বার্তা সংস্থা আবনা : সারদা কেলেঙ্কারি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করে কংগ্রেস সহ-সভাপতি রাহুল গান্ধী যে বক্তব্যে দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
শনিবার মালদহের সামসি এবং মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের জনসভায় রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, “২০ লাখের বেশি গরিব মানুষ সারদা দুর্নীতিতে সর্বস্ব হারিয়েছেন। সিকিউরিটিস অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অব ইন্ডিয়া (সেবি) ও দুর্নীতি দমন বিভাগ রাজ্য সরকারকে বারবার কড়া পদক্ষেপ নিতে বললেও গত দুই বছর ধরে মমতার সরকার কিছুই করেনি। উল্টো অভিযুক্তদের বাঁচানোর চেষ্টা হয়েছে।”
সারদা কেলেঙ্কারি নিয়ে রাহুল গান্ধীর এসব অভিযোগের জবাবে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের জনসভায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, কংগ্রেসের মদদেই সারদা কেলেঙ্কারি হয়েছে সিপিএমের আমলে।
মমতা অভিযোগ করেন, পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় যেভাবে সারদাকাণ্ড সামনে আনা হয়েছিল, সেভাবেই লোকসভা ভোটের মাঝেও পরিকল্পিতভাবে বিষয়টিকে সামনে আনা হয়েছে।
তৃণমূল নেত্রীর দাবি, সারদার থেকে এক পয়সাও নেয়নি তার দল। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে মমতা বলেন, সারদাকাণ্ডে তৃণমূলের কাউকে গ্রেফতার করা হলে চিদম্বরমের স্ত্রী-ছেলেও রেহাই পাবেন না।
কংগ্রেসের উদ্দেশে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে তিনি বলেন, “সাহস থাকলে আমাকে টাচ করে দেখুক ! তৃণমূল নেতাদের গ্রেফতার করবে? কাঁচকলা করবে!”
রাজ্যে বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থার রমরমা ব্যবসার জন্য বামফ্রন্ট সরকার ও কেন্দ্রকে দায়ী করে মমতা বলেন, “৩০ বছর আগে চিটফান্ড তৈরি হয়েছিল। চিটফান্ড কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ও সেবির আওতায়। কেন্দ্র, সেবি কেন তাদের দায়িত্ব পালন করেনি? আমাদের নজরে যখন পড়ল, তখন কাশ্মীর থেকে সারদার মালিককে গ্রেফতার করে এনেছি। আমাদের সাংসদকে গ্রেফতার করে জেলে পুরেছি। ৬ লক্ষ লোকের টাকা ফেরত দিয়েছি। এখন চোরের মায়ের বড় গলা।”
এদিকে, তৃণমূলই সারদা নিয়ে তদন্ত এড়িয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক বিমান বসু। কলকাতা প্রেস ক্লাবে ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “আমরা গোড়া থেকেই বলে আসছি, আদালতের তত্ত্বাবধানে ঘটনার সিবিআই তদন্ত হোক। সিবিআই তদন্ত হলে কান টানলে মাথা আসবে। কিন্তু তৃণমূল নেত্রী রাজি নন। সারদা কেলেঙ্কারির সঙ্গে তাদের দলের অনেক নেতা-মন্ত্রী জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। তৃণমূল সংসদ সদস্য কুণাল ঘোষের কথাকেও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে না। আসলে তারা কেলেঙ্কারি চাপা দিতে চান।”
ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে সারদার মালিক সুদীপ্ত সেন এবং রাজ্যসভায় তৃণমূলদলীয় সংসদ সদস্য কুণাল ঘোষ অনেক দিন ধরেই কারাগারে রয়েছেন। কিন্তু বারবার চেষ্টা করেও এনফোর্সমেন্ট অফিসাররা সুদীপ্ত সেনকে জেরা করার সুযোগ পাননি। এ ব্যাপারে রাজ্য পুলিশ সহযোগিতার পরিবর্তে রীতিমতো বাধা দিয়ে চলেছে বলে আগেই কলকাতা হাইকোর্টে অভিযোগ এনেছেন এনফোর্সমেন্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা।
গত বুধবার ইডির কর্মকর্তারা রাজ্য পুলিশকে না জানিয়ে সুদীপ্ত সেনের দ্বিতীয় স্ত্রী পিয়ালি সেন এবং তাঁর প্রথম স্ত্রীর ছেলে শুভজিৎ সেনকে গ্রেপ্তার করে। সেই সঙ্গে তাঁদের বাড়িঘরে তল্লাশি চালিয়ে যে সব নথিপত্র পেয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, ওই দুজনের মোট সম্পত্তির পরিমাণ (মূলত জমি ও বাড়ি) ১০৫ কোটি টাকারও বেশি। এখনো সারদা গোষ্ঠীর হাতে থাকা কয়েকশ কোটি টাকার খোঁজ মেলেনি। এই অবস্থায় পিয়ালি ও শুভজিৎকে জেরা করার মধ্যেই এই রাজনৈতিক নেতাদের কাছে চিঠি পাঠানো থেকে ইঙ্গিত মিলছে, সারদা কেলেঙ্কারিতে জড়িত রাজনৈতিক নেতাদের নিয়েও এবার তদন্ত শুরু হচ্ছে।
এদিকে, সারদা কেলেঙ্কারি’কে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসের ছয় বিশিষ্ট নেতার কাছে গতকাল শুক্রবার ব্যাখ্যা চেয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেট (ইডি)। কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ইডি কালো টাকার লেনদেন আটকানো ও উদ্ধারের কাজটি করে। লোকসভা নির্বাচনের প্রচারাভিযানের সময় দলের নেতাদের ইডির চিঠি অস্বস্তিতে ফেলেছে তৃণমূলকে।
সূত্র : আইআরআইবি
২০ এপ্রিল ২০১৪ - ০৬:৪৮
News ID: 603604
সারদা কেলেঙ্কারি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করে কংগ্রেস সহ-সভাপতি রাহুল গান্ধী যে বক্তব্যে দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।