?>

রাখাইনে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নতুন যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ

রাখাইনে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নতুন যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ

২০১৭ সালে রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে অভিযানের সময় মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছিল মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে।

আবনা ডেস্কঃ রাখাইন রাজ্যে নতুন করে ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর অধিবাসীদের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধাপরাধ সংঘটন’ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে।
নতুন এক প্রতিবেদনে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে, ভিন্ন জাতির বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী গেরিলা বাহিনীর সদস্যরা সেনাবাহিনীর হাতে ঢালাওভাবে গ্রেপ্তার হওয়ার পাশাপাশি বিচার বহির্ভূত হত্যা এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
সেনাবাহিনী তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
২০১৭ সালে রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে অভিযানের সময় মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছিল মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে।
এ বছর ওই এলাকায় নতুন করে অভিযান শুরু করে মিয়ানমার সেরাবাহিনী।
আরাকান আর্মি বিদ্রোহীদের ‘নিশ্চিহ্ন’ করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশনা আসার পর ঐ অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।
মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলের রাজ্যটিতে বেশ কয়েকটি ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করে,যাদের মধ্যে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী রাখাইনরা সংখ্যাগরিষ্ঠ।
বুধবার প্রকাশ হওয়া অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে বলা হয় যে সেনাবাহিনীর ‘ঢালাওভাবে চালানো হামলায়’ বেসামরিক নাগরিকরাও নিহত হয়েছে।
পূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অ্যামনেস্টির আঞ্চলিক পরিচালক নিকোলাস বেকেলিন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের সঙ্গে হওয়া সহিংসতায় পুরো পৃথিবীর মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করলেও, ওই ঘটনার দুই বছর না পেরোতেই নতুন করে ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ওপর রাখাইন রাজ্যে আবারও ভয়াবহ অত্যাচার চালাচ্ছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী।’
হামলার শিকার হওয়া এলাকার মানুষের সাথে কথা বলে এবং নানারকম ছবি, ভিডিও এবং স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবি যাচাই করে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে অ্যামনেস্টি।
রিপোর্টে অন্তত ৭টি আক্রমণের তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরা হয়, যেগুলোতে অন্তত ১৪ জন বেসামরিক ব্যক্তি মারা গেছে এবং অন্তত ২৯ জন আহত হয়েছে।
এ ছাড়া নির্যাতন, গুম এবং গণগ্রেফতারের বিস্তারিত বর্ণনা তুলে ধরা হয় ওই প্রতিবেদনে।
মিয়ানমারের সেনারা গতমাসে ৬ জন বেসামরিক ব্যক্তিকে হত্যার কথা স্বীকার করেছিল।
তাদের দাবি ছিল, ওই বেসামরিক নাগরিকরা তাদের বন্দুক ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছিল। সে জন্য তারা তাদের হত্যা করতে বাধ্য হয়।
তবে তাদের বিরুদ্ধে অ্যামনেস্টির আনা সাম্প্রতিক অভিযোগ অৈস্বীকার করেছেন মিয়ানমার আর্মির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাও মিন তুন।
সংবাদ সংস্থা এএফপিকে তিনি বলেছেন, সেনাবাহিনী আইন অনুযায়ী অভিযান চালিয়েছে এবং ‘বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষতি করা থেকে বিরত থেকেছে। এই অভিযানটি ছিল সন্ত্রাসবাদীদের নির্মূল করা। কোনো ধরনের যুদ্ধাপরাধ যেন না সংঘটিত হয় সেবিষয়ে আমরা সতর্ক ছিলাম।’
শুধু বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষতি করাই নয়, সেনাবাহিনী তাদের নির্যাতন করেছে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে- এমন অভিযোগও এনেছে অ্যামনেস্টি।
সেনাবাহিনী এবং বিদ্রোহকারীদের মধ্যে হওয়া সাম্প্রতিক সংঘাতে ৩০ হাজারেরও বেশি বেসামরিক বৌদ্ধ নাগরিক গৃহহীন হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
খবর বিবিসি


আপনার মন্তব্য প্রেরণ করুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ফিল্ডসমূহ * এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে

*