আহলে বাইত বার্তা সংস্থা (আবান) : মিয়ানমারের রাজধানী নে পি দোতে ব্রিফিংয়ে রাখাইন রাজ্যের এক মন্ত্রীর মন্তব্যের জের ধরে ঢাকায় দেশটির রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়েছে। শুক্রবার বিকালে রাষ্ট্রদূত মিয়ো মিন্ট থানকে তলব করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রলায় এ বিষয়ে কোন বিবৃতি না দিলেও বিকাল ৩টার পরে রাষ্ট্রদূতকে অতিরিক্ত সচিব মিজানুর রহমানের কক্ষে ঢুকতে দেখা গেছে। আধাঘণ্টা পর তিনি বের হয়ে যান। এ বিষয়ে জানতে চাইলেও অতিরিক্ত সচিব কোন মন্তব্য করেননি। তবে একাধিক কর্মকর্তা তলবের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাদের একজন বলেন, ‘নে পি দোতে এক কূটনৈতিক ব্রিফিংয়ে রাখাইন রাজ্যের এক মন্ত্রী অযৌক্তিভাবে বলেছেন, বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক দুরবস্থার কারণে মানুষ অবৈধভাবে দেশান্তরিত হতে বাধ্য হচ্ছে। এ কারণে তাকে তলব করা হয়েছে।’ নে পি দোতে কর্তব্যরত কূটনৈতিকদের জন্য আয়োজিত ওই ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সুফিউর রহমানও উপস্থিত ছিলেন। এই মন্তব্যকে ‘মর্যাদাহানিকর’ এবং অপ্রতিবেশীসুলভ মনোভাব হিসেবে দেখছে ঢাকা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রদূতকে এই বার্তা দিয়েছে যে, এ ধরনের মন্তব্য অভিবাসন সংকট নিরসনে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সমন্বিত প্রচেষ্টাকে বানচাল করে দিতে পারে। মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের নিজেদের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি না দেয়ায় শরণার্থী সমস্যা দুই দেশের সম্পর্কের ‘কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাতৃভূমি রাখাইনে জাতিগত সহিংসতার পর পালিয়ে আসা হাজার হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু নৌকায় করে পাড়ি দেয়া হাজার হাজার বর্মী ও বাংলাদেশীরা ভারত মহাসাগরে আটকে পড়ার পর এই সংকট সমাধানে মিয়ানমারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, মিয়ানামারের জলসীমায় আটকে পড়াদের মধ্যে বাংলাদেশীদের ফিরিয়ে আনতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ। তাদের একজন বলেন, প্রায় ১৫০ জন বাংলাদেশীকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া ৮ই জুন শুরু হবে।