চীনে ওবামা ছাড়া সব বিশ্বনেতাকে সংবর্ধনা

  • News Code : 776873
  • Source : ittefaq
Brief

চীনে সব বিশ্বনেতৃবৃন্দ সংবর্ধনা পেলেও বঞ্চিত হলেন কেবল মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।

আবনা ডেস্ক: চীনে সব বিশ্বনেতৃবৃন্দ সংবর্ধনা পেলেও বঞ্চিত হলেন কেবল মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। জি-২০ সম্মেলন উপলক্ষ্যে বিশ্বের প্রভাবশালী দেশের নেতারা চীনে গেছেন। গতকাল রবিবার সকালে চীনের বিমানবন্দরে অবতরণ করেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট মাইকেল তেমার এবং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট পার্ক জিউন হাই। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পৌছান শনিবার। চীন সরকারের পক্ষ থেকে সব নেতাকেই লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। তবে শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বিমানবন্দরে নামলেও তাকে কোনো ধরনের সংবর্ধনা দেওয়া হয়নি। বরং তার সফরসঙ্গীদের সঙ্গে শিষ্ঠাচার বহির্ভূত আচরণেরও অভিযোগও ওঠে। এই সংবর্ধনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের টানাপোড়েন আরো জোরালো হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে গতকাল থেকে চীনে বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোর সংগঠন জি-২০ সম্মেলন শুরু হয়েছে। সম্মেলনে বিশ্ব অর্থনীতির সংকট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। খবর বিবিসি, রয়টার্স ও নিউইয়র্ক টাইমসের।
লাল গালিচা তো নয়ই, প্রেসিডেন্ট ওবামার বিমান থেকে নামার জন্য আলাদা সিঁড়ি দেওয়ার মতো কূটনৈতিক শিষ্ঠাচার প্রদর্শনও করা হয়নি। এ নিয়ে চীনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তাদের বিবাদও হয়। অবশ্য এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত চীন কোনও মন্তব্য করেনি। তবে বারাক ওবামা এ ব্যাপারে কূটনৈতিক উত্তর দিয়েছেন। তার মতে, মার্কিন সরকারের বহরের আকার থেকে চীন হয়তো হতবিহ্বল হয়ে পড়েছিল। এ নিয়ে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি। আর যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা সুসান রাইস স্বীকার করেছেন, প্রেসিডেন্ট ওবামাকে স্বাগত না জানানোর কারণে চীনের ওপর তিনি বিরক্ত হয়েছেন। সাংবাদিকদের রাইস বলেন, ‘যা হয়েছে তা ধারণাতীত। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘প্রেসিডেন্ট ওবামা এবং মার্কিন কর্মকর্তারা চীন পৌঁছানোর পর যে ধরনের অভ্যর্থনা পেয়েছেন তা খুবই বিবর্ণ।’ চীনের হাংচৌতে শুরু হয়েছে জি-২০ বার্ষিক সম্মেলন।
সম্মেলনে উদ্বোধনী বক্তব্যে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি ফের ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, কিন্তু এখনো ব্যবসা-বাণিজ্যে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির ঝুঁকি এবং চ্যালেঞ্জের মধ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই সম্মেলনের দিকে তাকিয়ে আছে। এই সম্মেলনে প্রথমবারের মতো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে থেরেসা মে অংশ নিলেন। সম্মেলন শুরুর আগে প্রেসিডেন্ট ওবামা এবং প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন। সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন, আগে ব্রিটেনকে ব্রেক্সিটের অর্থ নির্ধারণ করতে হবে। ব্রেক্সিট হলেও যেন ইউরোপের সঙ্গে মর্যাদাপূর্ণ সম্পর্ক বজায় থাকে।
দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনে গতকাল বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছাড়াও বিশ্ব স্টিল উত্পাদনে চীনের ভূমিকার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। অধিক হারে সস্তা স্টিল উত্পাদন করছে চীন, যার ফলে ইউরোপের স্টিল-শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানান ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জ্যঁ-ক্লদ ইয়ুংকার। তিনি বলেন, চীনকে অবশ্যই তাদের অধিক উত্পাদনে যাওয়ার কারণ বলতে হবে। এটা একবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের অধিক উত্পাদনের কারণে কয়েক বছর ধরে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ইউরোপরে স্টিল-শিল্প। চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে বহু শ্রমিককে। এছাড়া আয়ারল্যান্ডে অ্যাপলের কর ব্যবস্থাপনার বিষয়টি উঠে আসে আলোচনায়। জি-২০ সম্মেলন শুরু হওয়ার একদিন আগে বিশ্ব প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাস আবারও কমানোর ইঙ্গিত দেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রধান ক্রিস্টিন লাগার্দে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদী গতকাল চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে তিনি বলেছেন, আমাদের উচিত পরস্পরের আকাঙ্খা এবং উদ্বেগকে সম্মান দেখানো।


আপনার মন্তব্য প্রেরণ করুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ফিল্ডসমূহ * এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে

*

پیام رهبر انقلاب به مسلمانان جهان به مناسبت حج 1441 / 2020
conference-abu-talib
We are All Zakzaky