১১ জুলাই ২০১৫ - ২৩:২০
বসনিয়দের ধাওয়া খেয়ে পালালেন সার্ব প্রধানমন্ত্রী ভুসিচ

বসনিয়ার সেব্রেনিৎসা শহরে উত্তেজিত জনতার হামলার মুখে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেছেন সার্বিয়ার প্রধানমন্ত্রী আলেক্সান্ডার ভুসিচ।

আবনা ডেস্ক : বসনিয়ার সেব্রেনিৎসা শহরে উত্তেজিত জনতার হামলার মুখে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেছেন সার্বিয়ার প্রধানমন্ত্রী আলেক্সান্ডার ভুসিচ। আজ (শনিবার) সেব্রেনিৎসার পাশবিক গণহত্যার ২০তম বার্ষিকী উপলক্ষে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে তিনি বসনিয়াবাসীর ক্রোধের মুখে পড়েন।
১৯৯৫ সালের জুলাই মাসে বর্বর সার্ব বাহিনীর হাতে নিহত ৮,০০০ মুসলিম পুরুষ ও বালকের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সেব্রেনিৎসায় গিয়েছিলেন ভুসিচ। তিনি সেখানে স্থাপিত স্মৃতিসৌধে একটি ফুল রাখার পরপরই ক্ষুব্ধ জনতা তার দিকে পাথর নিক্ষেপ শুরু করে। এ অবস্থায় সার্ব প্রধানমন্ত্রীর দেহরক্ষীরা ঢাল দিয়ে আড়াল করে তাকে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়।
সার্ব বাহিনীর গণহত্যার শিকার মুসলমানদের স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সার্বিয়ার প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি মেনে নিতে না পেরে বসনিয়ার জনগণ এ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
বলকান যুদ্ধের সময় সার্বরা ১৯৯৫ সালের জুন মাসে সেব্রেনিৎসা শহরটি দখল করে নেয়। জাতিসংঘের ৮১৯ নম্বর প্রস্তাবে অনুযায়ী সেব্রেনিৎসা শহরটি নিরাপদ অঞ্চল বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু সার্বরা জাতিসংঘের ডাচ শান্তিরক্ষীদের কোনো বাধা ছাড়াই শহরটি দখল করে সেখানকার হাজার হাজার বেসামরিক মুসলমানকে হত্যা করে ও হাজার হাজার নারীকে ধর্ষণ করে। নিহতের সংখ্যা ৮ হাজার ছাড়িয়ে যায়। তাদের বেশিরভাগই ছিল বৃদ্ধ ও যুবক। রাতকো মিলাদিচের নেতৃত্বাধীন বর্বর সার্ব বাহিনী এই গণহত্যা চালায়।
দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর এটাই ইউরোপে সংঘটিত সবচেয়ে বড় গণহত্যা ও জাতিগত শুদ্ধি অভিযান। ডাচ শান্তিরক্ষীদের নিস্ক্রিয়তার মুখে ও গ্রীক সেচ্ছাসেবী বাহিনীর সহায়তায় সার্বরা এই গণহত্যা চালায়।