আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক হামলা ও দেশটির প্রেসিডেন্টকে অপহরণের ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
বহু দেশ এই পদক্ষেপকে কাপুরুষোচিত অপহরণ এবং আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেছে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক শৃঙ্খলার ওপর এর প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছে।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটককে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করে তাদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কেবল সে দেশের জনগণই নির্ধারণ করবে এবং শক্তি প্রয়োগের প্রবণতা রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর বিদ্যমান আইনি কাঠামোকে দুর্বল করবে।
এদিকে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাম্প্রতিক ঘটনাবলীকে গভীরভাবে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করে সব পক্ষকে সংলাপ ও শান্তিপূর্ণ পদ্ধতির মাধ্যমে মতভেদ নিরসনের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলার জনগণের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে নয়া দিল্লি।
অস্ট্রেলিয়াও সংযমের আহ্বান জানিয়ে কূটনীতি এবং শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, পশ্চিম গোলার্ধে স্থিতিশীলতা কেবল সংলাপ ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মানের মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব।
জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ফিলিপাইন এবং থাইল্যান্ডও পৃথক বিবৃতিতে উত্তেজনা প্রশমন, গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবন এবং ভেনেজুয়েলার জনগণের ইচ্ছার প্রতি সম্মান জানানোর ওপর জোর দিয়েছে। একই সঙ্গে তারা নিজেদের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানিয়েছে।
বিশ্বব্যাপী প্রতিক্রিয়া থেকে এটা স্পষ্ট যে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একটা বড় অংশই সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলা সংকটের সমাধানের বিরোধী এবং তারা কূটনীতি, সংলাপ ও গণতান্ত্রিক পন্থা অনুসরণের পক্ষে।
Your Comment