আবনা ডেস্ক : ১৩ বছরের শিশু শেখ সামিউল আলম রাজনকে নির্মম কায়দায় পিটিয়ে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সারাদেশে সমালোচনার ঝড় বইছে ঠিক তখন একই পৈশাচিকতায় কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার দারোরা ইউনিয়নের কাজিয়াতল গ্রামে হত্যা করা হয় শামসুল ইসলাম মনির নামে ২৯ বছরের এক যুবককে।
মঙ্গলবার ভোরে তাকে ডাকাত সন্দেহে পিটিয়ে ও পায়ের রগ কেটে হত্যা করে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ এলাকায় ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে।
মনির উপজেলার কাজিয়াতল গ্রামের পশ্চিম পাড়ার মোছলেম উদ্দিন সরকারের ছেলে। এ ঘটনার পর নিহতের পিতা বাদি হয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ১৮ জনকে আসামি করে মুরাদনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ কাজিয়াতল পূর্বপাড়া মসজিদের ইমাম আবুল হাছানকে (২৮) রাতে তার নিজ বাড়ী বাঞ্ছারামপুর উপজেলার চরলহনিয়া গ্রাম থেকে আটক করে। হাছান চরলহনিয়া গ্রামের আ. জলিলের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন ভোরে উপজেলার কাজিয়াতল গ্রামের মোহাম্মদ আলীর বাড়িতে পাওনা টাকা ফিরিয়ে দেয়ার কথা বলে ফোনে ডেকে নিয়ে মনিরকে আটক করে হাত-পা বেঁধে পিটিয়ে পায়ের রগ কেটে দেয়া হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মনিরের মৃত্যু হয়। পরে সকালে জনতার গণপিটুনিতে ডাকাত আহত হওয়ার খবর পেয়ে মুরাদনগর থানার এসআই শামসুল আলমের নেতৃত্বে একদল পুলিশ মনিরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে।
নিহত মনিরের পিতা মোছলেম উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, আমার ছেলে মনিরকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে মোহাম্মদ আলী টাকা নিয়েছিল। সেই টাকা ফেরত দেয়ার কথা বলে আলী মনিরকে ভোর রাতে ফোন করে নিয়ে যায়। পরে মনির টাকা আনতে গেলে তাকে আটক করে মারধোর করে ও পায়ের রগ কেটে হত্যা করে।
মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, হত্যা মামলার একজন আসামিকে আটক করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।