আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): প্রচারিত একটি সাক্ষাৎকারে রাশিয়া টুডে টেলিভিশন নেটওয়ার্ককে রেযায়ী বলেন, “বর্তমানে আমরা আলোচনার মাধ্যমে আমাদের লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করছি। তবে নৌ অবরোধ আমাদের অধিকারের লঙ্ঘন হওয়ায় আমরা এ পরিস্থিতি মেনে নিই না এবং যেকোনো নৌ অবরোধ অবশ্যই ভেঙে দেব।”
সাবেক আইআরজিসি (ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী) কমান্ডার আরও বলেন, ইরান কখনোই তার বৈধ অধিকার লঙ্ঘন হতে দেবে না।
তিনি বলেন, বৈধ অধিকার নিশ্চিত করতে ইরান আন্তরিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে প্রয়োজনে নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আরও দৃঢ় ও শক্তিশালীভাবে প্রস্তুত রয়েছে।
রেযায়ী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমরা আলোচনার ব্যাপারে আন্তরিক, কিন্তু আত্মরক্ষার ব্যাপারে তার চেয়েও বেশি আন্তরিক।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান কূটনীতি, যুদ্ধক্ষেত্র এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার মাধ্যমে বিজয় অর্জন করতে চায়।
নেতার এই উপদেষ্টা উল্লেখ করেন যে সাম্প্রতিক মুখোমুখি অবস্থানগুলোতে ইরান বিশ্ববাসীর সামনে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী ও অবিশ্বস্ত চরিত্র সফলভাবে তুলে ধরেছে।
তিনি বলেন, “আলোচনার মাধ্যমে আমরা বিশ্বকে দেখাচ্ছি আমেরিকা আসলে কী এবং কোন নীতিতে পরিচালিত হয়। আমেরিকার প্রকৃত চেহারা, চুক্তি ভঙ্গের পুনরাবৃত্তি, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন এবং মানবাধিকারের প্রতি অবজ্ঞা প্রকাশ করাই আমাদের জন্য এক ধরনের বিজয়।”
সাবেক আইআরজিসি কমান্ডার জোর দিয়ে বলেন, “আমরা আলোচনায়, যুদ্ধে এবং আত্মরক্ষায় জয়ী হতে চাই।”
রাশিয়া টুডের প্রতিবেদক প্রশ্ন করেন, যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত অনুযায়ী ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা এবং বিদ্যমান সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তর করার বিষয়ে ইরানের অবস্থান কী?
জবাবে রেযায়ী বলেন, “আমরা আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের কাঠামোর মধ্যে, অর্থাৎ পরমাণু অস্ত্র বিস্তাররোধ চুক্তি (এনপিটি)-এর আওতায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছি এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখব।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা সমৃদ্ধকরণের অধিকার থেকে সরে আসব না। এটি একটি জাতীয় সম্পদ এবং এমন একটি প্রযুক্তি, যা বর্তমানে কৃষি, ওষুধশিল্প এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হচ্ছে। আমরা জ্বালানি উৎপাদনের জন্য এ প্রযুক্তি ব্যবহার করতে চাই এবং এ ক্ষেত্রে আমাদের অধিকার ছাড়ব না।”
রেযায়ী বলেন, “সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেবে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান নিজেই। আমরা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে এই উপাদান হস্তান্তর করব না। তাই এ বিষয়ে কোনো শর্তও গ্রহণ করব না।”
ইরানের সঙ্গে চুক্তি করতে আগ্রহী বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বারবার দাবি সম্পর্কে রেযায়ী বলেন, “যে কোনো চুক্তি তখনই সম্ভব, যখন আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘ সনদের অধীনে ইরানি জনগণের অধিকার সম্পূর্ণভাবে সম্মান করা হবে।”
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রকৃত কোনো চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং ট্রাম্পের অবস্থান পরিবর্তনের প্রবণতা ও ইসরায়েলের প্রতি তার নির্ভরশীলতার কথা উল্লেখ করেন।
রেযায়ীর ভাষায়, “মি. ট্রাম্প আলোচনায় প্রয়োজনীয় সাহস দেখায় না। কখনও কখনও সে ইসরায়েলের তৈরি জনমতের প্রভাবে চলে যায়। সে আমাদের এক কথা বলে, পরে আবার তা ফিরিয়ে নেয়। সে মূলত আলোচনার মানুষ নয়; সে আলোচনায় সক্ষম নয়।”
রেযায়ী পুনর্ব্যক্ত করেন যে, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ অটুট থাকবে এবং এ বিষয়ে “কোনো পিছু হটার সুযোগ নেই”। তিনি বলেন, “হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌবাহিনী নির্ধারিত ট্রানজিট বিধি মেনে চললে এ প্রণালির মাধ্যমে বাণিজ্যিক চলাচল অবাধ থাকবে।”
Your Comment