী সরকারগুলোর নির্যাতনের শিকার। আহলে বাইত (আ.) বিশ্বসংস্থা তাদের সমর্থনে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
হাওযা প্রতিনিধি: ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান সরকার ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শাইখ যাকযাকির বিষয়ে কি পদক্ষেপ নিয়েছে?
আয়াতুল্লাহ রামাজানী: প্রশ্নটি স্বয়ং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদেরকে জিজ্ঞেস করা উচিত। কিন্তু আমার কাছে যে তথ্য আছে তার ভিত্তিতে, বিগত কয়েক মাসে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মন্ত্রণালয়, নাইজেরিয়া সরকারের সাথে যোগাযোগ করেছে, যার ভিত্তিতে শাইখ যাকযাকির চিকিৎসাজনিত সমস্যা নিরসনে তার সফরের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
ফারস প্রতিনিধি: বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত মুসলিম ব্যক্তিত্বদের সুরক্ষায় –বিশেষ করে তাকফিরি চিন্তাধারা যে সকল দেশে সোচ্চার- আহলে বাইত (আ.) বিশ্বসংস্থা কি কোন পদক্ষেপ নিয়েছে?
আয়াতুল্লাহ রামাজানী: তাকফিরি মুভমেন্ট বিশ্বের বলদর্পী শক্তিগুলোর নির্দেশনা ও ব্যবস্থাপনায় তৎপরতা চালায়। এর বিপরীতে আমাদের উচিত জনগণকে সচেতন করা। যাতে প্রকৃত ইসলাম ধর্মকে সঠিকরূপে উপস্থাপন করা সম্ভব হয় এবং মুসলিম উম্মাহ’র ঐক্যের প্রতি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায়। এ বিষয় কেন্দ্রীক বিভিন্ন কার্যক্রম ইরানের অভ্যন্তর ও বাইরে ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। যদি মুসলিম সমাজগুলোর রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্বদের সমন্বয় ও ঐক্য তৈরী হয় তবে নিঃসন্দেহে অপশক্তির প্রবেশের পথরোধ হবে; কিন্তু অপশক্তিগুলোর গোপন পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার ফলে এটা ঘটবে না। অনেক দেশের সাথে আমাদের রাজনৈতিক সম্পর্ক নেই। কিন্তু মুসলমানদেরকে সচেতন করার লক্ষ্যে আমরা সাধ্যমত চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। আমরা আশাবাদী যে, আগামীতে এ বিষয়ে আরও বেশী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সক্ষম হব। স্বাভাবিকভাবে, আহলে বাইত (আ.) বিশ্বসংস্থা এ ধরনের সকল ঘটনার বিষয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারে না। কিন্তু বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসরত আহলে বাইত (আ.) এর অনুসারীদেরকে এ বিষয়টি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে থাকে।#


আপনার মন্তব্য প্রেরণ করুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ফিল্ডসমূহ * এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে

*