$icon = $this->mediaurl($this->icon['mediaID']); $thumb = $this->mediaurl($this->icon['mediaID'],350,350); ?>

"মায়ের কোল থেকে ছেলে কেড়ে নিয়ে আগুনে নিক্ষেপ করেছে মিয়ানমার সেনারা"

  • News Code : 792249
  • Source : parstoday
Brief

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর সেনাবাহিনী নতুন করে জুলুম অত্যাচার শুরু করার পর সেখানে এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

আবনা ডেস্ক: মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর সেনাবাহিনী নতুন করে জুলুম অত্যাচার শুরু করার পর সেখানে এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে তাদের গুলিতে গত পাঁচ দিনে সেখানে ৬৯ রোহিঙ্গা মুসলমান নিহত হয়েছে। এ ছাড়া, আটক করা হয়েছে ২৩৪ জন রোহিঙ্গা মুসলমানকে।
এদিকে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বা এইচআরডাব্লিউ স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে বলেছে, রাখাইনের মংদাউ জেলার তিনটি গ্রামের ৪৩০টি বাড়ি ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। এইচআরডাব্লিউ'র এশিয়া বিষয়ক পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডাম বলেছেন, স্যাটেলাইট চিত্রে ক্ষয়ক্ষতির যে বিবরণ পাওয়া গেছে বাস্তবে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ।
মিয়ানমারের মুসলমানদের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে মংডু এলাকার রোহিঙ্গা মুসলিম জয়নুল রেডিও তেহরানকে বলেছেন, "সেনা ক্যাম্পে হামলার ঘটনা প্রকাশিত হওয়ার পর সেনারা রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর এমনভাবে গুলি চালিয়েছে যেভাবে চিন্তা ছাড়াই পাখিকে মানুষ গুলি করে। তারা নিজ হাতে এবং বুলেট নিক্ষেপ করে রোহিঙ্গা মুসলমানদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে। আড়াই হাজার ঘর ভস্মীভূত করেছে। গুলিবর্ষণ ও আগুনে পুড়ে মারা গেছে ২৯৪ জন। আগুনের হাত থেকে বাঁচার জন্য মা ছেলেকে নিয়ে যখন বাইরে বেরিয়ে যাচ্ছিল তখন মার কাছ থেকে ছেলেকে ছিনিয়ে নিয়ে আগুনে নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটেছে।"
গত ৯ অক্টোবর মিয়ানমারে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর একটি ঘাঁটিতে অজ্ঞাত পরিচয় সশস্ত্র ব্যক্তিদের হামলায় ৭ জন সৈন্য এবং ১০ জন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়। এ ঘটনার পর সেনাবাহিনী সেখানে ব্যাপক অভিযান চালায়। সরকারের অভিযোগ রোহিঙ্গা মুসলমানরাই ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। সরকারের এ অভিযোগ সম্পর্কে মিয়ানমারের মংডু থেকে রোহিঙ্গা মুসলিম জয়নুল জানিয়েছেন, "নিরাপত্তা বাহিনী তাদের সেনাদের মৃতদেহ দেখিয়েছে। অথচ বাস্তবতা হচ্ছে রোহিঙ্গা মুসলমানদেরকে গুলি করে হত্যা করে পরে তাদেরকে সেনা ক্যাম্পে নিয়ে সেনাবাহিনীর পোশাক পরানো হয়। এভাবে তারা দেখানোর চেষ্টা করে যে তাদেরই সেনা নিহত হয়েছে এবং এর দায় রোহিঙ্গা মুসলমানদের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করে।"
গত ৯ অক্টোবর মিয়ানমারের সেনা ঘাঁটিতে হামলার বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন, ব্রিটেন, আমেরিকা ও মিয়ানমার বিষয়ক জাতিসংঘের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক টিম। এদিকে, রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থীদের জন্য সরবরাহকৃত ত্রাণ সাহায্য ঠিকমতো দেয়া হচ্ছে কিনা তা দেখার জন্য মিয়ানমার সরকার আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দলকে অনুমতি দিলেও সহিংসতা কবলিত এলাকায় ওই প্রতিনিধি দলকে যাওয়ার অনুমতি দিচ্ছে না।
মিয়ানমারের সেনাবাহিনী গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ ও বাড়িঘর জালিয়ে দিয়ে সেখানে এমন এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। কিন্তু বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অং সান সুকি মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।#


আপনার মন্তব্য প্রেরণ করুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ফিল্ডসমূহ * এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে

*