$icon = $this->mediaurl($this->icon['mediaID']); $thumb = $this->mediaurl($this->icon['mediaID'],350,350); ?>

১০০ দিন পরেও উত্তাল কাশ্মীর

  • News Code : 786209
  • Source : Jugantor
Brief

ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরে স্বাধীনতাকামীদের টানা বিক্ষোভ একশ' দিন পার করেছে।

আবনা ডেস্ক: ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরে স্বাধীনতাকামীদের টানা বিক্ষোভ একশ' দিন পার করেছে। নব্বই দশকের পর এবারই এত দীর্ঘ সময় ধরে বিক্ষোভ হচ্ছে।
একশ' দিন পেরিয়ে যাওয়ার পরেও অচলাবস্থার অবসান হয়নি। উল্টো হিমালয়ান উপত্যকাটিতে আসন্ন শীত মৌসুমের যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতাকে কেন্দ্র করে নতুন সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশংকা করা হচ্ছে।
জম্মু ও কাশ্মীরে গত ৮ জুলাই সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল মুজাহেদিনের কমান্ডার ২২ বছর বয়সী বোরহান ওয়ানি ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়।
এ ঘটনার পর কাশ্মীরজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরে তা ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী ও কাশ্মীরিদের মধ্যে সহিংসতায় রূপ নেয়। এতে এখন পর্যন্ত শতাধিক মানুষ নিহত ও ১০ হাজার ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
অবনতিশীল পরিস্থিতি বিরাজমান থাকলেও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ক্ষমতাসীন বিজেপি-পিডেপির আলোচনার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
সরকারের অন্যতম শরিক দল পিডিপি বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং তাদের সমর্থকদের প্রতি অবস্থান আরও কঠোর করেছে, যা একশ' দিনের অচলাবস্থার অবসানকে কঠিন করে তুলেছে। ফলে জীবনযাত্রা স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।
এদিকে রাস্তায় তীব্র বিক্ষোভ সত্ত্বেও রোববার রাজ্যটির শিক্ষামন্ত্রী নাঈম আখতার ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী নভেম্বরে দশম ও দ্বাদশ শ্রেণীর বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। তার এই বার্তা রাজ্য সরকারের অনমনীয় ও কঠোর অবস্থানকে তুলে ধরছে।
তবে রাজ্যটির প্রধান বিরোধী ন্যাশনাল কনফারেন্সসহ সব বিরোধী দলই বলছে, চলমান উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে।
এজন্য তারা ভারতের কেন্দ্রীয় ও কাশ্মীরের রাজ্য সরকারকে পরিস্থিতি নিরসনে 'বিচ্ছিন্নতাবাদীদের স্বার্থসহ সংশ্লিষ্টদের সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করতে নতুন উদ্যোগ' গ্রহণ করতে বলেছেন।
কিন্তু গত মাসের প্রথম সপ্তাহে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা সর্বদলীয় প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের অন্তর্ভুক্ত করতে কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগ পুরোপুরি ভেস্তে যায়।
এ অবস্থায় রাজ্যটির প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির প্রধান জি এ মির বলছেন, তরুণদের বিরুদ্ধে জননিরাপত্তা আইনে মামলা দিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেয়ে সরকারের উচিত অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া।
শীর্ষ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের মধ্যে মিরওয়াইজ উমর ফারুক, ইয়াসিন মালিক এবং সাইয়েদ আলি গিলানি বন্দি রয়েছেন।
এর মধ্যে মিরওয়াইজের ঘনিষ্ঠ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা জাফর আকবর ভাট বলেছেন, কাশ্মীর ইস্যুকে গুরুত্ব দিয়ে এর সমাধানের জন্য যিনিই চেষ্টা করবেন, তাকেই স্বাগত জানানো হবে।
তার ভাষ্য, আলোচনা এবং শান্তি প্রক্রিয়াই কাশ্মীর সমস্যা সমাধানের প্রধান চাবিকাঠি।
বিচ্ছিন্নতাবাদীদর একটানা ধর্মঘটের নীতি এবং কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক উদ্যোগহীনতার জেরে কাশ্মীরের বাসিন্দারা ক্রমেই অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।
কাশ্মীর বিশ্বিবিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক গুল ওয়ানির মতে, ধর্মঘট চলুক বা না চলুক কাশ্মীর ইস্যুটি বহাল থাকবে। যদি দমনপীড়নের নীতির কারণে চলমান ধর্মঘটের অবসান ঘটেও, তাতে করে সরকারের নিজেকে বিজয়ী মনে করা উচিত হবে না। যে কোনো পরাজয়ের মনোভাব শূন্যতা তৈরি করবে, যার ফলে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা সব দিক থেকেই চাপ দেয়ার চেষ্টা করবে। ফলে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হবে না।
তিনি বলেন, ১৯৪৭ সালের পর এবারেই প্রথম কাশ্মীরের জনগণ একই সঙ্গে বিজেপি শাসিত কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্যে বিজিপি-পিডিপি সরকারকে অবিশ্বাস করতে শুরু করেছে। তাই দ্রুত সময়ে সমস্যা সমাধানের প্রক্রিয়া শুরু করা ছাড়া কেন্দ্রের হাতে কোনো বিকল্প উপায় নেই।
অধ্যাপক গুল ওয়ানি বলেন, এর আগে ২০০৯ সাল থেকে টানা তিন বছর রাজপথে কাশ্মীরের জনগণের বড় ধরনের বিক্ষোভ করেছেন। কিন্তু কোনো ধরনের বিতর্কিত পাল্টা ব্যবস্থা ছাড়া শুধু তদন্ত কমিটি গঠন বা বিক্ষুব্ধ জনতার সঙ্গে আলোচনা করতে প্রতিনিধি দল পাঠিয়ে এমনটি করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে এসব উপায় এখন কেন কাজ করছে না তা বিচ্ছিন্নতাবাদী ও নয়াদিল্লিকে নতুন করে ভেবে দেখতে হবে।


আপনার মন্তব্য প্রেরণ করুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ফিল্ডসমূহ * এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে

*