সৈয়দ হাসান নাসরুল্লাহ :

অন্তঃকোন্দল ভুলে যান, আইএসআইএস সর্বগ্রাসী / জায়নবাদীরা প্রতিরোধ আন্দোলনের নেতাদের হত্যা করতে চেয়েছিল

  • News Code : 632553
  • Source : ABNA
Brief

‘আমি ইরাক, ফিলিস্তিন ও সিরিয়াসহ পারস্য উপসাগরীয় অপর সকল দেশের উদ্দেশ্যে বলতে চাই নিজেদের অভ্যন্তরিন কোন্দলকে দূরে ঠেলে দিন। কেননা আইএসআইএষ সকলের জন্য হুমকি।

আহলে বাইত বার্তা সংস্থা (আবনা) : গত ১৫ই আগস্ট রাতে, ২০০৬ সালের ৩৩ দিনের যুদ্ধে জায়নবাদী ইসরাইলের পরাজয় দিবস উপলক্ষে লেবাননের হিজবুল্লাহ বাহিনী প্রধান তার বক্তব্যে –যা ভিডিও কনফ্রেন্সের মাধ্যমে প্রচারিত হয়- বলেছেন : ৩৩ দিনের যুদ্ধে জায়নবাদী ইসরাইলের প্রধান লক্ষ্য ছিল লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলনকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া। এক্ষেত্রে শুধু নিরস্ত্র করাই তাদের উদ্দেশ্য ছিল না বরং এ যুদ্ধটি ছিল প্রকৃত যুদ্ধ, লেবানন ও ফিলিস্তিন যুদ্ধের সীমানা অতিক্রম করে মধ্যপ্রাচ্যের সকলে এতে জড়িয়ে পড়ে।
হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন সৈয়দ হাসান নাসরুল্লাহ বলেন : ৩৩ দিনের যুদ্ধে ইসরাইল, লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলনের ১০ হাজার সৈন্যকে আটক করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। আর এ ছিল প্রতিরোধ আন্দোলনের বিরুদ্ধে তাদের মূল পরিকল্পনার অংশ মাত্র। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল সিরিয়া ও লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলনের নেতাদেরকে হত্যা করা। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের তেল সম্পদের উপর আধিপত্য বিস্তার, ফিলিস্তিনীদের বিষয়কে পদদলিত করা ইত্যাদি বিষয়ও তারা এ যুদ্ধের মাধ্যমে হাসিল করতে চেয়েছিল।

* দরুদ হোক ইরান ও সিরিয়ার প্রতি
তিনি প্রতিরোধ আন্দোলনের শহীদদের প্রতি বিশেষভাবে ‘সৈয়দ আব্বাস মুসাউই’, ‘শাইখ রাগেব হারব’ ও ‘এমাদ মুগনিয়া’র প্রতি সালাম প্রেরণ করে বলেন : ঐ সকল আত্মার প্রতি সালাম নিবেদন করি যারা ইমাম মুসা সাদরের উত্তরসূরী প্রজন্ম।
লেবাননের হিজবুল্লাহ বাহিনী প্রধান বলেন : ঐ সকল ব্যক্তিদের প্রতি আন্তরিক সালাম যারা নিজেদের দায়িত্বকে নিষ্ঠার সাথে পালন করেছেন এবং এ বিজয় অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাদের মাঝে রয়েছেন, নেতৃবৃন্দগণসহ সাধারণ জনগণ ও যারা আমাদের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছেন তারা। বিশেষভাবে যারা আমাদেরকে নিজেদের বিপদের উপর প্রাধান্য দিয়েছে; তারা হল ইরান ও সিরিয়া।

* ৩৩ দিনের যুদ্ধে ইসরাইলের মূল টার্গেট ছিল লেবানন, ফিলিস্তিন ও সিরিয়ার প্রতিরোধ আন্দোলনের নেতারা। তারা লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলনের ১০ হাজার যোদ্ধাকে আটকের জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল।
এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের তেল সম্পদের উপর আধিপত্য বিস্তার, ফিলিস্তিনীদের বিষয়কে পদদলিত করা ইত্যাদি বিষয়ও তারা এ যুদ্ধের মাধ্যমে হাসিল করতে চেয়েছিল –এ কথা উল্লেখ করে বলেন : এ যুদ্ধের কারণে ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন নতুন জীবন লাভ করে এবং এ কারণে গাজার বিরুদ্ধে অভিযানের বিষয়ে ইসরাইলকে দুই বছর পিছিয়ে দেয়।
জনাব নাসরুল্লাহ বলেন : জায়নবাদী ইসরাইল ও তাদের মিত্ররা ৩৩ দিনের যুদ্ধে পরাজিত হলেও মার্কিন-ইসরাইলী ষড়যন্ত্র এখনো অব্যাহত রয়েছে। তবে আমরা বর্তমানেও শত্রুদের সকল ষড়যন্ত্রকে পূর্বের ন্যায় নস্যাত করতে সক্ষম।
আন্তর্জাতিক সমাজের নিরবতার নিন্দা জানিয়ে নাসরুল্লাহ বলেন : আরবলীগ ও ইসলামি সম্মেলন সংস্থার উপর আস্থাশীল হলে আমাদের চলবে না। কেননা আমরা লক্ষ্য করছি যে, তাদের প্রতি আস্থাশীলতা ফিলিস্তিন ও লেবাননের সমস্যা সমাধানে কোন কাজেই আসে না।
তিনি গাজার বর্তমান পরিস্থিতির প্রতি ইশারা করে বলেন : গাজায় যা কিছু ঘটছে, তা আরব বিশ্বকে ৩৩ দিনের যুদ্ধের সেই কুউদ্দেশ্য সফলের নতুন পথে নিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র স্থল বাহিনী মোতায়েনের ক্ষেত্রে সত্যই চরম সতর্কতা অবলম্বন করছে। মধ্যপ্রাচ্য এবং লেবানন বর্তমানে স্পর্শকাতর পরিস্থিতির মুখোমুখি।

* আইএসআইএস’র বিস্তার লাভের নেপথ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও আরববিশ্ব
লেবাননের হিজবুল্লাহ বাহিনী প্রধান ইরাক যুদ্ধের বিষয়ে বলেন : প্রতিরোধ ও জনগণের দৃঢ় ইচ্ছার বলেই দখলদার যুক্তরাষ্ট্র ইরাক ত্যাগে বাধ্য হয়েছে। আমি আবারও তাগিদ দিচ্ছি যে, আমরা ভবিষ্যতের সকল প্রকার হুমকি মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত।
নাসরুল্লাহ বলেন : পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সন্ত্রাসী দল আইএসআইএস সিরিয়া ও ইরাকের বেশ কিছু অঞ্চল দখল করে নিয়েছে। তারা এ দুই দেশের জ্বালানী সম্পদের উপর আধিপত্ব বিস্তার করছে, ব্যাংক লুট করছে এবং তেল বিক্রয় করছে।
তিনি আইএসআইএস সন্ত্রাসীদের বর্বর অপরাধ কর্মের প্রতি ইশারা করে বলেন : ইরাক ও সিরিয়াতে আইএসআইএস’র বিরোধিতাকারী অথবা তাদের দৃষ্টিভঙ্গীর বিপরীতে মন্তব্যকারীদেরকে হত্যা করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে তাদের উদ্দেশ্যে হচ্ছে জনগণের মনে ত্রাসের সৃষ্টি করা। আজ আমরা দেখতে পাচ্ছি ইরাকের ১৫ লক্ষাধিক উদ্বাস্তু সুন্নি মাযহাবের অনুসারী।
আইএসআইএস তাদের পরিকল্পনা প্রকাশের মাধ্যমে নিজেদের মূল উদ্দেশ্যের প্রকাশ ঘটিয়েছে –এ কথা উল্লেখ করে লেবাননের হিজবুল্লাহ বাহিনী প্রধান বলেন : তাদের এ পরিকল্পনার ভিত্তিতে কিছু কিছু আরবি দেশও আইএসআইএস কর্তৃক গঠিত কথিত সরকারের (খেলাফত) সাথে সংযুক্ত হতে হবে। আর এ দেশগুলোরই সহযোগিতায় আইএসআইএস’র ন্যায় সন্ত্রাসী দল এ পর্যায়ে পৌঁছুতে সক্ষম হয়েছে। আর মার্কিন কর্মকর্তারাও এ বাস্তবতার সামনে চোখ বুজে নিয়েছেন।
* আইএসআইএস সকলের জন্য হুমকি
সৈয়দ হাসান নাসরুল্লাহ তার বক্তৃতার শেষ অংশে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রতি গুরুত্বারোপ করে বলেন : ‘আমি ইরাক, ফিলিস্তিন ও সিরিয়াসহ পারস্য উপসাগরীয় অপর সকল দেশের উদ্দেশ্যে বলতে চাই নিজেদের অভ্যন্তরিন কোন্দলকে দূরে ঠেলে দিন। কেননা আইএসআইএস সকলের জন্য হুমকি।


আপনার মন্তব্য প্রেরণ করুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ফিল্ডসমূহ * এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে

*

ইসলামের মহান সেনাপতি জে. কাসেম সোলাইমানি ও আবু মাহদি আল-মুহানদিস
We are All Zakzaky
conference-abu-talib
No to deal of the century