?>

সন্ত্রাসী হামলা রুখতে ব্যর্থ তালেবান, বিশেষ পরিকল্পনার আওতায় শিয়াদের উপর হামলা: শিয়া সোসাইটি

সন্ত্রাসী হামলা রুখতে ব্যর্থ তালেবান, বিশেষ পরিকল্পনার আওতায় শিয়াদের উপর হামলা: শিয়া সোসাইটি

আফগানিস্তানের মুহিব্বানে আহলে বাইত (আ.) সোসাইটি এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনা থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, সন্ত্রাসীদের হামলা রুখতে ব্যর্থ দেশটির আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। তাই তাদের উচিত জনগণ এবং অনুষ্ঠান আয়োজনকারী কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সহযোগিতা গ্রহণ করা।

হলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): এক বিবৃতিতে আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কান্দাহার শহরের শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী হামলার ঘটনায় প্রতিক্রিয়া ব্যক্তি করে এ সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়েছে দেশটির মুহিব্বানে আহলে বাইত (আ.) সোসাইটি।

ঐ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনা থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, সন্ত্রাসীদের হামলা রুখতে ব্যর্থ দেশটির আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। তাই তাদের উচিত জনগণ এবং অনুষ্ঠান আয়োজনকারী কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সহযোগিতা গ্রহণ করা। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বিশেষ পরিকল্পনার আওতায় শিয়াদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যে করে এ সকল হামলা চালানো হচ্ছে।

 

বিবৃতির মূল অংশ

بسم الله الرحمن الرحیم

«وَما لَكُمْ لَا تُقاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَالمُسْتَضْعَفِينَ مِنَ الرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ وَالوِلْدَانِ الَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا أَخْرِجْنَا مِنْ هَٰذِهِ القَرْيَةِ الظَّالِمِ أَهْلُهَا وَاجْعَلْ لَنَا مِنْ لَدُنْكَ وَلِيّاً وَاجْعَلْ لَنا مِنْ لَدُنْكَ نَصِيرا»

‘তোমাদের কি হয়েছে যে, তোমরা আল্লাহর পথে এবং অসহায় নর-নারী ও শিশুদের (উদ্ধারের) জন্য সংগ্রাম করবে না? যারা বলছে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! অত্যাচারী অধিবাসীদের এই নগর হতে আমাদেরকে বাহির করে অন্যত্র নিয়ে যাও এবং তোমার নিকট হতে কাউকে আমাদের অভিভাবক কর এবং তোমার নিকট হতে কাউকে আমাদের সহায় নিযুক্ত কর। (নিসা : ৭৪)

কান্দাহারের ফাতিমিয়াহ জামে মসজিদে জুমআর নামাযের মুসল্লিদের উপর শোকাবহ, ভয়ংকর ও মর্মান্তিক আত্মঘাতী হামলার ঘটনায় আমরা শহীদদের পরিবার, কান্দাহারের ধর্মপ্রাণ জনগণ, আফগানিস্তানের জনগণ এবং সর্বপরি মুসলিম উম্মাহ’র প্রতি শোক ও সমবেদনা জানাই। পাশাপাশি মহান আল্লাহর দরবারে এ ঘটনায় শহীদদের জন্য জান্নাতুল ফেরদৌস এবং আহতদের জন্য দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।

(তালেবান) শাসন ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সন্ত্রাসী হামলা পুলিশ ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সামনে নতুন এক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

কান্দাহারের ফাতিমিয়া জামে মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় ১ শতাধিক ব্যক্তি শহীদ ও আহত হয়েছেন। এ নিয়ে গত এক সপ্তাহে শিয়া মুসল্লিদের বিরুদ্ধে চালানো দ্বিতীয় ভয়াবহ হামলা। যা থেকে দেশকে আরও অনিরাপদ করে তোলার পায়তারার নতুন পরিকল্পনার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

কুন্দুজের সৈয়দাবাদ এলাকার জামে মসজিদে আত্মঘাতী হামলার ঘটনায় ৩ শতাধিক ব্যক্তি হতাহত হওয়ার পর আইন শৃংখলা রক্ষা বিভাগ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করণে দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ, এ ধরণের হামলা রোধ এবং এর সাথে জড়িতদেরকে আটক করে আদালতে হাজির করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু এক সপ্তাহ পার হতে না হতেই আবারও আমরা (কুন্দুজের মত) কান্দাহারেও সন্ত্রাসী হামলার সাক্ষী।

সাম্প্রতিক ঘটনা থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, আফগানিস্তানের আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সন্ত্রাসী হামলা রোধে অক্ষম তাই তাদের উচিত জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সমাবেশ ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজকদের কাছে এ বিষয়ে সহযোগিতা চাওয়া এবং তাদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো।

শিয়া মুসলমানদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদিতে সন্ত্রাসী দলগুলোর হামলার ঘটনা রহস্যজনক এবং বিশেষ উদ্দেশ্যে এ সকল হামলা চালানো হচ্ছে –এ কথা উল্লেখ করে মুহিব্বানে আহলে বাইত (আ.) সোসাইটি, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করণ এবং ক্ষতিগ্রস্থ ও আহতদের পরিবারের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়ার জন্য ইমারত-এ ইসলামি আফগানিস্তান, আন্তর্জাতিক সমাজ, মারজায়ে তাক্বলিদগণ এবং দাতব্য বিভিন্ন সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।

মুহিব্বানে আহলে বাইত (আ.) সোসাইটি আফগানিস্তান,

৯ রবিউল আওয়াল, ১৪৪৩ হিজরী

বলাবাহুল্য, গতকাল (শুক্রবার, ১৫ অক্টোবর) তাকফিরি সন্ত্রাসীরা কান্দাহারের সর্ববৃহৎ শিয়া মসজিদ ফাতিমিয়া জামে মসজিদে আত্মঘাতী হামলা চালায়। এতে ৩৭ জন মুসল্লি শহীদ এবং ৭০ জন আহত হয়েছে।

আর আগে গত সপ্তাহে আফগানিস্তানের কুন্দুজ প্রদেশের একটি শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। ঐ হামলায় ১৫০ জন মুসল্লি শহীদ এবং অপর ২০০ জন আহত হয়েছিল।#176


সম্পর্কিত প্রবন্ধসমূহ

আপনার মন্তব্য প্রেরণ করুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ফিল্ডসমূহ * এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে

*