আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): নাইজেরিয়ার আবুজায় ‘ইসলামি উম্মাহর ঐক্য সপ্তাহ’ বিষয়ক সম্মেলন শুরু হয়েছে। রবিউল আউয়াল মাসে প্রতি বছর পাঁচ দিনব্যাপী আয়োজিত এই সম্মেলনে বিভিন্ন পটভূমি ও চিন্তাধারার আলেম ও মুসলিমরা একত্রিত হন; তাঁরা মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি মুসলিমদের মধ্যে ঐক্য সুদৃঢ় করার উপায় নিয়েও আলোচনা করেন।
শেখ রাবি ফান্তুয়া-র উদ্বোধনী প্রার্থনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। এরপর আব্বান সাইয়িদা পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করেন এবং বরকত লাভের উদ্দেশ্যে মহানবী (সা.)-এর প্রতি ‘জিয়ারত’ (সালাম ও অভিবাদন) পাঠ করেন। পাশাপাশি, ‘ইত্তেহাদ-এ শোয়ারা’ (কবি সংঘ) দলটি মহানবী (সা.)-এর প্রশংসায় স্তুতিমূলক গান পরিবেশন করে।
সম্মেলনের মূল বক্তা শেখ শরিফ আহমেদ সালিজা "মক্কায় মহানবী (সা.)-এর জীবনের পর্যালোচনা: মুসলিম ও অমুসলিমদের মধ্যকার সম্পর্ক; নাইজেরীয় সমাজের জন্য শিক্ষণীয় বিষয়সমূহ" শীর্ষক একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
শেখ শরিফ আহমেদ সালিজা তাঁর বক্তব্যে প্রথমে মানুষের মর্যাদার বিষয়ে এবং মহানবী (সা.)-এর অবস্থান ও সম্মানের স্বীকৃতি প্রদানের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন; তিনি মহানবীর জীবনকে সকল সমাজের জন্য অফুরন্ত শিক্ষা ও অন্তর্দৃষ্টির উৎস হিসেবে তুলে ধরেন।
তিনি অমুসলিমদের সাথে মহানবী (সা.)-এর পারস্পরিক আচরণের বিষয়টি তুলে ধরেন এবং উল্লেখ করেন যে, তাঁর ‘সিরাত’ (জীবনী ও জীবনপদ্ধতি) ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা ও সদাচরণের ওপর ভিত্তি করে সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রদান করে।
তিনি শেখ যাকযাকির সহ্য করা নানাবিধ কষ্ট ও চাপের মুখে তাঁর অবিচলতাকে সমাজের জন্য একটি বড় শিক্ষা হিসেবে গণ্য করেছেন এবং মুসলমানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা ঐশ্বরিক পথে তাঁর ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের অনুকরণ করে।
বক্তৃতার পর শেখ রাবি ফান্তুয়া মন্তব্য ও অতিরিক্ত ব্যাখ্যা প্রদান করেন এবং শেখ শরিফ আহমেদ সালিজার বক্তব্যে উত্থাপিত মূল বিষয়গুলোকে আরও বিশদভাবে তুলে ধরেন।
Your Comment