আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা) : আজ রোববার রাজধানীতে আয়োজিত এক মানববন্ধনে অংশ নিয়ে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।
‘হিন্দু-বৌদ্ধ- খৃষ্টান ছাত্র-যুব ফ্রন্ট’ ঢাকা মহানগরের উদ্যোগে সম্প্রতি কুমিল্লার মুরাদ নগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগসহ সারাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতনের প্রতিবাদে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, ‘সোজা আঙ্গুলে ঘি উঠবে না। আজকে এদেশে সংখ্যালঘুদের ওপরে যেভাবে অত্যাচার-নির্যাতন শুরু হয়েছে, সেই ৭২ সালে থেকে আজ পর্যন্ত যা তীব্রতর হয়েছে, সেই সংখ্যালঘুরা আজকে বিভিন্ন জায়গায় জায়গায় প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠছেন।’
তিনি বলেন, যে রানা দাস গুপ্ত-সিআর দাস-নিম ভৌমিকরা একসময়ে এই আওয়ামী লীগের সাথে সহযোগিতা করতেন আজকে তারাও ফুঁসে উঠেছেন, প্রতিবাদ করছেন, আজকে বিভিন্ন জায়গায় মানববন্ধন হচ্ছে। আজকে সংখ্যালঘুদের ওপর যে অত্যাচার হচ্ছে তা পৃথিবী লক্ষ্য করছে, সারা দেশ লক্ষ্য করছে। এর ফল শুভ হবে না।’
চট্টগ্রামের রামুতে বৌদ্ধ বিহার আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘রামুতে কি হয়েছিলো? শেখ হাসিনার নির্দেশে সেখানে তাদের ভবন করে দেয়া হয়েছে। কাঠের মন্দিরকে কংক্রিটের মন্দিরে পরিণত করা হয়েছে। কিন্তু রামুর সেই মন্দিরের প্রধান সেবায়েত তিনি বলেছেন, ভবন সুন্দর হয়েছে বড় আরাম লাগছে কিন্তু মনের মধ্যে কোনো শান্তি নাই। কারণ যারা আগুন দিয়েছে সেই আসামিরা আমার চোখের সামনে ঘোরাফেরা করছে।’
‘এই প্রেস ক্লাবের সামনে দাঁড়িয়ে রানা দাস গুপ্তের পাশে দাঁড়িয়ে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী মনোরঞ্জন ঘোষাল দুঃখ করে বলেছেন যে, আমাদের হিন্দু সম্প্রদায়ের মেয়েদের সম্ভ্রমহানি করা আওয়ামী লীগের সাংবিধানিক অধিকারে পরিণত হয়েছে। এগুলো তাদের কথা আমাদের কথা নয়।’
মানব বন্ধনে উপস্থিত বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘আজকে সারা দেশে ধর্মের দিক থেকে যারা সংখ্যায় কম তাদের ওপর নির্যাতন হচ্ছে, নিরাপত্তা নেই। এর পাশাপাশি যদি দেখি ধর্মের দিক থেকে যারা সংখ্যাগরিষ্ঠ তাদের প্রতিও সরকার উদাসীন।’
‘আজকে এখানে সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু নয়, সব একাকার হয়ে গেছে সরকারের কাছে। তারা ছাড়া, আওয়ামী লীগের দালাল ছাড়া আর কারো কোনো জীবনের নিরাপত্তা নেই।’
বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী বলেন, ‘গত ৭ মাসের ২৭টি প্রতিমা ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে, বিভিন্ন জায়গা মন্দিরে হামলা করা হয়েছে, হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলা-অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। আমাদের মা-বোনরা প্রতিনিয়ত ধর্ষিতা হচ্ছেন তাদের কোনো নিরাপত্তা নেই।’
‘এই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে হলে বর্তমান সরকারকে হটাতে হবে, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’
বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ছাত্র-যুব ফ্রন্টের ঢাকা মহানগর সভাপতি সঞ্জয় গুপ্তের সভাপতিত্বে এই মানববন্ধনে সাবেক প্রতিমন্ত্রী হিন্দু-বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের আহবায়ক গৌতম চক্রবর্তী, বিএনপির অমলেন্দু দাস অপু, জয়দেব জয়,সুশীল বড়ুয়া, আকাশ ঘোষ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। #
342/