আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেছেন, চীন, রাশিয়া, ইরানসহ সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সদস্য অন্য দেশগুলো তাদের ব্যবসা ও পুঁজি বিনিয়োগের জন্য ডলারের ওপর নির্ভরশীলতা থেকে বেরিয়ে আসতে চায়। এ ছাড়া, ইউরো মুদ্রার অবস্থান যথেষ্ট শক্তিশালী থাকায় ইউরোপের দেশগুলোও ডলারের ওপর নির্ভরশীলতা থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ল্যাভরভের এ বক্তব্য থেকে দুটি বাস্তবতা ফুটে উঠেছে। প্রথমত, এতে করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে একক আধিপত্য ও বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে ডলারের প্রভাব কমে আসবে। আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলে অর্থ লেনদেন থেকে বোঝা যায় চলতি বছর প্রথম তিন মাসে বিশ্বে মুদ্রা রিজার্ভের ক্ষেত্রে ডলারের ব্যবহার কমে গেছে। এই সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে তৃতীয় তিন মাসে ডলার রিজার্ভের পরিমাণ ৬০.৪ শতাংশ ছিল অথচ এবং এর আগে দ্বিতীয় তিন মাসে এ পরিমাণ ছিল ৬১.২ শতাংশ।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ বক্তব্যের দ্বিতীয় বাস্তবতা হচ্ছে, মার্কিন বিরোধী কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর ওপর আর্থ-রাজনৈতিক ও বাণিজ্য ক্ষেত্রে চাপ সৃষ্টির জন্য ডলারকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমাজ ক্রমেই সোচ্চার হচ্ছে।
প্রকৃতপক্ষে, মার্কিন সরকার বিশ্বের বড় বড় কোম্পানি, ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক অর্থ ব্যবস্থাকে ডলারের ওপর নির্ভরশীল করে তুলে তাদের অবৈধ স্বার্থ হাসিলের জন্য এসব সংস্থাকে অন্য দেশের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। দুই বৃহৎ শক্তি চীন ও রাশিয়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নানাভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা ও হয়রানির শিকার হয়েছে। ২০১৮ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র চীনের সাথে বাণিজ্য যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে এবং বেইজিংকে চাপে রাখার জন্য ওয়াশিংটন ডলারকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। অন্যদিকে রাশিয়ার সঙ্গেও একই আচরণ করছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে হোয়াইট হাউজ। মস্কো এটা বুঝতে পেরেছে যে, কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ডলার ওপর থেকে নির্ভরশীলতা কাটিয়ে ওঠা যাবে। এছাড়া, কঠোর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন ইরান ও ভেনিজুয়েলার মতো দেশগুলোও একই রকমের চিন্তাভাবনা করছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান সম্প্রতি বলেছেন, মুসলিম দেশগুলোর উচিত ডলারের ওপর নির্ভরশীলতার মাত্রা কমিয়ে আনা। তিনি বলেন, এ দেশগুলোর উচিত বৈদেশিক মুদ্রার পরিবর্তে নিজ মুদ্রা ব্যবহার করা।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মার্কিন স্বেচ্ছাচারী নীতির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমাজ ক্রমেই ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে এবং তারা বিশ্বে ডলারের একক আধিপত্য ভেঙে দেয়ার চেষ্টা করছে। এরই মধ্যে বহু দেশ ডলারের ব্যবহার কমিয়ে আনা শুরু করেছে। এ অবস্থায় রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ সংক্রান্ত বক্তব্য যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। #
342/