আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় প্রতিবেশী দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে লেবাননের একটি শান্তি কাঠামোয় সম্মত হওয়ার পর গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ হামলার ঘটনা।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলছে, দক্ষিণ লেবাননের তথাকথিত ‘নিরাপত্তা অঞ্চলে’ তারা রাতভর হিজবুল্লাহর বিভিন্ন অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, সেখানে ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হামলার জবাবেই এই পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে।
শান্তি কাঠামোর শর্ত অনুযায়ী, হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র না হওয়া এবং লেবাননের সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণ না নেওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলি সেনারা অধিকৃত দক্ষিণ লেবাননেই অবস্থান করবে। তবে হিজবুল্লাহ এই শর্তগুলোকে ‘আত্মসমর্পণ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা (এনএনএ) জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের আনসার গ্রামে একটি বাড়িতে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের হামলায় সাতজন নিহত হয়েছেন।
এ ছাড়া দেইর আল জাহরানি গ্রামে আরেকটি হামলায় আরও চারজন প্রাণ হারিয়েছেন। আনসারে নিহত সাতজনের মধ্যে তিন শিশু এবং দুই নারী রয়েছেন। এনএনএ আরও জানিয়েছে, এসব হামলায় ১৯ জন আহত হয়েছেন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, আনসারে হিজবুল্লাহর অভিজাত ‘রাদওয়ান ফোর্সে’র একটি প্রধান সদরদপ্তরে হামলা চালিয়ে তারা এই বাহিনীর কমান্ডার আলি সামির আল-হাজ হাসানসহ আরও কয়েকজনকে হত্যা করেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, হামলার সময় কমান্ডার হাসানের পরিবারও সেই সামরিক সদরদপ্তরের ভেতরে তার সঙ্গেই ছিল এবং দাবি অনুযায়ী, তারা ওই হামলায় হতাহত হয়েছে।
লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, নিহত সাধারণ মানুষ ও শিশুরা কোনোভাবেই সামরিক লক্ষ্যবস্তু হতে পারে না।
লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরি এক বিবৃতিতে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন। তিনি মধ্যস্থতাকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আগেই তারা যুদ্ধ বন্ধে কার্যকর ভূমিকা নেন।
Your Comment