?>

শত কোটি টাকার মালিক চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী! ফোনে আড়ি আতঙ্ক, পেগাসাসের রিপোর্টে বাংলাদেশও!

সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা: ২০ জুলাই মঙ্গলবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা) : বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ খবরের শিরোনাম:

  • করোনার সংক্রমণ-কম বয়সীদের মৃত্যু বাড়ছে-প্রথম আলো
  • জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে পুলিশ -ইত্তেফাক
  • ৫০,০০০ ফোনে আড়ি, হিম আতঙ্ক-পেগাসাস রিপোর্টে বাংলাদেশও আছে-মানবজমিন
  • ১৯ দিনের টানা ছুটির ফাঁদে দেশ! -কালের কণ্ঠ
  • ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ২৫ কিলোমিটার যানজট -যুগান্তর
  • শত কোটি টাকার মালিক চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী! -বাংলাদেশ প্রতিদিন

এবার ভারতের কয়েকটি খবরের শিরোনাম:

  • মাধ্যমিকে ১০০ শতাংশ পাস-আনন্দবাজার
  • ক্রোনোলজি বুঝুন’, পেগাসাস প্রজেক্ট নিয়ে বিস্ফোরক দাবি অমিত শাহ’র -সংবাদ প্রতিদিন
  • পেগাসাস কাণ্ড: রাহুল, প্রশান্ত কিশোর, অভিষেকের মোবাইলেও আড়ি, বাদ যাননি তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী-আজকাল

এবার বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিস্তারিত:

করোনার সংক্রমণ-কম বয়সীদের মৃত্যু বাড়ছে-প্রথম আলো

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণে অপেক্ষাকৃত কম বয়সীদের মৃত্যু বাড়ছে। গত জুন মাস থেকে এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। দেশে ১ জুন থেকে ১৯ জুলাই (গতকাল সোমবার) পর্যন্ত ৩৯ দিনে যত মানুষের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের ২৩ দশমিক ৮১ শতাংশের বয়স ২১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। এর আগের দেড় মাসের হিসাবে এটি ছিল ১৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের শুরু থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও বেশি বয়সী, বিশেষ করে ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তিদের মৃত্যু বেশি হচ্ছে। এখনো ওই বয়সীদের মৃত্যু বেশি। তবে ক্রমে কম বয়সী মানুষের মৃত্যু বেড়ে চলেছে।হঠাৎ কেন অপেক্ষাকৃত কম বয়সীদের মৃত্যু বাড়ছে, তা নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো গবেষণা পাওয়া যায়নি। করোনায় মৃত্যু নিয়ে খুব বেশি বিশ্লেষণও সরকারি পর্যায়ে হয়নি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঠিক করা মানদণ্ড অনুযায়ী কোনো দেশে পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার টানা অন্তত দুই সপ্তাহের বেশি সময় পাঁচ শতাংশের নিচে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে ধরা যায়। সে হিসাবে বাংলাদেশ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ থেকে এখনো অনেক দূরে।আজহা উপলক্ষে আয়োজিত পশুর হাটগুলোতে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ভিড় করছেন। ঈদ সামনে রেখে গ্রামের পথে ছুটছে হাজার হাজার মানুষ। সব মিলিয়ে জনস্বাস্থ্যবিদেরা আশঙ্কা করছেন, ঈদের পর সংক্রমণ পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

জনস্বাস্থ্যবিদ আবু জামিল ফয়সাল বলেন, এখন সংক্রমণ বেশি ছড়াচ্ছে ডেলটা ভেরিয়েন্ট। এতে শিশু ও তরুণেরা আগের চেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। ডেলটা ভেরিয়েন্টের কারণে মৃত্যুও বাড়ছে।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ২৫ কিলোমিটার যানজট-যুগান্তর/ইত্তেফাক

মহাসড়কে অতিরিক্ত যানবাহন ও ঘরমুখো মানুষের চাপে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিহাতী এলেঙ্গা থেকে টাঙ্গাইলের করোটিয়া পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার অংশে কোথাও কোথাও যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ধীরগতিতে চলাচল করছে পরিবহনগুলো।আজ মঙ্গলবার (২০ জুলাই) ভোর থেকে টাঙ্গাইলের করোটিয়া পর্যন্ত এলাকাজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়।এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে যাত্রী ও চালকরা। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের ভোগান্তি অনেক বেশি হচ্ছে। এছাড়াও গরু নিয়ে উত্তরাঞ্চল থেকে ঢাকা অভিমুখে যাত্রা করা ব্যবসায়ীরা পড়েছেন চরম বেকায়দায়। সড়কেই কেটে যাচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। সড়ক-মহাসড়কে তীব্র যানজট, সীমাহীন দুর্ভোগে ঘরমুখো মানুষ

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে পুলিশ-ইত্তেফাক

করোনা মহামারিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে আছে দেশের পুলিশ বাহিনী। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শান্ত রাখার পাশাপাশি মানবিক কাজও করছেন পুলিশ সদস্যরা। নিজেরা সংক্রমিত হওয়ার ভয়, পরিবার-পরিজনের পিছুটান উপেক্ষা করে মানুষের জন্য কাজ করে চলেছেন পুলিশ সদস্যরা।

প্রথম দিকে কোনো কোনো স্থানে করোনায় মারা যাওয়া ব্যক্তির লাশ গ্রহণ তো দূরে থাক জানাজা পড়ানোর জন্যও পরিবারের কেউ ছিল না। সেখানে সম্মুখ সারির যোদ্ধা পুলিশের সদস্যরা জানাজা পড়েছেন, কবর খুঁড়েছেন এবং দাফন করেছেন।দেশের বিভিন্ন স্থানে করোনায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে অন্য কারণে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের লাশও এলাকাবাসী বাধা দেন দাফন করতে। পুলিশ সেখানেও মৃত ব্যক্তির পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এছাড়া অসহায় মানুষগুলোর মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ, অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া, রক্ত দেওয়া, প্রয়োজনীয় ওষুধ বিনা মূল্যে প্রদান, করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির পরিবার ও প্রতিবেশীর সুরক্ষায় কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করার কাজও করছে পুলিশ। মানবিকতার হাত বাড়িয়ে এ ধরনের কাজ করায় পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা দেশের মানুষের প্রশংসাও কুড়িয়েছেন। করোনা ভয়ংকর ছোঁয়াচে ভাইরাস জেনেও দায়িত্ববোধ, সেবাব্রত আর মানবিকতাবোধ তাদের কর্মস্থলে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সংক্রমণের শিকার হয়েছেন; অনেকে মারাও গেছেন। এ পর্যন্ত করোনায় মারা গেছেন পুলিশের ১০২ জন সদস্য। করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২৩ হাজার ৩৪০ জন পুলিশ সদস্য। তবু করোনা মহামারিতে সেবা প্রদানে অনড় পুলিশ। ভাঙেনি তাদের মনোবল।

৫০,০০০ ফোনে আড়ি, হিম আতঙ্ক-পেগাসাস রিপোর্টে বাংলাদেশও আছে-মানবজমিন

বিশ্বজুড়ে নতুন আতঙ্ক-পেগাসাসকাণ্ড। এতে আছে বাংলাদেশের নাম। ইসরাইলের এনএসও গ্রুপের তৈরি ফোনে আড়ি পাতা বিষয়ক প্রযুক্তি পেগাসাস। বিশ্বে ভয়াবহ রকম মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে এমন সব দেশ বা সেখানে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিভাগগুলো ব্যবহার করছে এই প্রযুক্তি। বেশকিছু দেশে তা ব্যবহার করা হচ্ছে বা হয়েছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এমন ইঙ্গিতও মিলেছে। ফলে অপরাধ তদন্তের বৈধ একটি হাতিয়ার এই প্রযুক্তি, এমন দাবি করলেও এর ব্যবহার নিয়ে ব্যাপক সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে। কানাডার অনলাইন সিটিজেন ল্যাব তার পেগাসাস কেলেঙ্কারি বিষয়ক ‘হাইড অ্যান্ড সিক’ শীর্ষক ৪০ পৃষ্ঠার রিপোর্টে এসব কথা লিখেছে। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধান, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, কূটনীতিক, রাজনীতিক, সাংবাদিক, অধিকারকর্মীর ব্যবহার করা ৫০ হাজার ফোন নম্বরের গোপন তথ্য চুরি করা হয়েছে।

কি পরিমাণ মানুষ এর শিকারে পরিণত হয়েছেন, তার প্রকৃত সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কেউ কেউ বলছেন, এ সংখ্যা অনেক বেশি। অনলাইন বিবিসি ও গার্ডিয়ান বলেছে, কর্তৃত্ববাদী ও বিশ্বের সবচেয়ে নিষ্পেষণমূলক কিছু শাসকগোষ্ঠী ইসরাইলে তৈরি পেগাসাস স্পাইওয়্যার ব্যবহার করেছে তার সমালোচক, বিরোধী পক্ষের বিরুদ্ধে। এ খবরে রীতিমতো তুলকালাম কাণ্ড সৃষ্টি হয়েছে বিশ্বজুড়ে। কোথায় কোন রাজনীতিক ফেঁসে যাচ্ছেন, কোন প্রধানমন্ত্রীর গোপন কথোপকথন এর মধ্য দিয়ে ফাঁস হয়ে যাচ্ছে তা নিয়ে শিরদাঁড়া বেয়ে নামছে হিম আতঙ্ক। তবে পেগাসাসের প্রস্তুতকারী ইসরাইলের এনএসও গ্রুপ কোনো অন্যায় করেনি বলে দাবি করেছে। তারা বার বার বলেছে, তাদের আবিষ্কৃত পেগাসাস শুধু সন্ত্রাসী ও ভয়াবহ অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য। কিন্তু সরকারগুলো তা ব্যবহার করছে এর বাইরে নিজেদের উদ্দেশ্যে। এনএসও স্বীকার করুক বা না করুক এরই মধ্যে পেগাসাসের মাধ্যমে ফোন ব্যবহারকারীর ফোনকল, কন্ট্রাক্ট লিস্ট, টেক্সট মেসেজ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আড়ি পাতা হয়েছে।

কানাডার সিটিজেন ল্যাব লিখেছে, ৪৫টি দেশে তারা ৩৬টি পেগাসাস অপারেটরের মধ্যে ৩৩টির সঙ্গে সন্দেহজনক ‘পেগাসাস ইনফেকশন’ সনাক্ত করতে পেরেছে। এসব দেশের মধ্যে আছে বাংলাদেশও।এশিয়ায় ৫টি এমন অপারেটর শনাক্ত করতে পেরেছে সিটিজেন ল্যাব। এগুলো হলো গ্যাংস, চ্যাঙ, মারলিয়ন, তুলপার ও সিরদারিয়া। বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের জুন থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বাংলাদেশ, ব্রাজিল, হংকং, ভারত ও পাকিস্তানে আড়ি পাতার কাজ করছে গ্যাংস নামের অপারেটর। এক্ষেত্রে রাজনীতিকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। রিপোর্টের ৩৮ নম্বর পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, অপারেটর গ্যাংসয়ের সন্দেহজনক সংক্রমণের স্থান হলো বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল), সারা দেশ। চ্যাং নামের অপারেটর থাইল্যান্ডে চোখ রেখেছে ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে। কাজাখস্তানে ২০১৭ থেকে এখন পর্যন্ত সক্রিয় অপারেটর তুলপার। কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, তুরস্কে সক্রিয় ২০১৬ থেকে এখন পর্যন্ত সিরদারিয়া নামের অপারেটর।

এর আগে প্রকাশ হয়েছিল পানামা পেপারস। তাতে কুপোকাত হয়েছেন আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সিগমুন্দুর ডেভিড গানল্যাংসন পদত্যাগ করেন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ অযোগ্য ঘোষিত হয়ে প্রধানমন্ত্রিত্ব হারান। এবারও কি তেমন ঘটনার অবতারণা ঘটবে বিশ্বের কোথাও, তা নিয়ে চলছে জল্পনা।পেগাসাস ব্যবহার করে এই হ্যাকিং বা নাগরিকদের তথ্য চুরির বিষয় তদন্ত করছে প্যারিসভিত্তিক এনজিও ফরবিডেন স্টোরিস, মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, গার্ডিয়ান, লা মন্ডেসহ ১৪টি বিভিন্ন সংবাদভিত্তিক সংগঠন। তাদের এ প্রজেক্টের নাম দেয়া হয়েছে পেগাসাস প্রজেক্ট।

বিবিসি লিখেছে, ইসরাইলে তৈরি এই স্পর্শকাতর প্রযুক্তি ব্যবহার করে আড়ি পাতার অভিযোগ নতুন নয়। কিন্তু এবার যে পরিমাণ নিরপরাধ মানুষকে টার্গেট করা হয়েছে, সেই সংখ্যাটা নতুন। ২১টি দেশের প্রায় ২০০ সাংবাদিকের ফোন নম্বর রয়েছে ওই তালিকায়। সরকারি উচ্চ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেন এমন অনেক নাম সামনের দিনগুলোতে প্রকাশ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এই তালিকা বা অভিযোগ নিয়ে অনেক প্রশ্নের কোনো সমাধান হয়নি। এর মধ্যে এসব তালিকা কোথা থেকে এসেছে, স্পাইওয়্যার পেগাসাস দিয়ে আসলে কতো বেশি ফোন নম্বরকে টার্গেট করা হয়েছিল। এনএসও গ্রুপ আরও একবার তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা বলেছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ মানে তাদের কোম্পানির প্রতি আঘাত। সর্বশেষ এসব অভিযোগ তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করবে। আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে কোম্পানি। 

দৈনিক যুগান্তরের খবর-কুরবানির মর্মার্থ অনুধাবন করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে রাষ্ট্রপতির আহ্বান জানিয়েছেন।    ঈদুল আজহার মর্মবাণী অন্তরে ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীও। তবে প্রথম আলোর মতামত কলমে লেখা হয়েছে,গরু ও গফুরের দুঃখ এবারও গেল না। অর্থাৎ কৃষক গরুর  ন্যায্যমূল্য পাবে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

কোরবানির চামড়া নিয়েও মস্ত সংকট। যুগান্তর লিখেছে,চামড়া খাতে খেলাপি ঋণ ৪ হাজার কোটি টাকা।রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংক থেকে এ খাতে বিতরণ করা পুরোনো ঋণ ৫ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ বিতরণকৃত ঋণের প্রায় পাঁচ ভাগের চার ভাগই খেলাপি হয়ে পড়েছে। বাকি ১ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকার ঋণ নিয়মিত রয়েছে। এদিকে চলতি বছর কুরবানির চামড়া ক্রয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংক ঋণ দেবে প্রায় ৩৯০ কোটি টাকা। এসবের মাধেও দেখা গেছে কোরবানির চামড়ার মূল্য নেই। দেখা গেছে রাস্তায় চামড়া ফেলে রেখে চলে গেছেন বিক্রেতা। তারমধ্যে করোনা মহামারি তো আছেই। বিদেশ থেকে ফিরে যাওয়া বহু মানুষ বেকার। আবার বিদেশে থাকা মানুষগুলো ১৫ দিনে ১০ হাজার ৭০০ কোটি টাকা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। দেশের ভেতরের বিভিন্ন সেক্টরের বহু মানুষ বেকার। দিন এনে দিন খাওয়া মানুষের কাজ নেই।এসব মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।তবেই কোরবানির ইদ সার্থক হবে।

শত কোটি টাকার মালিক চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী!-বাংলাদেশ প্রতিদিন

বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের ‘অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর’ ছিলেন মো. আবদুল মালেক (৪২)। বিভিন্ন সময় দুর্নীতি করার অপরাধে ২০১৫ সালে চাকরিচ্যুত হন। প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষায় চিপস ব্যবহার, বিভিন্ন কোটার জন্য নকল সার্টিফিকেট তৈরি করে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে এরই মধ্যে বনে গেছেন শত কোটি টাকার মালিক। 

সম্প্রতি প্রতারণার শিকার একাধিক ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে রবিবার দিবাগত রাতে রাজধানীর তেজগাঁও থানাধীন মনিপুরীপাড়া এলাকা থেকে মো. আবদুল মালেককে গ্রেফতার করে র‌্যাব-৪। এ সময় তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত জাল সনদপত্র ও বিভিন্ন নথিপত্র।

গতকাল দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়ে র‌্যাব-৪-এর অধিনায়ক মোজাম্মেল হক বলেন, প্রতারক এই চক্রের মূলহোতা মো. আবদুল মালেক। এই চক্রের পলাতক আরও তিন সদস্য আবদুর রাজ্জাক (৫০), আল-আমিন (২৫) ও অবিনাষ (৩২) মিলে সরকারি চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা করে আসছিল। আমরা চক্রের বাকি তিন সদস্যকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছি। র‌্যাব বলছে, মালেক প্রতারণার মাধ্যমে অনেক সম্পত্তি ও টাকার মালিক হয়েছেন। তার নামে বিভিন্ন ব্যাংকে একাধিক অ্যাকাউন্টে ৫০ লাখ টাকার বেশি এফডিআর রয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা জেলার ধামরাই থানাধীন ফোর্ডনগর এলাকায় ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ জমি রয়েছে। রাজধানীর মনিপুরী এবং ৬০ ফিট এলাকায় তার তিনটি ফ্ল্যাট রয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য ১ কোটি টাকা। কুষ্টিয়া সদর থানাধীন বড়িয়া এলাকায় জাহান সুপার মার্কেট ছাড়াও নিজ গ্রামে ২৫ বিঘা জমি এবং একটি পাকা বাড়ি রয়েছে। কুষ্টিয়ায় তার জাহান গ্রুপ নামে একটি কনজুমার প্রোডাক্ট কারখানা রয়েছে। কুষ্টিয়া এক্সপ্রেস নামে একটি বাস ও চারটি ট্রাক রয়েছে তার। 

প্রতারক মালেকের উত্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৯৭৯ সালে কুষ্টিয়ায় জন্ম নেওয়া মালেক ১৯৯৩ সালে দাখিল এবং ১৯৯৫ সালে আলিম পাস করেন। এরপর স্থানীয় একটি কলেজ থেকে বিকম এবং এমকম ডিগ্রি পড়েন। ২০০৪ সালে তিনি বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর খামারবাড়ী, ফার্মগেটে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে চাকরি শুরু করেন। এরপর থেকে চাকুরি প্রার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিতে থাকেন। একপর্যায়ে ২০১০ সালে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের সত্যতা পেলে ২০১৫ সালে তাকে চাকরিচ্যুত করে। 

প্রতারণার কৌশল সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রথমে সে নিজ এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এজেন্ট নিয়োগ করে চাকরিপ্রার্থীদের সংগ্রহের কাজ শুরু করেন। তারপর সরকারি চাকরি প্রার্থীদের প্রলোভন দেখানোর জন্য ২০১৬ সালে ‘এমভিশন’ নামে একটি কোচিং সেন্টার চালু করেন। সেখানে চাকরি প্রার্থীদের মধ্যে থেকে বিভিন্ন পর্যায়ের কোটা (জেলা কোটা, প্রতিবন্ধী কোটা, মুক্তিযোদ্ধা কোটা, এতিম কোটা, আনসার কোটা) শ্রেণিকরণ করত। সেই তালিকা অনুযায়ী প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করত। স্ট্যাম্পে চুক্তির মাধ্যমে টাকা অথবা জমির দলিল জমা রাখার শর্তে চাকরি প্রার্থীদের সঙ্গে তিনি চুক্তিবদ্ধ হন। চুক্তি শেষে বিভিন্ন মাধ্যম যেমন-লিখিত পরীক্ষায় প্রার্থীর ছবি পরিবর্তন/প্রশ্নফাঁস/প্রার্থীকে ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে পাস করানো হতো। এরপর নাগরিক সনদপত্র পরিবর্তন, জন্মসনদ পরিবর্তন, চারিত্রিক সনদপত্র, এতিমখানার সনদপত্র, প্রতিবন্ধী সনদপত্র, চেয়ারম্যান প্রত্যয়নপত্র পরিবর্তনসহ যে সব জেলায় অধিক সংখ্যক জনবল নিয়োগে উল্লেখ থাকে জাতীয় পরিচয়পত্রে সে সব জেলার প্রার্থীর ভুয়া নাম ঠিকানা ব্যবহার করা হতো। কোনো চাকরি প্রার্থী চুক্তি অনুযায়ী টাকা দিতে না পারলে তাদের জমা রাখা জমির দলিলের মাধ্যমে প্রার্থীর জমি দখল করে নিত। যারা এই প্রক্রিয়ায় চাকরি পেত তাদেরকে জিম্মি করার জন্য তাদের সব ধরনের কাগজপত্র জমা রাখত। পরবর্তীতে তাদের কেউ ঝামেলা করলেই তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট দফতরে ভুয়া নাম ঠিকানা ব্যবহার করে চাকরি পাওয়ার অভিযোগ দেওয়া হতো।

এবার ভারতের কয়েকটি খবরের বিস্তারিত

‘ক্রোনোলজি বুঝুন’, Pegasus Project নিয়ে বিস্ফোরক দাবি অমিত শাহ’র-সংবাদ প্রতিদিন

Pegasus Project নিয়ে উত্তাল দেশ। কাদের টার্গেট করা হয়েছিল, একে একে প্রকাশ্যে আসতেই সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানাচ্ছে বিরোধীরা। একপ্রকার বাধ্য হয়ে এ নিয়ে বিবৃতি দিতে হল খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে (Amit Shah)। তাঁর বহুল জনপ্রিয় উক্তির পুনরাবৃত্তি করে শাহ দাবি করলেন, ভারতের মহান গণতন্ত্রকে বদনাম করতে এবং উন্নয়নের গতি স্তব্ধ করতে এই ধরনের ভুয়ো রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসছে। এর নেপথ্যে বিরোধীদের এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার ষড়যন্ত্র দেখছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।এক বিবৃতিতে এ প্রসঙ্গে শাহ বলেন, “জানি আমার এই কথাটা নিয়ে অনেকে হাসাহাসি করেন। কিন্তু আজ খুব সিরিয়াস হয়েই এই কথাটা আমি বলতে চাই। আপনি ক্রোনোলজিটা বুঝুন। ঠিক কখন এই ধরনের লিকগুলি হচ্ছে। ঠিক কীভাবে আমাদের বাধা দেওয়া হচ্ছে।” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, এই রিপোর্ট প্রকাশ করেছে বিদেশের বাধাদানকারীরা। আর এটি তৈরি হয়েছে দেশের অন্দরের বাধাদানকারীদের জন্য। দেশের বাইরে বেশ কিছু সংস্থা আছে যারা ভারতের উন্নতি সহ্য করতে পারে না। আর দেশে কিছু রাজনৈতিক খেলোয়াড়েরা আছে যারা ভারতের উন্নতিতে বাধা দিতে চায়। ভারতবাসী এই ক্রোনোলজি ভালই বোঝে।” অমিত শাহর দাবি, এই রিপোর্ট একটাই উদ্দেশে তৈরি করা হয়েছে, যে কোনওভাবে আন্তর্জাতিক মহলে ভারতকে বদনাম করা।”প্রসঙ্গত, রবিবার রাত থেকে পেগাসাস রিপোর্ট (Pegasas Report) নিয়ে রীতিমতো আলোড়িত জাতীয় রাজনীতি। একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, পেগাসাস নামের এই ম্যালওয়ার ব্যবহার করে কেন্দ্র বিরোধীদের ফোনে আড়ি পাতছে। টার্গেটে রয়েছেন প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi), তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর-সহ দেশের বহু বিরোধী নেতা। এমনকী গুটিকয়েক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ফোনেও আড়ি পাতা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে ওই রিপোর্টগুলিতে। যা নিয়ে সোমবারই উত্তাল হয় সংসদের অধিবেশন।

মাধ্যমিকে ১০০ শতাংশ পাস-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা ও সংবাদ প্রতিদিনের এ খবরে লেখা হয়েছে,বিকল্প মূল্যায়ন পদ্ধতির উপর ভিত্তি করে প্রকাশিত হল ২০২১এর মাধ্যমিক (Madhyamik Exam 2021) পরীক্ষার ফলাফল। ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে চলতি বছর পাশের হার ১০০ শতাংশ, যা একেবারেই নজিরবিহীন। ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের পাশের হার বেশি। সকাল ৯টায় সাংবাদিক বৈঠক করে ফলাফল ঘোষণা করেছেন মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়।চলতি বছর মোট পরীক্ষার্থী – ১০,৭৯,৭৪৯। ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের সংখ্যা বেশি। পাশ করেছে সকলেই, অর্থাৎ পাশের হার ১০০ শতাংশ। গত বছর তা ছিল ৮৬.৩৪ শতাংশ। এই ফলাফলে কেউ যদি সন্তুষ্ট না হন অথবা সংশয় থাকে, তাহলে কোভিড পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তারা ফের পরীক্ষায় বসতে পারবে। এই  নিয়মের কথাও জানিয়েছে পর্ষদ।  

শ্রোতাবন্ধুরা! কথাবার্তার আজকের আসর এখানেই গুটিয়ে নিচ্ছি। আবারও কথা হবে আগামী আসরে।ততক্ষণ সবাই ভালো ও সুস্থ থাকুন।

342/


আপনার মন্তব্য প্রেরণ করুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ফিল্ডসমূহ * এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে

*