১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ - ১৯:০০
তেহরানে বিশাল জনসমুদ্র/তেহরানের জনসমুদ্র শুধু বার্ষিক উদযাপন নয়; বরং এক রাজনৈতিক বার্তা- ভেতরে ঐক্যের আহ্বান, বাইরে শক্ত ও কঠিন অবস্থানের  ইঙ্গিত

ইসলামি বিপ্লবের ৪৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে ইরানের রাজধানী তেহরান বুধবার পরিণত হয় বিশাল জনসমুদ্রে।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): ইসলামি বিপ্লবের ৪৭তম বার্ষিকীতে শুধু রাজধানী নয়, দেশজুড়ে প্রায় ১,৪০০ শহর ও নগরে আয়োজিত পদযাত্রায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।




কঠোর শীত, বৃষ্টি ও তুষারপাত উপেক্ষা করে মানুষের এই উপস্থিতিকে বিশ্লেষকরা দেখছেন এক ধরনের রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে- বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কড়া অবস্থানের প্রেক্ষাপটে।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে নয়টা থেকে তেহরানের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ঐতিহাসিক আজাদি স্কয়ারের দিকে যাত্রা শুরু করে। হাতে জাতীয় পতাকা, ব্যানার ও স্লোগানে তারা যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা ও ‘ষড়যন্ত্রের’ বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়। একই সঙ্গে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানেরও সমালোচনা শোনা যায় মিছিলে।

অনেক অংশগ্রহণকারীর হাতে ছিল ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ খোমেনি এবং বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতিকৃতি। সাম্প্রতিক সংঘাত ও সহিংসতায় নিহতদের ছবিও বহন করা হয়, যা জনতার আবেগঘন সংহতির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা গেছে।

আজাদি চত্বরে আয়োজিত কেন্দ্রীয় সমাবেশে ভাষণ দেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ভাষণে তিনি জাতীয় ঐক্য, সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বিদেশি চাপ মোকাবিলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।


সমাবেশস্থলে ইরানের সামরিক সক্ষমতার বিভিন্ন উপাদান প্রদর্শন করা হয়। সুমার, নূর ও কাদির ক্রুজ মিসাইল এবং জুলফিকার ও হাজ কাসেম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মডেল প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির বার্তা দেওয়া হয়। সাম্প্রতিক সংঘাতে ভূপাতিত একটি ইসরায়েলি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষও জনসাধারণের সামনে তুলে ধরা হয়।

এছাড়া সাম্প্রতিক সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন প্রদর্শনের মাধ্যমে বিদেশি ‘চক্রান্ত’ মোকাবিলায় জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশি-বিদেশি মিলিয়ে প্রায় সাত হাজার সাংবাদিক এই আয়োজন কভার করেন- যা আন্তর্জাতিক মনোযোগের ইঙ্গিত বহন করে।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ইরানে যে রাজনৈতিক পরিবর্তন শুরু হয়েছিল, চার দশক পরও তার প্রভাব দেশটির অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতিতে স্পষ্ট। এবারের আয়োজনও সেই ধারাবাহিকতার অংশ- যেখানে জাতীয়তাবাদ, ধর্মীয় আদর্শ ও সামরিক সক্ষমতার সমন্বিত উপস্থাপন দেখা গেছে।

তেহরানের জনসমুদ্র তাই শুধু বার্ষিক উদযাপন নয়; বরং তা হয়ে উঠেছে এক রাজনৈতিক বার্তা- ভেতরে ঐক্যের আহ্বান, বাইরে শক্ত অবস্থানের ইঙ্গিত।

Tags

Your Comment

You are replying to: .
captcha