$icon = $this->mediaurl($this->icon['mediaID']); $thumb = $this->mediaurl($this->icon['mediaID'],350,350); ?>

ইমাম মাহদি (আ.) সম্পর্কিত রেওয়ায়েতসমূহ মুতাওয়াতির : আয়াতুল্লাহ মাকারেম

  • News Code : 755791
  • Source : ABNA
Brief

বিশিষ্ট মারজায়ে তাকলিদ আয়াতুল্লাহ আল-উজমা নাসের মাকারেম শিরাজি মাহদাভিয়্যাত বিষয়ক ১২তম শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেছেন: ইসলামি সূত্রসমূহে ইমাম মাহদি (আ.) সম্পর্কিত রেওয়ায়েত অত্যন্ত সমৃদ্ধ। সুন্নি মাযহাবের কিছু কিছু মনীষীরা এ বিষয়ে ‘তাওয়াতুরুর রেয়ায়াহ ফিল মাহদি’ শীর্ষক গ্রন্থও রচনা করেছে। এদ্বারা প্রমাণিত হয় যে, ইমাম মাহদি (আ.) সম্পর্কিত রেওয়ায়েতগুলো মুতাওয়াতির।

হলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা –আবনা- : হযরত আয়াতুল্লাহ আল-উজমা মাকারেম শিরাজি গত বৃহস্পতিবার (১৯ মে) ইমাম মাহদি (আ.) এর উপর আয়োজিত ১২তম সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেছেন, ইমাম মাহদি (আ.) এর আবির্ভাবের বিষয়ে বুদ্ধিবৃত্তি ভিত্তিক দলিল-প্রমাণও বিদ্যমান। পাশাপাশি কুরআন ও হাদীস থেকেও বিষয়টি প্রমাণ করা সম্ভব।

তিনি বলেন: ইসলামি সূত্রসমূহে আমাদের রেওয়ায়েত অত্যন্ত সমৃদ্ধ। সুন্নি মাযহাবের কিছু কিছু মনীষীরা এ বিষয়ে ‘তাওয়াতুরুর রেয়ায়াত ফিল মাহদি’ শীর্ষক গ্রন্থও রচনা করেছে। এদ্বারা প্রমাণিত হয় যে, ইমাম মাহদি (আ.) সম্পর্কিত রেওয়ায়েতগুলো মুতাওয়াতির।

রেওয়ায়েতে ইমাম মাহদি (আ.) এর বিষয়টি স্পষ্ট এবং তাঁর বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যও এগুলোতে উল্লেখিত হয়েছে –এ কথা উল্লেখ করে শিয়া বিশ্বের বিশিষ্ট এ মারজায়ে তাকলিদ বলেন: যখন (কারবালার) বন্দীদেরকে সিরিয়ার (শাম) দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তখন ইমাম সাজ্জাদ (আ.) বলেছিলেন ((منا مهدی هذا الأمّة)) -‘এ উম্মতের মাহদি (হেদায়েত দানকারী) আমাদেরকে মাঝ থেকেই’- এর থেকে স্পষ্ট হয় যে, সিরিয়ার জনগণ জানত যে, কে ইমাম মাহদি এবং কেন তার আবির্ভাব ঘটবে। শিয়া ও সুন্নি সূত্র হতে আমাদের হাতে বিদ্যমান এ বিষয়ক রেওয়ায়েতগুলো তাওয়াতুরের পর্যায়ে অতিক্রম করেছে। এর সংখ্যা এতটাই বেশী যে, বহু গ্রন্থ এ বিষয়ে রচিত হয়েছে।

ইমাম মাহদি (আ.) এর আবির্ভাবের বিষয়ে পবিত্র কুরআনের আয়াতে’র কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন: এ সংক্রান্ত আয়াতগুলো মূলতঃ দু’টি ভাগে ভাগ করা যেতে পারে; প্রথম শ্রেণীর আয়াতগুলো তাফসির ও তা’ভিলের প্রয়োজন রাখেনা এবং আবির্ভাবের উপর (সরাসরি) নির্দেশক। এর বিপরীতে দ্বিতীয় শ্রেণীর আয়াতগুলো ইমামগণ (আ.) এর তাফসির ও তা’ভিল মারফত আলোচ্য বিষয়টিকে স্পষ্ট করে।

আয়াতুল্লাহ মাকারেমে’র সংযোজন: মহান আল্লাহ্ পবিত্র কুরআনে সূরা আম্বিয়ার ১০৫নং আয়াতে স্পষ্ট ভাষায় বলছেন: “আমার সৎকর্মপরায়ণ বান্দাগণ অবশেষে পৃথিবীর অধিকারী হবে”- এটা হচ্ছে ইমাম মাহদি (আ.) এর আবির্ভাবের সুসংবাদ। অথবা সূরা তওবা’র ৩৩নং আয়াতের ভিত্তিতে: মহানবি (স.) এর যুগে এবং তাঁর পরবর্তী সময়ে সকল ধর্মের উপর কর্তৃত্বের বিষয়টি আপেক্ষিক, কিন্তু আবির্ভাবের যুগে তা পরিপূর্ণরূপ লাভ করবে।

তিনি বলেন: সূরা কাসাসে’র ৫নং আয়াতের –যাতে বর্তমান বা ভবিষ্যত কাল সমৃদ্ধ ফে’লে মুদ্বারে ব্যবহৃত হয়েছে; যা দ্বারা চলমান কালকে বোঝায়- ভিত্তিতে ‘আমরা শুধু মুসার গোত্রকে পরিত্রাণ দেইনি বরং তাদেরকে ফেরাউনদের উপর কর্তৃত্ব দান করেছি’ এর উর্ধ্বে এ কর্মসূচী অব্যাহত থাকবে এবং অসহায়দেরকে পৃথিবীতে আমার উত্তরাধিকারী বানাবো।

তিনি সূরা মূলকের ৩১নং আয়াতের কথা উল্লেখ করে বলেন: ইমাম বাকের (আ.) ভাষ্যমতে, ‘এ আয়াতের অপর তাফসিরটি হল ইমাম মাহদি (আ.)’। তিনি অন্তর্ধানে যাবেন কিন্তু একদিন ফুটন্ত বৃহত ঝর্ণার ন্যায় প্রত্যাবর্তন করবেন। তাঁকে স্বচ্ছ-সজল পানি হিসেবে আখ্যায়িত করার অর্থ হল, ইমাম মাহদি (আ.) এর ন্যায়পরায়নতা এমন স্বচ্ছ ও সজল পানির ন্যায় যা মানবতাকে জীবিত করবে। আর যদি তিনি না থাকেন তবে মূলতঃ পৃথিবী’র মৃত্যু হয়েছে। বর্তমান সময়ে পৃথিবী অর্ধমৃতের রূপ লাভ করেছে। আর যে এই অর্ধমৃত শরীরে জীবন সঞ্চার করবেন তিনি মানবতার পরিত্রাণ দ্বাতা ব্যতীত আর কেউ নন।

আবির্ভাবের ঘটনা বিলম্বিত না হয়ে দ্রুত ঘটুক সে ক্ষেত্রে আমাদের করণীয় কি? –এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন: কেউ কেউ বলেন দোয়া করা উচিত। দোয়াটাই উত্তম এবং সকলের উচিত দোয়া করা, কারণ মহান আল্লাহ্ হচ্ছে দাতা। কিন্তু শুধুমাত্র দোয়া করলেই যথেষ্ট, নাকি এর সমাধানে পবিত্র কুরআনেরও শরণাপন্ন হতে হবে?

পবিত্র কুরআন ভাষ্যানুযায়ী আমাদেরকে সৎকর্মশীল বান্দাদের খোঁজ করতে হবে –এ কথা উল্লেখ করে আয়াতুল্লাহ মাকারেম শিরাজি বলেন: যে সকল সৎকর্মশীল বান্দারা ইমাম মাহদি (আ.) এর বিপ্লবের ভিত্তিকে গঠন করবেন তারা যদি প্রস্তুত হন তবে তারা এ আয়াতের শামিল হবেন। শুধুমাত্র দোয়া করা যথেষ্ট নয়। অবশ্যই সৎকর্মশীল বান্দাদের সন্ধান করতে হবে।

তার সংযোজন: শত্রুর মোকাবেলায় দৃঢ় প্রত্যয়ী, বিশ্বাসী, প্রস্তুত, সতর্ক এবং শক্তিশালী লোকেরাই পরস্পরের হাতে হাত দিয়ে এ বিপ্লবকে শুরু করবেন। এটা ঠিক যে, ইমাম মাহদি (আ.) এর বিপ্লব মহান আল্লাহ সমর্থিত, কিন্তু এর জন্য বৈপ্লবিক কর্মসূচী’রও প্রয়োজন রয়েছে, যার মূল ভিত্তিকে সৎকর্মশীল বান্দারা গঠন করবেন।

পবিত্র কুরআনের আলোকে সৎকর্মশীল বান্দা কারা? –এ প্রশ্নের উত্তরে বলেন: মহান আল্লাহ্ পবিত্র কুরআনে সূরা আলে ইমরানের ১১৩ ও ১১৪ নং আয়াতে সৎকর্মশীল বান্দাদের ৪টি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছেন। প্রথমতঃ তাদের রাতের ইবাদতগুলো; সৎকর্মশীল বান্দারা রাতে জাগ্রত হয়। যখন বিরক্তি ও লোক দেখানোর কোন পরিবেশ থাকে না, তখন তারা আল্লাহর ইবাদতে মশগুল হয় এবং প্রতিদিনের কর্মসূচীর জন্য শক্তি সঞ্চার করে।

তিনি বলেন: তারাই হচ্ছে সৎকর্মশীল বান্দা মহান আল্লাহ্ ও আখেরাতের প্রতি যাদের ঈমান সুদৃঢ়। যদি সৎকর্মশীল বান্দারা এমন না হন তবে কাজের অগ্রগতি ঘটবে না। সবসময় আমরা কর্মকর্তাদেরকে বলে থাকি; আমাদের কাছে এমন অস্ত্র রয়েছে যা আমেরিকানদের চেয়েও শক্তিশালী; আর সেটা হচ্ছে আমাদের যুবকদের ঈমান। এরা শাহাদাত থেকে ভীত নয়। তারা কাফন পরেই মাঠে নামে। যদি মার্কিনীরা ও পশ্চিমারা সংলাপে তাদের দাবী তুলে নেয় (বা ছাড় দেয়) তবে বুঝতে হবে যে সেটা আমাদের ঈমানের কারণেই। স্বেচ্ছাসেবী গণবাহিনী (বাসিজ), রেভুল্যুশনারী গার্ড বাহিনী (সেপাহ) এবং সেনাবাহিনী’র সদস্যরা মু’মিন। আর এই ঈমানকেই শত্রুরা ভয় পায়।

আয়াতুল্লাহ আল-উজমা মাকারেম শিরাজী সৎকর্মশীল বান্দাদের তৃতীয় বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন: আল্লাহর সৎকর্মশীল বান্দারা আমর বিল মা’রুফ ওয়া নাহি আনিল মুনকার তথা সৎকাজের নির্দেশ ও অসৎকাজে বাধা দান শীর্ষক কর্মসূচীকে বাস্তবায়ন করে থাকে এবং গোটা মুসলিম সমাজের উপর তাদের সার্বিক দৃষ্টি রয়েছে। গোটা সমাজকে সামনে রেখে সমাজের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেয় তারা।

তিনি বলেন: মন্দকাজে অন্তর থেকে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করা সৎকাজের নির্দেশ এবং অসৎকাজে বাধা দানের প্রাথমিক পর্যায়। এ পর্যায় না থাকলে বিষয়টি মুখেও ফুঁটে উঠবে না। ভাষায় প্রকাশ ঘটানো হচ্ছে এর দ্বিতীয় পর্যায়। এ কারণে মুসলিম উম্মাহ পবিত্র কুরআনে সর্বোত্তম উম্মত হিসেবে আখ্যা পেয়েছে। সৎকাজের নির্দেশ ও অসৎকাজে বাধা দানের বাস্তবায়ন ইসলামি শাসনব্যবস্থার হাতেই ন্যাস্ত। কেউ কেউ মনে করেন সৎকাজের নির্দেশ ও অসৎকাজে বাধা দানের মাঝে সহিংসতা নিহীত। আর এ কারণে তারা এর বিরোধিতা করেন। অথচ এ কাজ নরম ভাষায় ও বিনম্র আচরণের মাধ্যমে সংঘটিত হবে এবং এর বাস্তবায়ন ইসলামি শাসন ব্যবস্থার তত্ত্বাবধানেই ঘটবে।

সৎকর্মশীল বান্দাদের চতুর্থ বৈশিষ্ট্যের বিষয়ে শিয়া বিশ্বের প্রখ্যাত এ মারজায়ে তাকলিদ বলেন: সৎকর্মশীল বান্দাদের চতুর্থ বৈশিষ্ট্য হল তারা সৎকাজ, অভাবীদের সাহায্য এবং অত্যাচারীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দ্রুত এগিয়ে আসে।

তিনি সম্মেলনে উপস্থিতদের উদ্দেশ্যে বলেন: এ ধরনের সভা-সম্মেলনে কর্মসূচী গ্রহণ করতে হবে যাতে সৎকর্মশীলদের জন্য ক্ষেত্র প্রস্তু হয় এবং আবির্ভাব দ্রুত ঘটে। কেউ কেউ আবার এ বিষয়ে নেতিবাচক দৃষ্টি রাখেন। তাদের মতে ফাসাদ যত বেশী হবে আবির্ভাব ততই দ্রুত ঘটবে। অথচ এ বিষয়টি ভুল। বরং সৎকর্মশীল বান্দাদের সংখ্যা যতবেশী হবে আবির্ভাবের আশা ততবেশী বৃদ্ধি পাবে।

চলতি বছরগুলোতে ইমাম মাহদি (আ.) এর আবির্ভাবের বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে, -এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন: অতিতে আমরা জামকারান যেতাম। সেখানে একটি ছোট মসজিদ ছিল; যার দরজা ছিল বন্ধ। আমরা দরজা খুলে সেখানে নামায পড়তাম। সেটাও ছিল খুব সীমাবদ্ধ। বর্তমানে লক্ষ-কোটি মানুষ ইমামে যামানা’র নাম ও ভালবাসায় মসজিদে জামকারান যায়। এমনকি ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতাও প্রায়ই কোন পূর্বঘোষণা ছাড়াই এ মসজিদ যেয়ারতে যান। তাঁর সফলতার নেপথ্যে অন্যতম কারণ হচ্ছে এ মসজিদের সাথে তার আত্মিক সম্পর্ক।#


আপনার মন্তব্য প্রেরণ করুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ফিল্ডসমূহ * এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে

*