ইয়েমেনে সৌদি আরবের পরাজয় সুনিশ্চিত/ সৌদি গোয়েন্দা বিভাগ ও বন্দর বিন সুলতান আইএসআইএলের স্রষ্টা/ ইরাক ও ইয়েমেনের জনগণের অন্তরে ইরা

  • News Code : 679644
  • Source : ABNA
Brief

বহু বছর ধরে সাহায্যের আহবান জানালেও সৌদি আরবের পক্ষ থেকে কোন সাড়া পায়নি ফিলিস্তিন –এ কথা উল্লেখ করে লেবাননের হিজবুল্লাহ বাহিনী প্রধান বলেছেন : যে অজুহাতে সৌদি আরব ইয়েমেনের উপর হামলা চালিয়েছে তা ভিত্তিহীন।

আহলে বাইত বার্তা সংস্থা (আবনা) : ইয়েমেনে সৌদি আরবের পরাজয় সুনিশ্চিত/ সৌদি গোয়েন্দা বিভাগ ও বন্দর বিন সুলতান আইএসআইএলের স্রষ্টা/ ইরাক ও ইয়েমেনের জনগণের অন্তরে ইরানের স্থান।
লেবাননের হিজবুল্লাহ বাহিনী প্রধান গত শুক্রবার (২৮শে মার্চ) রাতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ইস্যুতে -বিশেষতঃ ইয়েমেনের উপর সৌদি বিমান হামলা- গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রেখেছেন। লেবাননের হিজবুল্লাহ বাহিনী প্রধান, ইয়েমেনের বিরুদ্ধে সৌদি হামলাকে ‘আগ্রাসন’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন : লেবানন ও মধ্যপ্রাচ্যের বিষয়ে নিজেদের অবস্থানের ঘোষণা দেওয়া আমাদের এবং প্রতিটি মুক্ত মানুষের অধিকার।

ইয়েমেন হামলার বিষয়ে; পরাজিত হবে সৌদি, ইয়েমেনের বিজয় সুনিশ্চিত
ফিলিস্তিনী জাতির বিষয়টিকে সরিয়ে রেখে ইয়েমেনের বিরুদ্ধে “Resolute Storm” অভিযান শুরু করেছে সৌদি আরব। বহুবছর যাবত সাহায্যের আহবান জানাচ্ছে ফিলিস্তিনের নির্যাতিত মানুষগুলো। ১৯৮২ সালে লেবাননের জনগণও সাহায্যের আহবান জানিয়েছিল, তবে এরপর তোমাদের (সৌদি) থেকে তারা নিস্প্রয়োজন হয়ে যায়। কিন্তু ফিলিস্তিনীরা আজও তোমাদের দিকে সাহায্যের জন্য হাত বাড়িয়ে আছে। অসহায় ফিলিস্তিনীরা এমন আরবদের কাছে সাহায্য চেয়েছে যারা তাদের কল্যাণে কোন পদক্ষেপই নেয়নি। তাহলে আজ এমন সাহস এবং অটলতা কোত্থেকে এলো?
হিজবুল্লাহ প্রধান বলেন : বিগত বছরগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে যা কিছু ঘটেছে এর কোন ইস্যুতেই সৌদি আরবের এ ধরনের হস্তক্ষেপ পরিলক্ষিত হয়নি। আজ এমন কি ঘটেছে যে, সামরিক অভিযানে নামতে হল সৌদিকে। (বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর সেনাবাহিনীর অধিকারী) ইসরাইলের হুমকি তোমাদেরকে উদ্বিগ্ন করেনি? এর অর্থ হল ইসরাইল সৌদি আরব ও তার মিত্রদের শত্রু নয় এবং তাদের জন্য হুমকিও নয়। তাই তাদের বিরুদ্ধে “Resolute Storm” অপারেশন চালানোর কোন প্রয়োজন নেই।
নাসরুল্লাহ’র সংযোজন : (সৌদি আরব ও তার আরব মিত্ররা) ইয়েমেনের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন! সত্যিই যদি আপনাদের উদ্দেশ্য ইয়েমেনে মানসুর হাদীর ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া হয়ে থাকে তবে ফিলিস্তিনের দখল হওয়া ভূখণ্ড ফিরিয়ে নিতে আপনারা কোন পদক্ষেপ নেন না কেন?
যা কিছু বর্তমানে ঘটছে তা সৌদি আরব ও তার মিত্রদের অপারেশন Resolute Storm। আমরা (ইতিপূর্বে) আরবদের সাহসিকতা ও বীরত্বকে দেখেছি। কিন্তু দুঃখের কথা হল, এরপূর্বে কখনই ফিলিস্তিন ও মধ্যপ্রাচ্যের জনগণের পক্ষে এবং ইসরাইলের বিরুদ্ধে এ ঝড় ওঠেনি, কেন? ফিলিস্তিনের জনগণ বহুবছর ধরেই তো সাহায্যের জন্য ফরিয়াদ জানিয়ে আসছে, লেবাননও ১৯৮২ সালে এবং এরপর বহুবার সাহায্যের আহবান জানিয়েছে, ফিলিস্তিনীরা এখনো সাহায্য চাইছে। তারা সুন্নি মাযহাবের অনুসারী, বহুবার আরব নেতাদেরকে নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন না করার প্রতি আহবান জানিয়েছে তারা। এ সাহসিকতা, বীরত্ব ও অটলতা এতদিন কোথায় ছিল?

ইয়েমেনের উপর হামলার বিষয়ে সৌদির ৩ অজুহাত সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন
ইয়েমেনের উপর হামলার বিষয়ে সৌদি আরবের উপস্থাপিত অজুহাত সম্পর্কে হাসান নাসরুল্লাহ বলেন: ৩ অজুহাতে ইয়েমেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছে সৌদি আরব।
প্রথম অজুহাত; ‘বৈধ রাষ্ট্রপতিকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা।’ প্রেসিডেন্টের বৈধ হওয়ার বিষয়টি যদি মেনেও নেই, সেটা কি ইয়েমেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার কারণ হতে পারে? এরপূর্বে কেন তিউনিশিয়ার বিষয়ে এ ধরনের পদক্ষেপ আপনারা গ্রহণ করেননি, দেশটির জনগণ তো যায়নু্ল আবেদীন বিন আলীর বিরুদ্ধে উঠে দাঁড়িয়েছিল? মিসরের বিষয়ও কারো অজানা নয়; মিসর বিপ্লবের বিষয়ে সৌদি আরবের শত্রুতাপূর্ণ অবস্থানের কারণেই হোসনি মোবারকের পতন হয়। এসব দেশের রাষ্ট্রপতিদেরকে রক্ষা করতে তখন সৌদি আরব কেন মিসরের বিপ্লবের বিরুদ্ধে জোট গঠন করেনি, এখন ইয়েমেনের বেলায় কেন এমন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে? স্পষ্ট যে, এ অজুহাত ও বাহানা ভিত্তিহীন এবং মিথ্যাচার বৈ কিছুই নয়। বৈধ প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনার উপায়ও এটা নয়।
দ্বিতীয় অজুহাত : ‘ইয়েমেনের সাম্প্রতিক অবস্থা সৌদি আরব ও পারস্য উপসারগীয় আরব দেশসমূহের নিরাপত্তাকে হুমকির সম্মুখীন করেছে।’ এ দাবী ও ইয়েমেনের নিরীহ মানুষের রক্ত ঝরানোর পক্ষে কোন দলীল-যুক্তি তাদের কাছে রয়েছে কী? এ পদক্ষেপ মানবতা বিরোধী এবং আল্লাহর ধর্মের অন্তর্ভুক্তও নয়। বরং এ হচ্ছে জর্জ বুশের সৃষ্ট বিধানসমূহের অন্যতম। তিনি মানুষকে তার মনে থাকা বিষয়ের কারণে দায়ী করতেন। সকলের জন্য স্পষ্ট যে, ইয়েমেনের প্রধান সমস্যা হচ্ছে সন্ত্রাসবাদের উপস্থিতি, অর্থনীতি এবং উন্নয়নে অগ্রগতির অভাব। ইয়েমেনের এ সমস্যা বহু বছরের পুরনো। এ পর্যন্ত ইয়েমেনের জনগণ এমন কিছু করেছে কি যার ফলে সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে? যা কিছু আমরা জানি তা হল আনসারুল্লাহতে (মুভমেন্ট) আমাদের ভাইয়েরা সৌদি আরব, কাতার ও পারস্য উপসাগরের অন্যান্য দেশের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতেন। তারা সৌদি বাদশা’র মৃত্যুতে আয়োজিত অনুষ্ঠানেও অংশগ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু বাদশার মৃত্যুর পর সকল যোগাযোগ ছিন্ন হয়ে যায়। আনসারুল্লাহ যুদ্ধ ঘোষণা করেনি বরং তারা সংলাপে বসার আহবান জানিয়েছিল। শত্রুতাপূর্ণ কোন পদক্ষেপ তাদের পক্ষ থেকে নেয়া হয়নি।
তৃতীয় অজুহাত : (সৌদিদের দৃষ্টিতে) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সবচেয়ে দূর্বলও বটে। পারস্য উপসাগরীয় দেশসমূহের গণমাধ্যমগুলো এ বিষয়টিকে সবচেয়ে হাইলাইট করেছে, তা হল ‘ইয়েমেন দখল করে নিয়েছে ইরান’ এবং ‘ইয়েমেন বর্তমানে ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন’। এ পরিস্থিতিতে ইয়েমেনে ইরানের হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। এটা হচ্ছে প্রচারিত মিথ্যাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় মিথ্যা। এ অজুহাতের পেছনে তাদের নিকট কি কোন যুক্তি ও দলীল রয়েছে? কোন দেশ দখল করে নিলে তার কিছু চিহ্ণ ও নিদর্শন থাকে। ইয়েমেনে কি ইরানি বাহিনী অবস্থান করছে? ইয়েমেনে কি ইরানের কোন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে? ইরান কি সত্যিই ইয়েমেন দখল করে নিয়েছে?

সৌদি আরবের মানসতা হচ্ছে মূল সমস্যা, তারা মধ্যপ্রাচ্যের কোন জাতির স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেয় না
নাসরুল্লাহ বলেন : সৌদি আরব ও তার মিত্রদের মনসতায় মৌলিক সমস্যা রয়েছে; তারা মধ্যপ্রাচ্যের জনগণ ও জাতির স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেয় না। এ কারণেই অবাধ্য হওয়ার অর্থ হল সৌদি আরবের মানদণ্ডের বিপরীতে অবস্থান নেয়া। আর তাই মিসর, তিউনিশিয়া ও লিবিয়ার (গণজাগরণের) ঘটনায় সৌদির আচরণ ছিল নিরবতা পালন। এ ধরনের মানসতা ও ভুল নীতি ধারাবাহিক পরাজয়ই ডেকে আনে।
সৌদি আরবের পররাষ্ট্র নীতি, মধ্যপ্রাচ্যের সকল দরজাকে ইরানের বিরুদ্ধে উন্মুক্ত করেছে। সমস্যা ইরানের নয়, আপনাদের। সমস্যা আপনাদের পরাজয়, ব্যর্থতা এবং (মধ্যপ্রাচ্যে বিষয়ে) আপনাদের বোঝার ঘাটতিতে। ১৯৮২ সালে ইসরাইল যখন লেবানন দখল করেছিল, তখন সিরিয়া ব্যতীত সকল আরব দেশই লেবাননকে নিঃসঙ্গ ত্যাগ করেছিল। ঐ অবস্থায় সহযোগিতা করতে পারে এমন কারো সন্ধান করা লেবাননের জন্য বৈধ ছিল। দূরত্বে থাকা সত্ত্বেও ইরান ও সিরিয়া লেবাননের পাশে এসে দাঁড়ায় এবং লেবাননের সাহায্যের আহবানা সাড়া দেয়। তারা নিজেদের অভিজ্ঞতা ও অস্ত্র প্রদান করেছিল, কিন্তু লেবানের প্রতিরোধ আন্দোলন ছিল লেবাননের নিজের।

বোমা বিস্ফোরণ ও আত্মঘাতী হামলায় ইরাকীদেরকে হত্যাকারী দেশটির নাম সৌদি আরব
নাসরুল্লাহ বলেন : এরপর আমরা লেবাননের বিজয়কে অন্যান্য আরব দেশে ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তারা কখনই এটা চায়নি। তারা ধারণা করেছিল যে, এটা হচ্ছে ইরানী ও সাম্প্রদায়িক সাহায্য। ইরান কখনই লেবাননকে নিজ করায়ত্তে নেয়নি। কখনই নিজেদের চিন্তাকে লেবাননের উপর আরোপ করেনি।
ফিলিস্তিন সম্পর্কে হিজবুল্লাহ প্রধান বলেন : আরবরা, সৌদি এবং পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো ইসরাইলের মোকাবিলায় ফিলিস্তিনের জনগণকে নিঃসঙ্গ ত্যাগ করেছে। ফলে তাদের রক্ত ঝরেছে ও তারা গৃহহারা হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র নেমেছে রাজনৈতিক সমাধানে। কিন্তু এ সমাধান মরিচীকা বৈ কিছুই নয়।
তিনি আরব দেশগুলোর উদ্দেশ্যে এ প্রশ্ন তুলেছেন যে, আপনাদের নিকট অঢেল সম্পদ ও অর্থ থাকা সত্ত্বেও কেন ফিলিস্তিনের জনগণ চরম দারিদ্রতার মাঝে জীবন-যাপন করে? যদি অস্ত্র দিতে না চান, আমরা আপনাদের অস্ত্র, সৈন্য এবং “Resolute Storm” চাই না। ইরানই একমাত্র দেশ, যে শত অবরোধ উপেক্ষা করে ফিলিস্তিনীদেরকে সাহায্য অব্যাহত রেখেছে।

সৌদি গোয়েন্দা বিভাগ এবং বন্দর বিন সুলতান আইএসআইএলের স্রষ্টা
হিজবুল্লাহ প্রধানের সংযোজন : আইএসআইএলের হাতে সরঞ্জাম ও অর্থ পৌঁছিয়েছেন (সৌদি গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক প্রধান) বন্দর বিন সুলতান। অতঃপর এ দলটিকে ছেড়ে দিয়েছেন, যাতে আপনাদের উপর আধিপত্য লাভ করে। সৌদি আরব প্রথমে সাদ্দাম হুসাইনকে ইরানের উপর হামলা ও যুদ্ধের বিষয়ে উৎসাহিত করেছিল। উদ্দেশ্য ছিল উভয় দেশকে ধ্বংস করা। এরপর ইরাক দখলের জন্য জর্জ বুশকে উৎসাহ এবং সহযোগিতা করেছিল। ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের একটি অংশ ছিলেন আপনারা (সৌদিরা)। এরপর যখন আপনার প্রত্যক্ষ করলেন যে, ইরাক প্রতিরোধ গড়ে তুলছে এবং অল্প কিছুদিন হল দেশটি সাদ্দামের হাত থেকে রেহাই পেয়েছে, তখন আপনারা তাকফিরি ও সন্ত্রাসী গ্রুপকে ইরাকে প্রেরণ করলেন। ইরাকের জনগণের নিকট আমার আবেদন, যাতে তারা সমগ্র বিশ্ববাসীর কানে এ বার্তা পৌঁছে দেয় যে, আত্মঘাতী বোমাধারী গাড়ী এবং তাকফিরিদেরকে ইরাকে প্রেরণকারী দেশটি হল সৌদি। আর সন্ত্রাসী এ গ্রুপ আরব, মুসলমান, শিয়া ও সুন্নির মাঝে কোন পার্থক্য রাখেনি। আপনারা (সৌদিরা) সাম্প্রতিক যে অপরাধ করেছেন তা হল, আইএসআইএলকে সশস্ত্র করে সিরিয়াতে বাশার সরকার এবং ইরাকে নূরি মালেকি সরকারের পতন ঘটাতে তাদেরকে সিরিয়া প্রেরণ করেছেন।

সিরিয়াকে নিজেদের দখলে নিতে সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্ক হিংস্র সন্ত্রাসীদেরকে সিরিয়ায় প্রেরণ করেছে
হাসান নাসরুল্লাহ বলেন : আইএসআইএলের মোকাবিলায় সর্বপ্রথম ইরাককে অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতাকারী দেশটির নাম ইরান। কিন্তু ইদানিং দেখতে পাচ্ছি আরবরা ইরানিদেরকেই অভিযুক্ত করছে যে, তারা ইরাককে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে। এ আধিপত্য আপনাদের (দূর্বলতার) কারণে। কেননা আপনারা পদক্ষেপ নেয়ার ক্ষেত্রে অলসতা প্রদর্শন করেছেন। ইরাকের জনগণের বিষয়ে আপনাদের কাঁধে থাকা দায়িত্বকে পালন করেননি।
সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে হিজবুল্লাহ প্রধান বলেন : যখন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সন্ত্রাসী ও হিংস্র ব্যক্তিরা সিরিয়াকে ধ্বংস করছিল তখন আপনারা এ দেশটিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চেয়েছিলেন। সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্ক অপর সকল দেশের পূর্বে সিরিয়াকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চেয়েছিল। কিন্তু সিরিয়া (জনগণ) স্বাধিন থাকতে চেয়েছে। আর চেয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের ভূমিকাকে ধরে রাখতে। আপনারা সিরিয়ায় সাধারণ মানুষকে হত্যা করেছেন এবং দেশটিকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছেন। অথচ যদি জরিপ চালানো হয় তবে স্পষ্ট হবে যে, সিরিয়ার জনগণ এখনো রাজনৈতিক সমাধানের প্রতি সমর্থন জানায়। কিন্তু কে এ সমাধানের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে? কে সিরিয়াকে আগুন পোড়াতে চেয়েছে? সৌদি আরব ও তার মিত্রদের উদ্দেশ্য ছিল সিরিয়াকে ধ্বংস স্তূপে পরিণত করা। আর এ ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবে ইরানের ভূমিকার প্রতি সম্মান জানাতেই হয়, কেননা তারা সিরিয়ার জনগণের সাহায্যে এগিয়ে এসেছে।

ইরান কখনই কোন কিছু চাপিয়ে দেয়নি; ইরান সাম্রাজ্যবাদী নয়, একটি ইসলামি দেশ
সৈয়দ হাসান নাসরুল্লাহ ইরান সম্পর্কে বলেছেন : ইরান কখনই আমাদের উপর কোন বিষয়কে চাপিয়ে দেয়নি। আমাদের অভ্যন্তরিন বিষয়ে আমাদের কাছে কোন দাবীও তাদের ছিল না। আমরা একটি স্বতন্ত্র ও স্বাধীন শক্তি।
তিনি বলেন : ইরান সাম্রাজ্যবাদী নয় বরং একটি ইসলামি দেশ। আর এ কারণেই লেবানন, সিরিয়া, ইরাক ও ইয়েমেনে সাহায্য প্রেরণ করতে তারা দ্বিধা করেনি। অথচ তাদের না কোন চাওয়া ছিল আর না তারা কোন কিছু আমাদের উপর চাপিয়ে দিয়েছে।

হামাসের মন্তব্য : যদি ইরানের স্থানে সৌদি আরব আমাদেরকে সাহায্য করে তবে আমরা ইরানের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবো
লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলনের প্রধানের সংযোজন : হামাসের একটি প্রতিনিধি দলের সাথে সাক্ষাতে যখন সৌদিরা ইরানের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার বিষয়টি উত্থাপন করে, তখন এর জবাবে তারা বলেছিলেন, ইরান আমাদেরকে অর্থ, অস্ত্র ও শিক্ষা বিষয়ে সহযোগিতা করেছে। যদি সৌদি আরব আমাদেরকে সহযোগিতা করে এবং অস্ত্র সরবরাহ করে তবে আমরা ইরানের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবো।
তিনি ইয়েমেনের বিষয়ে বলেন : ইয়েমেনে (-র উন্নয়নে) কি করেছেন? বহু বছর ধরে ইয়েমেনের উপর আধিপত্য রয়েছে সৌদি আরবের। প্রতিটি বিষয়েই সৌদি হস্তক্ষেপ করে আসছে, তাহলে আজ ইয়েমেনের জীবনমান ও স্থিতিশীলতা কোথায়? গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলে ইয়েমেনের অন্তর্ভুক্তিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং এদেশের জনগণের সাথে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও তাদেরকে হেয়-প্রতিপন্ন করেছেন। আনসারুল্লাহর –আপনাদের ভাষায় অবরুদ্ধ হুথি- বিরুদ্ধে সানয়াতে আপনারা ৬টি যুদ্ধ শুরু করেননি? এরপর আপনাদের কাছে গিয়ে সংলাপে বসার জন্য তাদের উপর চাপ সৃষ্টি করেননি? তাকফিরি গোষ্ঠীগুলোকে সহযোগিতা এবং মানুষের মাযহাব পরিবর্তন ব্যতীত দেশটিতে আর কি করেছেন আপনারা?

সৌদি আরবের পরাজয় সুনিশ্চিত
সৈয়দ হাসান নাসরুল্লাহ বলেন : ইয়েমেনের উপর সৌদি আরবের হামলার মূল কারণ হচ্ছে, ইয়েমেনে সৌদি আরবের পরাজয়। সৌদির ধারণা, ইয়েমেন আর তার সম্পত্তি নয়। দেশটি বর্তমানে জনগণ এবং ইয়েমেনের প্রকৃত রাজনৈতিক শক্তির অধিকারে পরিণত হয়েছে। ইয়েমেনের উপর বহু বছরের আধিপত্য পূনরায় ফিরে পাওয়ার চেষ্টায়রত সৌদি আরব। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইয়েমেন ও অপর দেশের সৈন্যদেরকে হত্যা করা সৌদি আরবের কাঙ্খিত বিষয় বলেই মনে হচ্ছে।
অনতি বিলম্বে এ শত্রুতার ইতি টেনে রাজনৈতিক সমাধানের পথ এখতিয়ারের জন্য আগ্রাসী দেশগুলোর প্রতি আহবান জানিয়ে হিজবুল্লাহ প্রধান বলেন : রাজনৈতিক সমাধানের মাধ্যমেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
যে সকল দেশ ইয়েমেনের উপর হামলায় অংশগ্রহণ করছে সে সকল দেশের জনগণকে তিনি তাদের বিবেক ও ধর্মের শরণাপন্ন হওয়ার প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
প্রতিরক্ষা ও প্রতিরোধ ইয়েমেনের জনগণের অধিকার –এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন : ইয়েমেনের জনগণ প্রতিরোধ অব্যাহত রাখবে এবং তারা বিজয়ী হবে। কেননা এটা হচ্ছে ঐশী সুন্নত এবং ঐতিহাসিক একটি বিষয়। সৌদি বাহিনী কি মার্কিন বাহিনী’র চেয়ে শক্তিশালী? মার্কিন বাহিনী বর্তমানে ইরাকের কোথায় রয়েছে? সৌদি ও তার মিত্রদের বাহিনী কি ইসরাইলের চেয়েও শক্তিশালী? ইসরাইলী বাহিনী তো গাজাতে পরাজিত হয়েছে।
সৈয়দ হাসান নাসরুল্লাহ বলেন : ইয়েমেনের জনগণের সাথে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন এবং অপমানিত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেতে সৌদি আরবের সামনে এখনো সময় রয়েছে। বিমান হামলা চালিয়ে তাদের আনন্দিত হওয়া উচিত নয়। বিমান থেকে বোমা নিক্ষেপ করে বিজয় অর্জনের বিষয়টি সকল সামরিক কলেজই প্রত্যাখ্যান করে। সৌদি স্থল বাহিনী কোথায়? সৌদি আরব চায় পাকিস্তান, মিসর ও জর্ডানের সেনাবাহিনীকে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রেরণ করতে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের জনগণ ভাল করেই জানে যে, সৌদি আরবের পরাজয় সুনিশ্চিত।
হিজবুল্লাহ প্রধানের সংযোজন : ইয়েমেনের জনগণ নিজেদের সম্মান ও ভূখণ্ড রক্ষা করবে। বেসামরিক মানুষ হত্যায় অংশগ্রহণের স্থলে রাজনৈতিক সমাধানের পথ আরব দেশসমূহের সামনে উন্মুক্ত রয়েছে। ইয়েমেনের জনগণ ঐশী সুন্নত ও ইতিহাসের ভিত্তিতে বিজয়ী হবে এবং যুদ্ধে সৌদ আরবের সুনিশ্চিত পরাজয় ঘটবে।#


আপনার মন্তব্য প্রেরণ করুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ফিল্ডসমূহ * এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে

*

Mourining of Imam Hossein
پیام رهبر انقلاب به مسلمانان جهان به مناسبت حج 1441 / 2020
conference-abu-talib
We are All Zakzaky