সিরিয়ার তুফান এখন ইরাকের দিকে: একই ভুলের পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে

  • News Code : 615632
Brief

আল-কায়েদা সমর্থিত ইসলামিক স্টেট অভ লিভান্ট বা আইএসআইএল’র সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ইরাকের বেশ কিছু শহর দখল করে নিয়েছে। এ ঘটনায় সন্ত্রাসী ও উগ্র গোষ্ঠীগুলোর সমর্থক পাশ্চাত্য আবারো রাজনৈতিক ভুল করতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আবনা : আল-কায়েদা সমর্থিত ইসলামিক স্টেট অভ লিভান্ট বা আইএসআইএল’র সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ইরাকের বেশ কিছু শহর দখল করে নিয়েছে। এ ঘটনায় সন্ত্রাসী ও উগ্র গোষ্ঠীগুলোর সমর্থক পাশ্চাত্য আবারো রাজনৈতিক ভুল করতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন শহর দখল করে সেখানে বেসামরিক মানুষজনকে নৃশংসভাবে হত্যা করছে। অথচ এক বছর আগেও সেখানে কোনো বিদেশি সন্ত্রাসীদের অস্তিত্ব ছিল না। সিরিয়া বিরোধী পাশ্চাত্য ও আরব দেশগুলোর জোট সিরিয়ার সরকার উৎখাত করার জন্য সন্ত্রাসীদেরকে অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করেছিল। কিন্তু সেখানে তারা ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমানে আমেরিকা যেসব সন্ত্রাসীদের পেছনে বিপুল অংকের অর্থ খরচ করছে এর আগেও তাদের প্রতি গোপনে বা প্রকাশ্যে ওয়াশিংটনের সমর্থন ছিল।     
ইরাকে জবর দখল প্রতিষ্ঠার জন্য আমেরিকা ৭০ হাজারের বেশি ডলার ব্যয় করেছে এবং তাদের সাড়ে চার হাজারের বেশি সেনা নিহত হয়েছে। এ অবস্থায় মার্কিন সমর্থনপুষ্ট সন্ত্রাসীরা এখন ইরাকের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আল-কায়েদা সমর্থিত ইসলামিক স্টেট অভ লিভান্ট বা আইএসআইএল’র সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা যেসব অস্ত্র ব্যবহার করছে তার বেশিরভাগই আমেরিকার দেয়া। যদিও উগ্র তাকফিরি গোষ্ঠী বা আইএসআইএল’র সন্ত্রাসীরা দখলিকৃত এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারবে কিনা তাতে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে কিন্তু ইরাকের সাম্প্রতিক ঘটনা থেকে প্রমাণিত হয়েছে পাশ্চাত্যই মধ্যপ্রাচ্যের উগ্র তাকফিরি গোষ্ঠীগুলোকে গড়ে তুলেছে।
ইরাকের বর্তমান অবস্থা ২০ বছর আগের আফগানিস্তানের অবস্থার সঙ্গে তুলনীয় যেখানে আমেরিকা তাদের আদর্শিক প্রতিদ্বন্দ্বী অর্থাৎ সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নকে পরাজিত করার জন্য আল-কায়দা ও তালেবান নামে উগ্র গোষ্ঠী গড়ে তুলেছিল। পরবর্তীতে এ গোষ্ঠীগুলো আমেরিকার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এরপর ১১ই সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পর আমেরিকা আফগানিস্তান ও ইরাক জবর দখল করলেও এ দেশগুলোর ওপর তারা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে কার্যত ব্যর্থ হয়েছে।
কিন্তু সিরিয়া কিংবা ইরকে যা ঘটছে তা আমেরিকার ২০ বছর আগের ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তি মাত্র। সিরিয়ার সরকার উৎখাতের জন্য মার্কিন নেতৃত্বে পাশ্চিমা দেশগুলো বিশ্ব থেকে সন্ত্রাস নির্মূলের জন্য গৃহীত নানা কর্মসূচি ও উদ্যোগকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সিরিয়া সরকারের বিরুদ্ধে যোদ্ধা পাঠানোর জন্য সারা বিশ্বের প্রতি আহবান জানায়। পাশ্চাত্যের দেশগুলোর অস্ত্র ও রাজনৈতিক সমর্থন এবং কয়েকটি আরব দেশের অর্থ সহযোগিতায় আন্‌ নুসরা ও আইএসআইএল’র মত উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর উদ্ভব ঘটেছে যারা কিনা এখন সবার জন্য দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।
তাকফিরি গোষ্ঠীর বিপদের হুমকি থেকে ইউরোপ ও আমেরিকাও মুক্ত নয় এবং তাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বর্তমানে সিরিয়ায় যুদ্ধরত বিভিন্ন দেশের সন্ত্রাসীদের  মধ্যে ইউরোপ ও আমেরিকার নাগরিকরাও রয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এসব উগ্র ও সন্ত্রাসীরা নিজ নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার পর সেখানেও তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হতে পারে।
প্রচুর অর্থ ব্যয় ও প্রাণহানীর পর ইরাক ও আফগানিস্তানে আমেরিকার এক দশকের সাফল্য ম্লান হতে চলেছে। এই দুই দেশে ব্যর্থতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা ও তার জন্য বিরাট আঘাত। এমনকি এ বিষয়টি আগামী নির্বাচনেও তার দলের পরাজয়ের কারণ হতে পারে। #আইআরআইবি


আপনার মন্তব্য প্রেরণ করুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ফিল্ডসমূহ * এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে

*

ইসলামের মহান সেনাপতি জে. কাসেম সোলাইমানি ও আবু মাহদি আল-মুহানদিস
We are All Zakzaky
conference-abu-talib
No to deal of the century