ইরনার বরাত দিয়ে পার্সটুডে জানিয়েছে, ইসরাইলি যুদ্ধবিমানগুলো আজ (মঙ্গলবার) সকালে দক্ষিণের খান ইউনুস এবং মধ্য গাজা উপত্যকার আল-বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে হামলা চালালে এতে তিন শিশুসহ ১৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়।
গাজা শহরের পূর্বাঞ্চলেও ইসরাইলি বিমান ও কামান হামলার ফলে বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি হতাহত হন।
ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গতকাল সোমবার ঘোষণা করেছে যে গত ২৪ ঘন্টায় গাজা উপত্যকায় ৬১ জন ফিলিস্তিনি শহীদ এবং ১৩৪ জন আহত হয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার সকালে যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করে ইসরাইলি সেনাবাহিনী গাজা উপত্যকার বিরুদ্ধে পুনরায় সামরিক আগ্রাসন শুরু করে। নতুন করে শুরু হওয়া এই হামলায় এখন পর্যন্ত ৭৩০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি শহীদ এবং ১,৩৬৭ জন আহত হয়েছেন। এরফলে ৭ অক্টোবর, ২০২৩ থেকে গাজায় শহীদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০,০৮২ জনে এবং আহতের সংখ্যা ১,১৩,৪০৮ জনে দাঁড়িয়েছে।
গাজা উপত্যকার বিরুদ্ধে ইসরাইলের আগ্রাসন পুনরায় শুরু হওয়ার পর আঞ্চলিক ও বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় উঠেছে।
ইসরাইলি অবস্থানে রকেট হামলা চালিয়েছে ফিলিস্তিনিরা
গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের আগ্রাসন শুরুর পর, ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ আন্দোলনের সামরিক শাখা আল-কুদস ব্রিগেড অধিকৃত ফিলিস্তিনে ইসরাইলি অবস্থান এবং ইহুদি বসতিগুলোকে বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে লক্ষ্যবস্তু করে। এরপর, গাজা উপত্যকা সংলগ্ন ইহুদি বসতিগুলিতে সাইরেন বেজে ওঠে।
ইসরাইল হামাসকে ধ্বংস করার ব্যাপারে বিভ্রান্তিতে পড়েছে: হামাস
ফিলিস্তিনি ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন (হামাস) এর একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সামি আবু জুহরি আজ মঙ্গলবার সকালে বলেছেন যে, ইসরাইল সরকার হামাসের কমান্ডারদের শহীদ করে হামাসকে ধ্বংস করার সম্ভাবনা নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েছে।
বিদেশে অবস্থিত হামাসের রাজনৈতিক বিষয় দেখাশোনাকারীর প্রধান আরও বলেন: "হামাস এমন একটি আন্দোলন যার শিকড় ফিলিস্তিনের জনগণের মধ্যে রয়েছে। তাদের অনেক কমান্ডার রয়েছে এবং কমান্ডারদের হত্যা করে হামাসকে বিপদতে ফেলতে পারবে না।"
আবু জুহরি বলেন: ইসরাইল সরকার যুদ্ধবিরতির সুযোগকে কাজে লাগিয়ে হামাস কমান্ডার এবং নেতাদের হত্যার জন্য তথ্য সংগ্রহ করেছে। আবু জুহরি জোর দিয়ে বলেন: "হামাস নেতা ও কমান্ডারদের রক্ত গাজার শিশু ও যুবকদের রক্তের চেয়ে বেশি রঙিন নয় এবং এই হত্যাকাণ্ড আমাদের সংগ্রামের পথ অব্যাহত রাখা থেকে বিরত রাখতে পারবে না।"#
342/
Your Comment