ইসরাইলকে টিকিয়ে রাখতেই শিয়াভীতি ও ইরানভীতির প্রসার ঘটানো হচ্ছে : সর্বোচ্চ নেতা

  • News Code : 612244
Brief

ইসলামি বিপ্লবের মহান নেতা ইসলামি ঐক্যকে বর্তমান সময়ে মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় বিষয় বলে আখ্যায়িত করে বলেন : মুসলমানদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টিসহ শিয়াভীতি ও ইরান ভীতির প্রসারের ক্ষেত্রে বিশ্বের বলদর্পী শক্তিগুলোর অন্যতম মূখ্য উদ্দেশ্য হচ্ছে নিজেদের সমস্যা আড়াল করা এবং দখলদার জায়নবাদী ইসরাইলকে রক্ষা করা।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনার রিপোর্ট : মহানবী হযরত মুহাম্মাদ –সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর পবিত্র নবুয়্যাত প্রাপ্তি দিবসে গত মঙ্গলবার (২৭শে মে), মুসলিম দেশগুলোতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতগণ, ইরানের সিনিয়র সরকারি কর্মকর্তাগণ, আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিগণ এবং সাধারণ জনগণের সাথে সাক্ষাতকালে প্রদত্ত এক বক্তৃতায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আল-উজমা সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী বলেন : বর্তমানে ইসলামি স্বকীয়তার অনুভব মুসলমানদের মাঝে অতিতের চেয়ে তীব্রভাবে জেগে উঠেছে। ইরানি জাতিও একনিষ্ঠ মনে এবং সাহায্যের যে প্রতিশ্রুতি মহান আল্লাহ প্রদান করেছেন তার উপর ভরসা রেখে উন্নতির পথে এগিয়ে চলেছে এবং বিভিন্ন সমস্যা পার করে অত্যাচার, মুর্খতা ও অন্যায়ের মোকাবিলা করছে।
মহানবী হযরত মুহাম্মাদ –সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর পবিত্র নবুয়্যত প্রাপ্তি দিবস উপলক্ষে মোবারকবাদ জানিয়ে আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী বলেন : নবীগণের (আ.) –বিশেষতঃ মহানবী (স.)-এর প্রেরণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হচ্ছে মানুষকে জ্ঞান ও বুদ্ধিবৃত্তি হতে উপকৃত হওয়ার প্রতি নির্দেশনা দান করা। যদি মুসলিম সমাজ সর্ব অবস্থায় বুদ্ধিবৃত্তি ও আকল ব্যবহার করে তবে মুসলিম বিশ্বের বহু সমস্যার সমাধান হবে।
তিনি বলেন : ইসলাম ও পবিত্র কুরআনের শিক্ষার প্রতি সঠিক ও গভীর দৃষ্টি না দেয়ার কারণে বর্তমানে একটি দল ইসলামের নামে মুসলমানদের উপর অত্যাচার করছে এবং তাদের বিরুদ্ধে হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে। এমনকি আফ্রিকান দেশসমূহে ইসলামের নামে নিরাপরাধ স্কুল ছাত্রীদেরকে অপহরণ করা হচ্ছে।
ইসলামি বিপ্লবের নেতা বলেন : বর্তমানে প্রকাশ্যে ইসলামের মোকাবিলায় নেমেছে শত্রুরা। এক্ষেত্রে তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হচ্ছে আকিদাগত বিষয়ে মুসলমানদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করা এবং শিয়া ও সুন্নিদের মাঝে যুদ্ধ বাধানো। যদি আমরা এ ক্ষেত্রে আমাদের চিন্তা শক্তিকে কাজে লাগাই তাহলে শত্রুদের কালো ছায়া ও তাদের কুউদ্দেশ্য স্পষ্ট হবে এবং আমরা ইসলামের ধ্বংস কামনাকারীদের উদ্দেশ্যের পথে পা রাখা থেকে বিরত থাকবো।
ইসলামি বিপ্লবের মহান নেতা ইসলামি ঐক্য বর্তমান সময়ে মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় বিষয় বলে আখ্যায়িত করে বলেন : মুসলমানদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টিসহ শিয়াভীতি ও ইরান ভীতির প্রসারের ক্ষেত্রে বিশ্বের বলদর্পী শক্তিগুলোর অন্যতম মূখ্য উদ্দেশ্য হচ্ছে নিজেদের সমস্যা আড়াল করা এবং দখলদার জায়নবাদী ইসরাইলকে রক্ষা করা। মুসলিম জাতির –বিশেষভাবে তাদের মধ্যকার চিন্তাবিদ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের- নিকট এটাই প্রত্যাশা যে, তারা বিশেষ বিচক্ষণতা ও দূরদৃষ্টির মাধ্যমে এবং শত্রুদের বিষয়ে সঠিক পরিচিতি অর্জন করে স্পষ্ট এ বাস্তবতা অনুধাবন করবে।
মহানবী হযরত মুহাম্মাদ –সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম- যে মূর্খতা দূর করতে নবুয়্যত প্রাপ্ত হয়েছিলেন সেই মূর্খতারই প্রসার ঘটাচ্ছে পশ্চিমারা। তিনি বলেন, অন্যায় আচরণ, বর্ণবাদ, মানবিক মূল্যবোধকে অবজ্ঞা করা, যৌন বিষয়াদিকে হাইলাইট করা ইত্যাদি -এর সবটাই পশ্চিমার দূষিত সভ্যতার বহিঃপ্রকাশ। যার ফল হচ্ছে জাহিলিয়্যাত বা মূর্খতায় প্রত্যাবর্তন তবে অভিনব কায়দায়।
বলদর্পী শক্তিগুলো চলমান ইসলামি জাগরণকে কৌশলে দমন করতে চাইছে –এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন : যদিও বাহ্যিক ভাবে কিছু কিছু অঞ্চলের জনগণকে তারা দমন করতে পেরেছে কিন্তু বাস্তবতা হল ইসলামি জাগরণ দমন করা সম্ভব নয়।
নবুয়্যতের বাণীর ছত্রছায়ায়, অভ্যন্তরিন ঐক্য, শত্রুদের মোকাবিলায় বিশেষ সাহসিকতা প্রদর্শন এবং মহান আল্লাহ্ কর্তৃক প্রতিশ্রুত সাহায্যের প্রতি ভরসার কারণেই আজ ইরানি জাতির উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে –এ বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করে আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী বলেন : আল্লাহর অনুগ্রহে নবগঠিত সরকার ও এর কর্মকর্তারা ইসলাম ধর্মের অনুসারী হয়ে গর্ববোধ করে এবং বিভিন্ন অঙ্গনে তারা প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
জীবনের পথে সমস্যার উপস্থিতি স্বাভাবিক একটি বিষয় বলে আখ্যায়িত করে ইসলামি বিপ্লবের নেতা বলেন : জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান ব্যক্তিরা মহান আল্লাহর নৈকট্য ও মানবিক সম্মান অর্জনের লক্ষ্যে এ সকল সমস্যার বিপরীতে ধৈর্য্যের পরিচয় দেয়। কিন্তু বুদ্ধিহীন মানুষেরা মহান আল্লাহর বেলায়েতকে মেনে নেয়ার পরিবর্তে শয়তানি বেলায়েতের শরণাপন্ন হয়, ফলশ্রুতিতে তারা লাঞ্ছিত হয়। আর ঐ শয়তানরা তাদের প্রতি কখনই কৃতজ্ঞ না।
তার সংযোজন : পবিত্র কুরআনের এ ফরমুলা থেকে শিক্ষা নেয়া উচিত। সৌভাগ্যের প্রকৃত পথকে চিনতে হবে, যা হচ্ছে পবিত্র কুরআন প্রদর্শিত পথ।
ইসলামি বিপ্লবের নেতার বক্তব্যের পূর্বে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন রুহানী মহান এ দিবস উপলক্ষে মোবারকবাদ জ্ঞাপন করে বলেন : মহানবি হযরত মুহাম্মাদ –সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম- উদারতা, উত্তম নৈতিকতা ও উত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের অন্তরকে নিজের প্রতি আকৃষ্ট করতেন। তিনি উপহার স্বরূপ মানব জাতির জন্য শিক্ষা, স্বাধীনতা ও আধ্যাত্মিকতা এনেছেন।
কাফেররা বিভেদ-বিচ্ছেদ, অন্যায় আচরণ, সহিংসতা ও উগ্রতাসহ বিভিন্ন বিষয় মুসলিম বিশ্বের উপর আরোপ করেছে –এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন : আজ ইসলামি বিপ্লব, মুসলমানদেরকে কাফেরদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে, পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে এবং মুসলিম উম্মাহ’র মধ্যকার বিভেদ দূর করার প্রতি আহবান জানায়।


আপনার মন্তব্য প্রেরণ করুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ফিল্ডসমূহ * এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে

*

ইসলামের মহান সেনাপতি জে. কাসেম সোলাইমানি ও আবু মাহদি আল-মুহানদিস
We are All Zakzaky
conference-abu-talib
No to deal of the century