১০ জুন ২০২৪ - ১৯:০৯
নাইজেরীয় যুবকের বিপ্লবের উপর ইমাম খোমেনীর মতাদর্শের প্রভাব / ইমাম খোমেনী ইসলামের দৃশ্যমান প্রতীক

নাইজেরিয়ার ইসলামি আন্দোলনের মহাসচিব: আমরা ইমাম খোমেনীর (রহ.) কাছ থেকে তাবলীগের পদ্ধতি শিখেছি, মরহুম ইমাম একটি নির্দিষ্ট মাজহাবের দিকে আসতে বলতেন না, বরং তিনি বলতেন আমরা সকলেই মুসলমান এবং আমাদের ইসলামের জন্য কাজ করতে হবে।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): ১৯৫৩ সালের ৫ই মে নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলের জারিয়া শহরে, ইবরাহিম নামে একটি শিশু জন্মলাভ করে এবং বহু বছর পর মহান ইমাম খোমেনীর আদর্শ অনুকরণ করে, ইসলামি বিশ্বে একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। ইবরাহিম মালিকী মাজহাব অনুসরণকারী একটি সুন্নি পরিবারে জন্মলাভ করেন। আফ্রিকার উত্তরাঞ্চলের বেশিরভাগ মুসলমান মালিকী মাজহাবের অনুসারী। ইবরাহিম জাকজাকি স্কুলে শিক্ষালাভের পাশাপাশি, ইসলামী জ্ঞানার্জনেও লিপ্ত ছিলেন। এজন্যই তিনি নাইজেরিয়াও উত্তরের কানু শহরে যান এবং আরবি স্কুলে পড়ালেখা করেন।

১৯৭৫ সালে জারিয়া আহমাদু বেলো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং কয়েক বছর পর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক সম্পন্ন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক শিক্ষা ও পরিচর্যামূলক কর্মকাণ্ডের কারণে, কিছুদিন পর মুসলিম ছাত্র সংঘের সদস্য হন এবং এর ধারাবাহিকতায় তিনি এই সংগঠনের মহাসচিব হন।

ফ্রান্সে সফর এবং ইমাম খোমেনীর (রহ.) সাথে সাক্ষাত

ইমাম খোমেনীর আন্দোলনের সূচনা এবং ইরানের বিপ্লবের নেতার সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ায়, জাকজাকি এই সংবাদ এবং পরিবর্তন সংক্রান্ত বিষয়ের প্রতি আগ্রহী হয়ে নিয়মিত খোঁজ খবর নিতে থাকেন। শেইখ ইবরাহিমের ভালোবাসা তাকে ইমামের (রহ.) সাথে সাক্ষাত করতে প্যারিসে নিয়ে যায়; যে সাক্ষাতটি ইবরাহিম এবং লক্ষ লক্ষ নাইজেরিয়দের জন্য ভাগ্য নির্ধারক হয়।

ইরান সফর এবং ইরানে ইমামের (রহ.) সাথে সাক্ষাত

ইরানের ইসলামি বিপ্লবের প্রথমদিকে, ইবরাহিম জাকজাকি নাইজেরিয়া মুসলিম ছাত্র সংঘের জাতীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহকারী হিসেবে একটি দল নিয়ে ইরানে সফর করেন এবং ইমাম খোমেনীর (রহ.) সাথে সাক্ষাত করেন। ইমাম সেই সাক্ষাতে তাকে একটি কুরআন উপহার দেন এবং বলেন, যাও কুরআন দ্বারা তোমার দেশের মানুষের হেদায়েত কর। ইমামের এই সুপারিশের কারণেই তিনি কোমের ধর্মীয় শিক্ষা কেন্দ্রে ভর্তি হন।

শেইখ ইবরাহিম জাকজাকি এখন আহলে সুন্নাত ও শিয়া মাজহাবের ফিকাহ শাস্ত্রের উপর পূর্ণ দক্ষ হওয়ার পাশাপাশি, নাইজেরিয়দের প্রতি আহলে বাইত (আ.) এবং ইরানের ইসলামি বিপ্লবের বার্তা বাহক।

নাইজেরিয়ায় ইসলামি আন্দোলনের সূচনা

শেইখ ইবরাহিম জাকজাকির কার্যক্রম শুরু হওয়ার সাথে সাথে এবং নাইজেরিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের আগ্রহী হৃদয়সমূহের উদ্দেশ্যে তার ইসলামি দাওয়াতের প্রভাবে সৃষ্ট এই ঢেউ উদ্বেগের সূচনা করে। নাইজেরিয়ার সরকার পশ্চিমা, জায়নবাদী এবং ওয়াহাবিদের প্ররোচনায় তার কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং জাকজাকিকে রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও জন-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার অভিযোগে কয়েক ধাপে দীর্ঘ ৯ বছরের জন্য কারারুদ্ধ করে।

সামাজিক সেবার সম্প্রসারণ এবং নাইজেরিয়ায় আহলে বাইতের (আ.) মতাদর্শের প্রতি জনস্রোত

নাইজেরিয়া এবং এর প্রতিবেশী দেশগুলোতে প্রায় তিন শতাধিক ইসলামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, এতিমদের জন্য সামাজিক সেবামূলক প্রতিষ্ঠান নির্মাণ এবং চিকিৎসা, বেসামরিক ও শিক্ষাগত সেবা প্রদানের লক্ষ্যে একটি কেন্দ্র স্থাপন, শেইখ ইবরাহিম জাকজাকিকে নাইজেরিয়দের হৃদয়ে প্রিয় করে তোলে।

একসময় মুষ্টিমেয় মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা পবিত্র আহলে বাইতের (আ.) মাজহাবের প্রচার এমন এক পর্যায়ে পৌঁছায় যে, নাইজেরিয়ার প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ মানুষ এই মাজহাবের অনুসারী হয়ে যায় এবং বর্তমানে নাইজেরিয়া বিশ্বে শিয়াদের অন্যতম জনবসতিপূর্ণ দেশ।

জায়নবাদ ও ওয়াহাবিবাদের প্ররোচনা এবং শিয়াদেরকে হত্যা

নাইজেরিয়ায় ইসলামি আন্দোলনের উত্থানের সাথে সাথে, জায়নবাদ ও ওয়াহাবিবাদের প্ররোচনার ফলে নাইজেরিয়ায় শিয়াদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন শুরু হয়। যার ফলে ২০১৪ সালে বিশ্ব কুদস দিবসের র‍্যালীতে হামলা হয় এবং সেখানে বেশ কয়েকজন শাহাদাত বরণ করেন, বিশেষ করে শেইখ জাকজাকির তিন ছেলে।

এর এক বছর পর ২০১৫ সালে, শেইখ জাকজাকি ইরান সফর শেষে ফিরলে জারিয়ার বাকিয়াতুল্লাহ ইমামবাড়ীতেও এক রক্তপাতের ঘটনা ঘটে এবং নাইজেরিয়ার সেনাবাহিনীর হামলার মাধ্যমে ইমাম হোসেনের (আ.) চল্লিশার অনুষ্ঠান রক্তে ভিজে যায়।

এই হামলায় কতিপয় শিয়া ছাড়াও শেইখ জাকজাকির অন্য সন্তানেরাও শহীদ হন। শেইখ জাকজাকি এবং তার আত্মত্যাগী সহধর্মীনী ছাড়াও শিয়াদের অনেকেই গ্রেফতার ও কারারুদ্ধ করা হয়।

২০২১ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত শেইখ জাকজাকি কারাবাস করেন, কিন্তু এতে তার নাইজেরিয়া ইসলামি আন্দোলনের শিকড় আরও মজবুত ও সুদৃঢ় হয়। পরিশেষে জাকজাকি সকল অভিযোগ থেকে মুক্তি পান এবং বর্তমানে তিনি জিহাদ ও প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে পরিচিত।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনাকে দেয়া এক একান্ত সাক্ষাতকারে নাইজেরিয়া ইসলামি আন্দোলনের মহাসচিব তার জীবনের সংক্ষিপ্ত বর্ণনার পাশাপাশি জিহাদ ও প্রতিরোধের শিক্ষা সম্পর্কে বলেন, তিনি এই শিক্ষা আহলে বাইতের (আ.) মাজহাব হতে পেয়েছেন এবং বিশেষ করে ইমাম খোমেনীর (রহ.) প্রতি বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি এবং বিশেষ ভালোবাসার কারণে, যিনি এই পথের আদর্শ এবং শিক্ষক ছিলেন।

আবনা: শুরুতেই নিজের সম্পর্কে কিছু বলুন।

-আমি একটি ধার্মিক এবং শরিয়তের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ পরিবারে জন্মগ্রহণ করি। আমার বাবা ও দাদা ছিলেন কুরআনের শিক্ষক। সেই ছোট থেকেই আমার বাবা, দাদী এবং অন্যান্য শিক্ষকদের নিকট হতে ধর্মীয় ও আরবি ভাষা শিক্ষা লাভ করি। ১৫ বছর বয়সে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষকতার জন্য শিক্ষক প্রশিক্ষণ স্কুলে যাই এবং সেখানে দুই বছর শিক্ষালাভের পর, কানু শহরে অন্য একটি স্কুলে যাই এবং প্রাথমিক স্তরের শিক্ষক হওয়া পর্যন্ত সেখানে পাঁচ বছর অধ্যয়ন করি। এর পাশাপাশি একজন শিক্ষকের নিকট থেকে ধর্মীয় শিক্ষাও লাভ করি এবং ২৪ বছর বয়সে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাই এবং অর্থনীতি বিষয়ে পড়ালেখা করি এবং কোর্স শেষ করি।

আবনা: কিভাবে আহলে বাইতের (আ.) মাজহাব এবং ইসলামি বিপ্লবের সাথে পরিচিত হলেন?

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার পাশাপাশি, ধর্মীয় শিক্ষার বিষয়েও উদাসীন ছিলাম না এবং কতিপয় আলেমের নিকট ধর্মীয় শিক্ষা অর্জন অব্যাহত রেখেছিলাম। ৭০-এর দশকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকা অবস্থায় যখন ইমাম খোমেনী প্যারিসে অবস্থান করছিলেন, ইরানের ইসলামি বিপ্লব আন্দোলনের সম্পর্কে জানতে পারি এবং নিয়মিত এই পরিবর্তন সম্বন্ধে খোঁজ নিতে থাকি।

ইরানের ইসলামি বিপ্লব বিজয়ের প্রথম বার্ষিকীতে আমি প্রথমবারের মত ইরানে আসি এবং তখন থেকে এখনো পর্যন্ত ইসলামের মুবাল্লিগের দায়িত্ব পালন করছি। ইমাম খোমেনী প্যারিসে থাকাকালীন সময় হতেই তার বক্তব্যের আরবি এবং ইংরেজি অনুবাদ নিয়মিত পড়তাম। ইসলামি বিপ্লবের আগে মুসলিম ছাত্রদের নিয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতাম এবং সেই সংগঠনের মহাসচিব ছিলাম। যখন থেকে ইমাম খোমেনীর (রহ.) সম্পর্কে জানলাম, বুঝতে পারলাম মরহুম ইমাম আমাদের চাওয়াকেই বাস্তবায়ন করেছেন।

আবনা: বিপ্লবের পর, ইমাম খোমেনীর (রহ.) সাথে আপনার প্রথম সাক্ষাত কখন হয়?

ইসলামি বিপ্লবের পর ইমাম খোমেনীর (রহ.) সাথে আমার প্রথম সাক্ষাত হয় ইরানে। এই সাক্ষাতটি এমন এক সময় ঘটে যখন মরহুম ইমাম হাসপাতালে শয্যাশায়ী ছিলেন। ইমাম খোমেনীর সাথে দ্বিতীয় সাক্ষাতটি ছিল জামারানের ইমামবাড়ীতে মরহুম ইমামের একটি জনসভায়। এরপর ইমাম খোমেনীর (রহ.) সাথে তার বাসভবনে সাক্ষাত হয়েছে।

আবনা: ইমাম খোমেনীর (রহ.) কোন বৈশিষ্ট্য আপনার জন্য শিক্ষণীয় ছিল?

ইমাম খোমেনী (রহ.) ইসলামের দৃশ্যমান প্রতীক, না কোন একটি নির্দিষ্ট মাজহাব বা ফেরকার প্রতীক। কতিপয় আলেম, মানুষকে শুধুমাত্র একটি তরিকা বা একটি মাজহাবের প্রতি দাওয়াত করে, কিন্তু ইমাম খোমেনীর দাওয়াত ছিল ইসলামি এবং বিশ্বব্যাপী। তিনি একটি বিশেষ দলকে দাওয়াত দেননি, বরং তিনি সকল মুসলমানদেরকে এক উম্মত বলে মনে করতেন এবং পৃথিবীর নিপীড়িতদের মুক্ত করা তাদের দায়িত্ব বলে জানতেন। এর ফলে বিভিন্ন মাজহাব এবং তরিকার মানুষ ইমাম খোমেনীর (রহ.) প্রতি আকৃষ্ট হতে শুরু করে।

আবনা: নাইজেরিয়ায় আপনার তাবলীগি দাওয়াতের অভিজ্ঞতা থেকে বলুন।

আপনি যদি একটি সুন্নি রাষ্ট্রে থাকতেন এবং সেখানকার মানুষদের বলতেন আমাদের নিকট প্রকৃত মাজহাব রয়েছে; আমাদের নিকট আসুন, তাহলে কেউই আপনার নিকট আসতো না। নাইজেরিয়ায় বিভিন্ন মাজহাব রয়েছে বিশেষত মালিকি মাজহাব। সুফিদের বিভিন্ন তরিকাও এদেশে কর্মতৎপর এবং নাইজেরিয়ার ওয়াহাবিরা এই সুফি তরিকার সদস্যদেরকে কাফের (তাকফির) বলে থাকে। আমরা নাইজেরিয়ার মুসলমানদেরকে বলেছি, আমরা সকলেই মুসলমান এবং আমাদের সকলের সামনেই রয়েছে ইসলাম এবং ইসলামই আমাদের সবাইকে একত্রিত করেছে। তাদের সাথে আমাদের আলোচনার ভিত্তি এটিই থাকে।

লোকেরা যখন আমাদের নিকট আসে, এমন কিছু যদি দেখতে পায় যে বিষয়ে সে জানেনা। যেমন, কিভাবে নামাজ পড়ব। নাইজেরিয়ায় মানুষের এভাবে দাওয়াত করতাম যাতে আমাদের দোয়া কুমাইল পাঠের ন্যায় দোয়ার মজলিসে উপস্থিত হয় অথবা রাসুলের মিলাদের অনুষ্ঠানের মত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে এবং আমাদের কথা শোনে। অতঃপর তারা নিজেরাই, সত্যের অনুসন্ধান শুরু করে দেয়। আমাদের তাবলীগের পদ্ধতি, একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি এবং এটি মানুষদেরকে আমাদের প্রতি আকৃষ্ট করেছে; এমনকি খ্রিষ্টানদেরকেও।

আবনা: আপনার সম্পর্কে যে অভিযোগগুলো করা হয়ে থাকে, সেগুলো কি?

শত্রুরা আমাদের সম্পর্কে যে অভিযোগ করে থাকে তার অন্যতম একটি সাহাবিদেরকে অপমান করা, কিন্তু আমরা তাদেরকে কোন উত্তর দিতাম না এবং বলতাম যে, আমরা সকলেই মুসলমান, আমাদের নিকট আসুন এবং আমাদের শত্রুদের কথা না শুনে সত্যটি আমাদের নিকট থেকে শুনুন। যখন আমাদের নিকট আসতো, দেখত আমরা তাদের সাথে কিরূপ আচরণ করি এবং এর ফলে তারা আমাদের প্রতি আকৃষ্ট হত। এই তাবলীগের পদ্ধতিটি আমরা ইমাম খোমেনী (রহ.) হতে শিখেছি, মরহুম ইমাম বলতেন না যে, একটি নির্দিষ্ট মাজহাবের দিকে আসুন, বরং তিনি বলতেন, আমরা সবাই মুসলমান এবং আমাদের সবাইকে ইসলামের জন্য কাজ করতে হবে।

আবনা: বেশ কয়েক বছর কারাবাস এবং জিহাদের (প্রচেষ্টার) পর, পুনরায় ইরান সফরে আপনার অনুভূতি কি?

আমাকে স্বাগত জানাতে অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করার জন্য আমি ইরান সরকার ও জাতিকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি এবং এটিই আমার প্রতি ইরানীদের ভালোবাসার প্রমাণ। আমরা নাইজেরিয়ায় ইমাম খোমেনীর মতাদর্শের অনুসরণ করেছি এবং এখনো এই মতাদর্শের অনুসারী রয়েছি, বর্তমানে যে মতাদর্শের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মাকামে মুয়াজ্জামে রাহবারী (বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা রাহবার আয়াতুল্লাহ খামেনায়ী)।

আবনা: ইসলামি বিশ্বে সর্বশেষ পরিবর্তন, বিশেষ করে ফিলিস্তিন ও গাজা সম্পর্কে কি বার্তা দিতে চান?

আমি সকল মুসলমানদেরকে বলতে চাই, নিজেদের ভেদাভেদ ভুলে যান এবং জানুন যে সকলের একটি ইস্যু রয়েছে। বর্তমানে গাজার অবস্থা দেখুন, যেখানে হাজার হাজার মানুষ শহীদ হয়েছে এবং এই শহীদদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। দুর্ভাগ্যজনক, কিছু মুসলিম এই ঘটনার প্রতি মাজহাবি দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে এবং যারাই এই ফিলিস্তিনের ঘটনায় সহযোগিতা করছে, বলছে তারা মাজহাবি কারণে তাদের সহযোগিতা করছে, যেখানে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি হওয়ার দরকার ছিল ফিলিস্তিন একটি ইসলামি ইস্যু এবং আমরা মুসলমানেরা একটি মাত্র জাতি।

মহানবী (সা.) একটি হাদিসে বলেন, মুসলমানেরা একটি দেহের ন্যায়, যার একটি অঙ্গ ব্যথা পেলে অন্য অঙ্গও ব্যথিত হয়। দুর্ভাগ্যজনক, আমরা মুসলমানেরা দলে দলে বিভক্ত হয়ে গেছি এবং আমাদের উচিত দলগত বিভক্তিকে ভুলে যাওয়া এবং নিজেদেরকে একটি অভিন্ন জাতি হিসেবে স্মরণ করা এবং একটি পরিস্থিতির শিকার ভাবা। এর বিপরীতে আমরা দেখতে পাচ্ছি, শত্রুরা ভিন্ন মত থাকা স্বত্বেও, এক ও অভিন্ন লাইন তৈরি করেছে এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ রয়েছে।#176