?>

শেইখ যাকযাকিকে হত্যার নির্দেশ ছিল ইসরাইল ও সৌদি আরবের পক্ষ থেকে

শেইখ যাকযাকিকে হত্যার নির্দেশ ছিল ইসরাইল ও সৌদি আরবের পক্ষ থেকে

ইসলামিক মুভমেন্ট অব নাইজেরিয়া’র ঘনিষ্ট এক সূত্র জানিয়েছে যে, শেইখ যাকযাকিকে হত্যার বিষয়ে ইসরাইল ও আমেরিকার নির্দেশ বাস্তবায়ন করছে নাইজেরিয়া সরকার।

হলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): গত বুধবারের (৩১ মার্চ) শুনানিতে সরকার পক্ষের শেষ (এবং ১৫তম) সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য প্রদানের সময় পূর্ববর্তী সাক্ষীদের ন্যায় বিভিন্ন মিথ্যা ও উদ্ভট অভিযোগ উত্থাপন করেছে ঐ সাক্ষী।

যে সকল মিথ্যা অভিযোগ আদালতে উত্থাপন করেছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে, যারিয়া শহরে বাকিয়াতুল্লাহ ইমামবাড়িতে আযাদারি পালনরত শেইখ যাকযাকির সকল সমর্থক ছিল সশস্ত্র, তাদের কারও কারও হাতে অস্ত্র (দেশীয়), কারো হাতে তলোয়ার, কারো হাতে তীর ও কামান ছিল!!

শেইখ যাকযাকির সমর্থকদের অস্ত্র রাখার বিষয়ে সাক্ষী এমন মিথ্যা অভিযোগ  উত্থাপন করলেও, সম্প্রতি নাইজেরিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ‘ড. ঈসা ওয়াজিরি’ –শেইখ যাকযাকির সমর্থকদের উপর হামলার ঘটনায় যাঁর ৩ ছেলে ও ১ মেয়ে শহীদ হয়েছেন- এ প্রসঙ্গে বলেন: শেইখ যাকযাকির প্রতি জনগণের আকৃষ্ট হওয়া ও ইসলামিক মুভমেন্টে যোগদানের বেশ কিছু কারণের একটি হল; উগ্রতা ও রক্তপাত থেকে শেইখ যাকযাকি’র দূরত্ব। শেইখ যাকযাকির এ নীতি বহুবার বাস্তবে আমরা লক্ষ্য করেছি যারিয়ার গণহত্যা ও এ পরবর্তী সময়েও। শেইখ যাকযাকি নিজের কয়েকটি সন্তান ও বহু সংখ্যক সমর্থককে হারালেও –যা ছিল নাইজেরিয়ার ইতিহাসে নজীরবিহীন একটি ঘটনা- তিনি কখনও তার সমর্থকদেরকে অস্ত্র তুলে নেয়ার নির্দেশ বা অনুমতি দেননি অথচ তাঁর বহু সংখ্যক সমর্থক রয়েছে।

অবশ্য এ সকল পদক্ষেপ শেইখ যাকযাকির সমর্থকদেরকে শহীদদের রক্তের বদলা নেয়ার প্রতি উৎসাহিত করার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে। কিন্তু পরিশেষে তারা তাদের ঐ অশুভ লক্ষ্যে পৌঁছুতে পারেনি।

৩১ মার্চের ঐ শুনানিতে উপস্থিত শেইখ যাকযাকির এক ঘনিষ্ট সূত্র (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) অস্ত্র বহনের যে মিথ্যা অভিযোগ আদালতে তোলা হয়েছে সে সম্পর্কে জানান: সরকার পক্ষের ১৫তম ও শেষ সাক্ষী হিসেবে মেজর জেনারেল ‘এ. কে. ইব্রাহিম’ সাক্ষীর স্থানে দাঁড়িয়ে এ (মিথ্যা) দাবী করেন যে, যখন সেনাবাহিনী শেইখ যাকযাকির সমর্থকদের দিকে অগ্রসর হয়, তখন তারা তাদের কাছে থাকা অস্ত্র ব্যবহার করে গুলি ছুঁড়তে থাকে! ফলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সৈন্য আহত হয়!!

কিন্তু এটা কিভাবে সম্ভব যে, শেইখ যাকযাকির সমর্থকদের কাছে অস্ত্র থাকাও সত্ত্বেও তারা আত্মরক্ষা করতে পারেনি। অথচ বাস্তবতা হল তাদের (শেইখের সমর্থক) ১০০০ এরও বেশী লোক এতে শহীদ হয়েছেন। আর তর্কের খাতিরে এ অসম্ভব বিষয়টিকে যদিও সঠিক ধরে নেই তবুও এটা কিভাবে সম্ভব যে, শেইখ যাকযাকির সমর্থকরা সশস্ত্র থাকা অবস্থায় তাদের একটি গুলি একজন সেনারও গায়ে লাগে নি এবং তাদের মৃত্যুর কারণ হয়নি?!!

যখন সাক্ষী শেইখ যাকযাকির সমর্থকদের সশস্ত্র থাকার মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করেন তখন শেইখের সমর্থকদের পক্ষের আইনজীবি’র করা ‘শেইখের সমর্থকদের গুলিতে কয়জন সৈন্য আহত হয়েছে’ প্রশ্নের জবাবে সাক্ষী বলেন: ‘আমি জানি না, এ বিষয়ে আমার কাছে কোন তথ্য নেই!’।

মজার বিষয় হল, পূর্ববর্তী সাক্ষীরাও এ প্রশ্নের একই রকম জবাব দিয়েছেন!

সরকার পক্ষের ঐ সাক্ষী আরও বলেন: ‘সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত নারী ও শিশুদেরকে স্থান ত্যাগ করার অনুমত দেয়’।

এখানে প্রশ্ন হল, যদি সেনাবাহিনী এমনটি করে থাকে তাহলে শেইখের স্ত্রী ‘ইজ্জাত ইব্রাহিম’কে শেইখের সাথে গুরুতর আহত অবস্থায় কেন আটক করা হয়েছিল? বরং বাস্তবতা হল তার প্রতি কোনরূপ ছাড় দেয়া হয়নি, এমনকি তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও প্রদান করা হয়নি।

ঐ সূত্রের ভাষ্য মতে, সাক্ষীরা সাক্ষ্য প্রদানের সময় বারবার ‘শিয়াদের’ নাম উচ্চারণ করছিলেন, অথচ শুধুমাত্র শিয়ারা শেইখ যাকযাকির সমর্থক ও ইসলামিক মুভমেন্টের সদস্য নয় বরং সদস্যদের মাঝে আহলে সুন্নাহ, এমনকি খ্রিষ্টানরাও রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে শেইখের এক আইনজীবি’র প্রশ্ন ছিল: ‘আপনি কিভাবে নিশ্চিত হলেন যে ঐ সকল ব্যক্তিরা –শেইখের সমর্থকরা- সকলে শিয়া ছিলেন যে, বারবার তাদেরকে শিয়া বলে আখ্যায়িত করছেন?’

এর জবাবে সাক্ষী বলেন: ‘কেননা তারা সকলে কালো পোশাক পরেছিল’।

আইনজীবি পাল্টা প্রশ্ন করেন: আপনিও তো এখন কালো কাপড় পরে আছেন, তাহলে আপনিও কি শিয়া? এ প্রশ্নে আদালতে উপস্থিতরা সকলে হেসে ওঠে।

এর পর শেইখের পক্ষের আইনজীবি প্রশ্ন করেন: ‘আপনি কি জানেন আটককৃত সকলকে মুক্তি দেয়া হয়েছে, একমাত্র শেইখ যাকযাকি ও তার স্ত্রী ব্যতীত?

উত্তরে সাক্ষী বলেন: আমি জানি না!’।

ইসলামি মুভমেন্টের ঘনিষ্ট ঐ সূত্র জানিয়েছে, এটা সুস্পষ্ট যে, যারিয়ার ঐ ইমামবাড়িতে হামলার দিন আটককৃত সকল ব্যক্তিই মুক্তি পেত; কেননা তারা অপরাধী ছিল না এবং এমন কোন অপরাধ করেনি যে, তাদেরকে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। অবশ্য এ বিষয়টির প্রতিও লক্ষ্য রাখতে হবে ইমামবাড়িতে থাকা ব্যক্তিরা মূল টার্গেট ছিল না বরং তারা জায়নবাদী ইসরাইল ও সৌদি আরবের নির্দেশে শেইখ যাকযাকিকে হত্যা করার পরিকল্পনা এঁটেছিল।

ঐ সূত্র নাইজেরিয়ার ইসলামি মুভমেন্টের বিরুদ্ধে জায়নবাদী ইসরাইল ও সৌদি আরবের ষড়যন্ত্র প্রসঙ্গে জানান: জায়নবাদী ইসরাইল ও সৌদি আরবের নির্দেশেই শেইখ যাকযাকিকে হত্যা করতে চেয়েছিল নাইজেরিয়া সরকার। কিন্তু মহান আল্লাহর কৃপায় শেইখ জীবিত আছেন। আর তাই শেইখ গুরুতর আহত হলেও তাকে হাসপাতালে না নিয়ে আটকে রাখে যাতে তার মৃত্যুর ক্ষেত্র তৈরি হয় এবং তিনি আস্তে আস্তে বিনা চিকিৎসায় মারা যান।

শেইখের উপর হামলার পর চিকিৎসকরা প্রাথমিক চেকাপের ফলাফলে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করেছিল। কিন্তু মহান আল্লাহর ইচ্ছা ছিল অন্য কিছু, আর তাই তো তিনি শত প্রতিকূলতা পেরিয়ে গুরুতর আহত হওয়া সত্ত্বেও ৬ বছর পর আজও বেঁচে আছেন। আর যেভাবে তিনি নিজেই জানিয়েছেন যে, তিনি বেঁচে থাকবেন এবং সচক্ষে নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট ‘বুহারি’র মৃত্যু দেখবেন।

অতএব, স্পষ্টত যে, নাইজেরিয়া সরকার এ ধরনের মিথ্যা সাক্ষী আদালতে হাজির করার মাধ্যমে আদালতের কার্যক্রম দীর্ঘায়িত করতে চাইছে। যাতে গুরুতর অসুস্থ ও জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রত্যাশী শেইখ এবং তার স্ত্রীকে আটকে রেখে তাদেরকে হত্যা করতে পারে। সরকার সবসময় নতুন নতুন অভিযোগের সন্ধানে থাকে, যাতে এ প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘায়িত হয়।

 ‘শেইখ যাকযাকির মুক্তিতে বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষদের করণীয় কি’ -এ প্রশ্নের জবাবে ঐ সূত্র জানিয়েছে: ‘শেইখের দৃঢ় বিশ্বাস একমাত্র মহান আল্লাহ্ই তাকে মুক্ত করতে পারেন’।#176


আপনার মন্তব্য প্রেরণ করুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ফিল্ডসমূহ * এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে

*