আবনা : ইয়েমেনের বিশিষ্ট গবেষক আবদুল্লা আদদাহমিশি বলেছেন, পশ্চিমা তরুণদের উদ্দেশে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার চিঠির গুরুত্বপূর্ণ দু’টি বার্তা হলো স্বাধীনতা ও মুক্তি। তিনি বলেছেন, এই বাণী মানুষকে বস্তুবাদ ও ভোগবাদের নানা দাসত্ব থেকে মুক্ত করে।
ঐতিহাসিক ওই বাণীর আধ্যাত্মিক মূল্য তুলে ধরতে গিয়ে আদদাহমিশি বলেছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার এই বাণী ঈমান এবং শান্তি, ভালবাসা ও ন্যায়বিচারের মতো মানবীয় মূল্যবোধগুলোকে মানবজাতির কাছে উপহার দিচ্ছে। তার এই বাণী সাম্রাজ্যবাদ, দুর্নীতির প্রসার ও বিশ্বের দুর্বলদের অপব্যবহারের বিরোধী বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার এই বাণী মানবীয় ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধগুলোর সমাহার এবং এইসব বিষয় মানুষকে পুঁজিবাদী ব্যবস্থা থেকে মুক্ত করতে সক্ষম বলে আদদাহমিশি উল্লেখ করেছেন।
গত ২১ জানুয়ারি (২০১৫) বিশ্বের সংবাদ ও গণমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত হয় পশ্চিমা যুব সমাজের কাছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার ঐতিহাসিক বাণী। অনন্য এই বাণী বিশ্বব্যাপী যুক্তিবাদী ও চিন্তাশীল মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। প্যারিসে শার্লি এবদো নামের একটি রম্য-পত্রিকার অফিসে রহস্যজনক হামলার অজুহাতে ওই পত্রিকায় মহানবী (সা.)'র প্রতি একটি অবমাননাকর কার্টুন প্রকাশের পটভূমিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এই বাণী পাঠান।
তিনি বলেছেন, 'ইসলাম আতঙ্ক' থেকে পালিয়ে না গিয়ে এ ধর্ম সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা উচিত। তিনি আরো বলেছেন, মুসলমানদের ব্যাপারে আতঙ্ক তৈরি করে তা থেকে রাজনৈতিক সুবিধা আদায় পাশ্চাত্যের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য।
ওই বাণীর একাংশে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেছেন, 'ইউরোপ ও আমেরিকার ইতিহাস দাসপ্রথার জন্য লজ্জিত, তার মাথা হেট হয়ে আছে ঔপনিবেশিক যুগের জন্য। যারা অশ্বেতাঙ্গ ও যারা খ্রিস্টান নয় তাদের ওপর অত্যাচারের জন্য লজ্জিত এই ইতিহাস। ক্যাথলিক ও প্রোটেস্ট্যান্টদের মাঝে ধর্মের নামে অথবা প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাতীয়তার নাম করে ঘটানো রক্তপাত নিয়ে তোমাদের গবেষক ও ইতিহাসবিদদের মাথা নত হয়ে আছে।
(লজ্জিত হওয়ার) এই ধারা প্রশংসার যোগ্য বিষয়। এ সংক্রান্ত দীর্ঘ ফিরিস্তির অংশ-বিশেষ পর্যালোচনা করে ইতিহাসের নিন্দা করাও আমার লক্ষ্য নয়। বরং আমি চাই তোমরা তোমাদের বুদ্ধিজীবীদের কাছে এ প্রশ্ন করো যে, কেনো পশ্চিমের জনগণের বিবেক জেগে উঠতে ও সচেতন হতে কয়েক দশক বা কয়েক’শ বছর সময় লাগে? কেনো গণ-বিবেক বা সামষ্টিক বিবেকের পুনর্বিবেচনা কেবল সুদূর অতীতের ক্ষেত্রেই প্রয়োগ করা হয়, কেনো তা বর্তমান যুগের বিষয়গুলো নিয়ে করা হয় না? কেনো ইসলামী চিন্তাধারা ও সংস্কৃতির সঙ্গে আচরণের পদ্ধতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর ব্যাপারে গণ-সচেতনতা সৃষ্টিতে বাধা দেয়া হচ্ছে?'
পশ্চিমা প্রচার মাধ্যমগুলো ও ইহুদিবাদীদের নিয়ন্ত্রিত সংবাদ এবং প্রচারযন্ত্রগুলো ইরানের সর্বোচ্চ নেতার এই ঐতিহাসিক বাণীকে নিজেদের ইচ্ছেমত কাটছাঁট করে বা কম গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা এই ঐতিহাসিক বাণীর ব্যাপক প্রচার রুখতে ব্যর্থ হয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার এই বাণী প্রকাশিত হওয়ার পর মাত্র এক সপ্তাহ'র মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে তা এক কোটি ষাট লাখ বার শেয়ার হয়েছে।#
২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ - ১৭:১৯
News ID: 672645
ইয়েমেনের বিশিষ্ট গবেষক আবদুল্লা আদদাহমিশি বলেছেন, পশ্চিমা তরুণদের উদ্দেশে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার চিঠির গুরুত্বপূর্ণ দু’টি বার্তা হলো স্বাধীনতা ও মুক্তি।