আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): ইরানের সরকারি টেলিভিশন ও রেডিও সংস্থা আইআরআইবির সূত্রে জানা গেছে, ইরানের প্রধান বিচারপতি হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন গোলামহোসেইন মুহসেনি-এজেয়ি ভারতের ইসলামি পণ্ডিত ও বিভিন্ন ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে আমেরিকা ও ইসরাইলি শাসনগোষ্ঠীর ইরানবিরোধী অপরাধসমূহের কথা তুলে ধরেন।
তিনি মিনাবের ‘শাজারায়ে তায়্যিবা’ স্কুলে হামলাকে একটি সুস্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে বলেন, ওই স্কুলের শিশুরা এমনভাবে শহীদ হয়েছে যে তাদের অনেকের মরদেহ শনাক্ত করাও সম্ভব হয়নি। পরিবারগুলো নিজেদের সন্তান চিহ্নিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমেরিকা ও ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠী কয়েক ডজন স্কুল, হাসপাতাল, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং জাতীয় ও ধর্মীয় অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, অসামরিক স্থাপনাগুলো মানবিক আইনের বিশেষ সুরক্ষা পায় এবং সেগুলোতে হামলা চালানো বৈশ্বিক আইনে স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ।
ইরানের প্রধান বিচারপতি গাজায় ইসরাইলি শাসনগোষ্ঠীর অপরাধের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, যখন গাজার জনগণের ওপর ব্যাপক অত্যাচার চালানো হচ্ছিল, তখন যদি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো দাঁড়াতো, তাহলে আজ আগ্রাসীরা অন্য কোনো দেশে আক্রমণ করার সাহস পেত না। বিশ্বসমাজের উদাসীনতা এই যুদ্ধাপরাধগুলোর পুনরাবৃত্তির পথ তৈরি করছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসলামি ইরান তার ৪৮ বছরের জেহাদ (সংগ্রাম) ও প্রতিরোধের ফল দেখেছে এবং ইরানই একমাত্র দেশ যে আমেরিকার সঙ্গে দ্বন্দ্বে অবিচল রয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন, ইরান শান্তিকামী ও ন্যায়বিস্তারকারী দেশ, কিন্তু জুলুম ও বলপ্রয়োগের কাছে কখনও মাথানত করবে না।
Your Comment