৩১ আগস্ট ২০২৬ - ১২:২৮
আক্রমণ যতই তীব্র হোক না কেন, প্রতিরোধ বাহিনী শত্রুর পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দেবে।

লেবাননের হিজবুল্লাহর মহাসচিব শেখ নাইম কাসেম ‘ইসলামি ঐক্য বিষয়ক ৪০তম আন্তর্জাতিক সম্মেলন’-এ দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় জোর দিয়ে বলেছেন যে, জাতিসমূহের দৃঢ়তা শত্রুদের লক্ষ্য বাস্তবায়ন রুখে দিবে।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): লেবাননের হিজবুল্লাহর মহাসচিব শেখ নাইম কাসেম ইরানের মাশহাদ শহরে অনুষ্ঠিত ‘ইসলামি ঐক্য বিষয়ক ৪০তম আন্তর্জাতিক সম্মেলন’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শত্রুদের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করার ক্ষেত্রে প্রতিরোধ এবং জাতিসমূহের দৃঢ় অবস্থানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, শত্রুর বিরুদ্ধে জাতিসমূহ যতক্ষণ পর্যন্ত অবিচল থাকবে এবং নিজেদের অধিকার ও ভূখণ্ড রক্ষা করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত শত্রুদের কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না—এমনকি এই প্রতিরোধের জন্য যদি ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা, সামরিক আগ্রাসন ও ভারী মূল্য চুকাতে হয়, তবুও।

এক ভিডিও বার্তায় শেখ নাঈম কাসেম উল্লেখ করেন যে, যুদ্ধে জায়নবাদী সরকারের পরাজয় মূলত প্রতিরোধ ও জনগণের দৃঢ় অবস্থানেরই ফল। তিনি আরও বলেন, "দৃঢ় অবস্থানের যেকোনো পদক্ষেপ—তাতে যতই চড়া মূল্য দিতে হোক না কেন—আমাদের অবস্থান পুনরুদ্ধার এবং লক্ষ্য অর্জন ও শত্রুর পরিকল্পনা নস্যাৎ করার সক্ষমতা জোরদার করার পথ সুগম করে।"

ইসলামি ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে হিজবুল্লাহর মহাসচিব বলেছেন যে, মুসলমানদের মধ্যকার মতপার্থক্য যেন কোনোভাবেই অভ্যন্তরীণ সংঘাতের কারণ না হয় কিংবা তাদের মূল শত্রুর দিক থেকে বিচ্যুত না করে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে জাতিসমূহের শত্রু হিসেবেও চিহ্নিত করেন এবং উল্লেখ করেন যে, দেশটি ইসলামি কার্যক্রমের ভিত্তি ও এই অঞ্চলের জনগণের অধিকারের ওপর আঘাত হানার চেষ্টা করছে।

তিনি উল্লেখ করেন যে, শহীদ আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী তাত্ত্বিক ইসলামি ঐক্য থেকে বাস্তবমুখী ঐক্যের পথে অগ্রসর হয়েছিলেন—এমন এক দৃষ্টিভঙ্গি যা ফিলিস্তিনি সংগ্রামকে নতুন প্রাণশক্তি জুগিয়েছে; আর এই সংগ্রামের প্রতি সমর্থন রক্তদান, অস্ত্র ও আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং অভিন্ন শত্রু—অর্থাৎ জায়নবাদী শাসনব্যবস্থা ও যুক্তরাষ্ট্রের—বিরুদ্ধে সরাসরি সংঘাতের মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হয়েছে।

শেখ নাঈম কাসেম লেবাননে হিজবুল্লাহ, আমাল মুভমেন্ট এবং জায়নবাদী শাসনব্যবস্থার বিরোধী অন্যান্য রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যকার ঐক্যকে প্রকৃত ঐক্যের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, শত্রুর সামনে পিছু হটা ধ্বংসের পথ প্রশস্ত করতে পারে; পক্ষান্তরে প্রতিরোধ ও অবিচলতা—এমনকি ভারী প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির বিনিময়ে হলেও—শত্রুর অগ্রযাত্রা রুখে দিতে সক্ষম।

পরিশেষে তিনি বলেন: "যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যা-ই করুক না কেন এবং নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক আগ্রাসন যতই কঠোর হোক না কেন, প্রতিরোধ ও অবিচলতা শত্রুর পরিকল্পনাকে ব্যর্থ করে দেবে।"

Tags

Your Comment

You are replying to: .
captcha