গাজায় যুদ্ধাপরাধ করেছিল ইসরাইল দাবি হিউম্যান রাইটস ওয়াচের

  • News Code : 637218
  • Source : jjdin
Brief

যাযাদি ডেস্ক গাজার স্কুলে ইসরাইলি হামলায় আহত এক শিশুআন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, গাজায় এবারের আগ্রাসনে ইসরাইল যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হয়, এমন কাজ করেছিল।

আবনা : যাযাদি ডেস্ক গাজার স্কুলে ইসরাইলি হামলায় আহত এক শিশুআন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, গাজায় এবারের আগ্রাসনে ইসরাইল যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হয়, এমন কাজ করেছিল। জাতিসংঘ পরিচালিত স্কুল এবং তার আশপাশের তিনটি ঘটনা তদন্তের পরই তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে সংস্থাটি এ অভিযোগ এনেছে। এদিকে গাজায় যুদ্ধাপরাধ নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ সামাল দিতে বুধবার ইসরাইলি সেনাবাহিনী গাজায় দুটি সম্ভাব্য অপরাধ তদন্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। সংবাদসূত্র : এপি অনলাইন, আল-জাজিরা
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানায়, তারা গাজায় তিনটি বিমান হামলার ঘটনা তদন্ত করে ইসরাইলি যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ পেয়েছে। নিউইয়র্কভিত্তিক সংগঠনটির অভিযোগ, খুব ভালোভাবে চিহ্নিত তিনটি আশ্রয়কেন্দ্রে ইসরাইলি বিমান থেকে বোমা হামলা করা হয়, যেখানে আদৌ কোনো হামাস যোদ্ধা ছিল না। ওই তিনটি হামলায় কমপক্ষে ৪৫ জন লোক নিহত হয়। যুদ্ধের সময় সংগৃহীত মাঠপর্যায়ের তথ্য, ভুক্তভোগীদের সাক্ষাৎকারসহ বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে এ জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনটির দাবি, এবার গাজায় কিছু কিছু বিমান হামলা ছিল অতিরিক্ত রকমের বেপরোয়া এবং বাছবিচারহীন।
হিউম্যান রাইটসের বিশেষ উপদেষ্টা ফ্রেড আব্রাহামস এক বিবৃতিতে বলেন, 'ইসরাইলি বাহিনী তিনটি স্কুলে হামলা চালায়; যদিও তারা জানত সেখানে হাজারো বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিয়ে আছে এবং ফলশ্রুতিতে কয়েকশ বেসামরিক লোক হতাহত হয়।' তিনি অভিযোগ করেন, এসব হামলার ব্যাপারে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেনি ইসরাইল। দেশটি বলছে, অভিযুক্ত তিনটি ঘটনার ক্ষেত্রেই স্কুলের আশপাশে হামাস যোদ্ধারা ইসরাইলি বাহিনীকে লক্ষ্য করে রকেট বা বিমান বিধ্বংসী মিসাইল ছুঁড়ছিল। পাল্টা জবাব দিতে গিয়েই স্কুলের ওপর মর্টার বা বিমান থেকে ছোড়া গোলা আঘাত হানে। তবে হিউম্যান রাইটস প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষাৎকার থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বলেছে, এসব এলাকায় কোনো হামাস যোদ্ধাই ছিল না। সবই ছিল সাধারণ বেসামরিক মানুষ। আর এদের নির্বিচারে হত্যা করে ইসরাইল যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত করেছে।
ইসরাইলি যুদ্ধাপরাধের বিষয়ে এর আগে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনও মন্তব্য করেছিলেন। তিনি জাতিসংঘ পরিচালিত স্কুল ও আশ্রয়কেন্দ্রে হামলাকে অপরাধী কর্মকা- বলে আখ্যায়িত করেন। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষও ইসরাইলি যুদ্ধাপরাধের বিচার চাইতে আন্তর্জাতিক মহলের দ্বারস্থ হয়েছে। এরই মধ্যে তারা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সদস্য হওয়ার জন্য আবেদন করেছে। বর্তমানে ফিলিস্তিন আইসিসির সদস্য না হওয়ায় আন্তর্জাতিকভাবে ইসরাাইলি যুদ্ধাপরাধের বিচার সম্ভব হচ্ছে না। তবে যুদ্ধাপরাধ তদন্তের জন্য জাতিসংঘ এরই মধ্যে একটি কমিশন গঠন করেছে।
যুদ্ধাপরাধ ইস্যুতে আন্তর্জাতিক চাপ সামাল দিতে বুধবার গাজায় সংঘটিত দুটি ঘটনায় অপরাধীদের বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। গাজা সৈকতে শিশু হত্যা এবং জাতিসংঘের স্কুলে গোলাগুলির ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে এ রকম আরো সাতটি ঘটনার কোনো তদন্ত হয়নি এবং আরো তিনটি ঘটনার তদন্ত করা হবে কি-না, তা সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই তদন্ত আন্তর্জাতিক মানের হবে না। লোক দেখানো এই তদন্ত শুধু আন্তর্জাতিক চাপ সামাল দেয়ার অপকৌশল।


আপনার মন্তব্য প্রেরণ করুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ফিল্ডসমূহ * এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে

*

Mourining of Imam Hossein
پیام رهبر انقلاب به مسلمانان جهان به مناسبت حج 1441 / 2020
conference-abu-talib
We are All Zakzaky