আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনার রিপোর্ট : কাতারের রাজধানী দোহায় অবস্থিত ‘উমার ইবনুল খাত্তাব’ মসজিদের জুমআর নামাযের খতিবের পদ থেকে শেইখ কারদাভীকে বহিস্কারের পর কে এ দায়িত্ব পেতে যাচ্ছে –এ বিষয় শোনা গেছে বিভিন্ন কথা ও মন্তব্য। অবশেষে আবারো কাতারের নাগরিক নয় এমন একজন শেইখকে কাতারের গুরুত্বপূর্ণ এ মসজিদে জুমআর নামাযে ইমামতির দায়িত্ব প্রদান করা হল।
বিশ্বের মুসলিম ব্রাদারহুডের চিন্তাধারার কাছাকাছি চিন্তার অধিকারী আলেমদের নিয়ে গঠিত ‘ওয়ার্ল্ড মুসলিম ইউনিয়নে’র প্রধান শেইখ ইউসুফ কারদাভী, ২০১৩ সালের ৩০ শে জুন মিশরের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদ মুরসী’র বিপক্ষে গণ ও সামরিক অভ্যূত্থানের পর জুমআর নামাযের খোতবায় মিশরের নতুন সরকার এবং এদেশের পুলিশ ও সেনবাহিনী’র বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখেন।
মিশর-কাতার সম্পর্কে টানাপোড়নের ইতি টানতে এবং সাম্প্রতিক দ্বন্দের পর নতুনভাবে উভয় দেশের সম্পর্ক শুরু করার নিমিত্তে তাকে বহিস্কার করা হতে পারে বলে বিশ্লেষকগণ মনে করছেন। অবশ্য এ সম্ভাবনাটিও ফেলে দেয়া যায় না যে, শেইখ কারদাভী সম্ভবত অপর কোন দায়িত্ব প্রাপ্ত হয়েছেন, যার মাধ্যমে মুসলিম ব্রাদারহুডের পক্ষে এবং মিশরের সরকার ও সেনাবাহিনী’র বিরুদ্ধে প্রচার চালাবেন।
মিশরের ‘আল-বাওয়াবাহ নিউজ’ ওয়েব সাইট এ সম্পর্কে লিখেছে : সৌদি নাগরিক শেইখ মুহাম্মাদ আল-উরাইফী আজ (১৭ই জানুয়ারী) মিশরীয় শেইখ ইউসুফ কারদাভী’র স্থলে জুমআর নামাযে ইমামতির দায়িত্ব পেয়েছেন।
জুমআর খোতবায় আল-উরাইফী মুসলিম বিশ্বে ঘটমান বিভিন্ন ঘটনার উপর আলোকপাত করে সিরিয়ায় যুদ্ধরত সশস্ত্র বিদ্রোহীদেরকে সহযোগিতা এবং তাদের মাঝে ঐক্য সৃষ্টির প্রতি আহবান জানান। খোতবা শেষে তিনি (তার ভাষায়) দুষ্ট লোকদের অনিষ্ট থেকে এবং প্রতারকদের প্রতারণা থেকে কাতারকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য দোয়া করেন।
আল-উরাইফী হানাফী মাযহাবের অনুসারী হলেও মূলতঃ ওয়াহাবী চিন্তাধারা অধিকারী। কিন্তু গোঁড়ামীর দিক থেকে অন্যান্য সৌদি মুফতির চেয়ে তুলনামূলক পিছিয়ে। এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গীর অধিকারী হওয়ার কারণে এবং ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর মুরসীর প্রতি সমর্থন জানানোর ফলে, ‘মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্য না হয়েও আন্তর্জাতিক এ সংস্থার সমর্থকদের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন আল-উরাইফি।
বলাবাহুল্য, আবুধাবী’র যুবরাজ ‘মুহাম্মাদ বিন যায়েদ আলে নাহিয়ান’ কিছুদিন পূর্বে ঘোষণা করেছিলেন যে, ‘অতিশীঘ্রই মিশরের বিষয়ে কাতারের নীতিতে পরিবর্তন আসবে, তবে এ পরিবর্তনে সময়ের প্রয়োজন’।
বলাবাহুল্য, কাতারের নতুন আমির ‘শেইখ তামিম বিন হামদ আলে সানী’ (বাবার পরিবর্তে) ২০১৩ সালের গ্রীস্মকালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে দোহার জুমআর খতিবের পদ থেকে কারদাভীকে বহিস্কারের বিষয়ে অনেক মন্তব্য শোনা গেছে।
***
আন্তর্জাতিক মুসলিম ব্রাদারহুড সংস্থার আধ্যাত্মিক পিতা মিশরের নাগরিক ইউসুফ কারদাভী (৮৭) ১৯৬১ সালে কাতারে গমন করে সেখানেই বসবাস শুরু করেন। কাতারের ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে কয়েক বছর তত্পরতার পর ঐ দেশের মুফতি হিসেবে মনোনীত হন তিনি।
ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদ মুরসী’র কার্যক্রমের প্রতিবাদে মিশরের লক্ষ লক্ষ জনগণের বিক্ষোভ প্রকাশকে তিনি ‘বৈধতা বিরোধী প্রতিবাদ’ বলে আখ্যায়িত করে মুরসীর মেয়াদকাল শেষ হওয়া পর্যন্ত ধৈর্য্যধারণের জন্য জনগণের প্রতি আহবান জানিয়েছিলেন।
মুরসী সরকারের পতনের পর কারদাভী মিশর সেনাবাহিনী ও নতুন গঠিত সরকারের বিপক্ষে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে সেনাবাহিনীকে জায়নবাদী ইসরাইলী বাহিনী’র চেয়েও জঘন্য বলে আখ্যায়িত করেন। পাশাপাশি মুরসী সরকারে পতনের মূল কারণ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল ফাত্তাহ আস-সিসি’র নাম উল্লেখ করে তাকে হত্যার নির্দেশ দেন! অবশ্য সরকারী সৈন্যদের উপর উগ্রতাবাদী দলসমূহ যে বর্বরতা সিনাই মরুভূমিতে চালিয়েছিল সে বিষয়ে কোন অবস্থান তিনি গ্রহণ করেননি।