আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): আঞ্জুমানে আশেকানে আহলে বাইতে রাসূল (সা.) উদ্দ্যগে বিভিন্ন নামধারী ব্যক্তিত্ব ও সুফীগণ এবং আহলে বাইত (আ.)-এর আশেকানদের উপস্থিতিতে পবিত্র গাদীরে খুম উপলক্ষে সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের বিভিন্ন আলোচনা থেকে গৃহিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ উক্তি তুলে ধরা হল:
🔹গাদীরে খুম কি শিয়াদের?
🔹হ্যাঁ-কোরআন ও হাদীস যদি শুধুমাত্র শিয়াদের হয়ে থাকে তাহলে গাদীরে খুম শুধুমাত্র শিয়াদের। আর যদি কোরআন ও হাদীস সকল মুসলমানদের জন্য হয়ে থাকে তাহলে গাদীরে খুমও শিয়া-সুন্নী নির্বিশেষে সকল মুসলমানদের।
🔹শুধুমাত্র শিয়াদের বিরোধিতা করতে গিয়ে আমরা আহলে বাইতের প্রেম, পবিত্র ১২ ইমামের পরিচয় ও অনুসরণ, মাওলা আলীর তাফসীর, জ্ঞান-বিজ্ঞান এগুলো থেকে বহু দূরে অবস্থান করছি। আফসোস।
চলুন এবার পবিত্র কোরআন ও মুতাওয়াতির হাদীস দ্বারা বর্ণিত ঐতিহাসিক পবিত্র গাদীরে খুম সম্পর্কে সংক্ষিপ্তভাবে জেনে আসি...
🔹গাদীরে খুম: বিদায় হজ্ব শেষে প্রিয়নবীজী (ﷺ) মদিনার উদ্দেশ্যে রওনা হলেন। পথিমধ্যে আল্লাহ পাক প্রিয়নবীজীকে সূরা মায়েদার ৬৭ নং আয়াত নাযিল করে মাওলা আলী (আ.) এঁর বেলায়েতের ঘোষণা করার নির্দেশ দিলেন এভাবে যে,
يَـٰٓأَيُّهَا ٱلرَّسُولُ بَلِّغۡ مَآ أُنزِلَ إِلَيۡكَ مِن رَّبِّكَۖ وَإِن لَّمۡ تَفۡعَلۡ فَمَا بَلَّغۡتَ رِسَالَتَهُ
অর্থাৎ হে রসূল! ওহীর মাধ্যমে আপনাকে যা নির্দেশ করা হয়েছে তা আপনি প্রচার করুন। আর যদি ইহা না করেন তাহলে আপনি রেসালাতের কিছুই প্রচার করলেন না।
🔹ওহী দ্বারা নির্দেশিত গুরুত্বপূর্ণ সেই ঘোষণাটি ছিলো মাওলা আলী (আ.) এঁর বেলায়েতের ঘোষণা। প্রমাণস্বরূপ সূরা মায়েদার ৬৭ নং আয়াতের প্রক্ষিতে তাফসীরে দূররে মানসূরের বর্ণনাটি খেয়াল করুন, হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন,
نَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ: { يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ } عَلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ غَدِيرِ خُمٍّ، فِي عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ.»
অর্থাৎ এই আয়াতটি গাদীরে খুম দিবসকে কেন্দ্র করে হযরত আলী (আ.) এঁর বিষয়ে নাজিল হয়েছে।
🔹 এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৮ ই জিলহজ্জ গাদীরে খুম নামক স্থানে প্রিয়নবীজী (ﷺ) আহলে বাইতের গুরুত্ব সম্পর্কে দীর্ঘ বক্তব্য প্রদান করে অবশেষে হযরত আলী (আ.) এঁর হাত ধরে, উপস্থিত সকল সাহাবীগণের মাঝে "আমি যার মাওলা এই আলীও তার মাওলা" বলে বেলায়েতের ঘোষণা দিলেন। সুবহানাল্লাহ।
🔹মুসলিম, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ, মুস্তাদরাকে হাকেম সহ শত শত হাদীসের কিতাবে প্রায় ১৫৪ টি সনদে গাদীরে খুমের পবিত্র এই ঘটনাটি মুতাওয়াতির পর্যায়ে বর্ণিত হয়েছে। সুবহানাল্লাহ।
🔹গাদীরে খুমের এই বিষয়টি এতটাই আনন্দের ও গুরুত্বপূর্ণ ছিলো সাহাবায়ে কেরাম যখনই সূরা মায়েদার এই আয়াতটি তেলাওয়াত করতেন, আয়াতের মাঝখানে মাওলা আলীর বেলায়েতের ঘোষণাটিও সংযুক্ত করে তারপর তেলাওয়াত করতেন। যেমন: তাফসীরে দূররে মানসূরের রেওয়ায়েতটুকু খেয়াল করুন,
عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: كُنَّا نَقْرَأُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: { يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ } أَنَّ عَلِيَّاً مَوْلَى الْمُؤْمِنِينَ { وَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ فَمَا بَلَّغْتَ رِسَالَتَهُ }
অর্থাৎ, হযরত ইবনে মাসউদ (রঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন প্রিয়নবীজীর যুগে আমরা সূরা মায়েদার এই আয়াতটি তেলাওয়াত করতাম এভাবে যে, হে রসূল! ওহীর মাধ্যমে আপনাকে যা নির্দেশ করা হয়েছে ( নিশ্চয়ই হযরত আলী রঃ সকল মু'মিনদের মাওলা) এই ঘোষণাটি আপনি প্রচার করুন। আর যদি ইহা না করেন তাহলে আপনি রেসালাতের কিছুই প্রচার করলেন না।
🔹গাদীরে খুমের উক্ত ঘোষণাকে অস্বীকার ও অবমাননা করার কারণে প্রিয়নবীজীর এক সাহাবীর উপর নেমে এসেছিল কঠিন আজাব যার শেষ পরিণতি , ছিলো মৃত্যু, যেমন:
سَأَلَ سَائِلٌ بِعَذَابٍ وَاقِعٍ
অর্থাৎ এক ব্যক্তি তার শাস্তিকে চেয়ে নিলো। সূরা মা'আরিজের এই আয়াতের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে তাফসীরে কুরতুবীতে এসেছে, ইমাম জা'ফর (আঃ) থেকে বর্ণিত, গাদীরে খুমের ঘোষণা যখন হারেস ইবনে নু'মান ফেহরীর নিকট পৌঁছে তখন তিনি প্রিয় নবীজীকে জিজ্ঞাসা করলেন,
مَنْ كُنْتُ مَوْلَاهُ فَعَلِيٌّ مَوْلَاهُ، فَهَذَا شَيْءٌ مِنْكَ أَوْ أَمْرٌ مِنَ اللَّهِ تَعَالَىٰ؟ فَقَالَ: بَلَىٰ وَاللَّهِ الَّذِي لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ إِنَّ هَذَا مِنَ اللَّهِ.
"আমি যার মাওলা, আলীও তার মাওলা" এটা কি আপনার কথা নাকি আল্লাহ পাকের নির্দেশ? অতঃপর প্রিয়নবীজী (ﷺ) উত্তরে বললেন, ঐ আল্লাহর ক্বসম যিনি ব্যতিত কোনো উপাস্য নেই "আমি যার মাওলা আলী তার মাওলা" এটা আল্লাহ পাকের পক্ষ থেকেই নির্দেশিত এক ঘোষণা।
এ কথা শুনে সে মুখ ফিরিয়ে নিলো এবং আল্লাহর নিকট হাত তুলে এভাবে বলতে লাগলো,
اللَّهُمَّ إِنْ كَانَ مَا يَقُولُ مُحَمَّدٌ حَقًّا فَأَمْطِرْ عَلَيْنَا حِجَارَةً مِنَ السَّمَاءِ أَوِ ائْتِنَا بِعَذَابٍ أَلِيمٍ . فَوَاللَّهِ مَا وَصَلَ إِلَى نَاقَتِهِ حَتَّى رَمَاهُ اللَّهُ بِحَجَرٍ فَوَقَعَ عَلَى دِمَاغِهِ فَخَرَجَ مِنْ دُبُرِهِ فَقَتَلَهُ ؛ فَنَزَلَتْ : سَأَلَ سَائِلٌ بِعَذَابٍ وَاقِعٍ الآيَة
"হে আল্লাহ! মুহাম্মদ (ﷺ) যা বলছে তা যদি সত্য হয়ে থাকে, তবে আমাদের উপর আকাশ থেকে পাথর বর্ষণ করো অথবা আমাদের কাছে কোনো যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি নিয়ে আসো।"
আল্লাহর কসম! সে তার উষ্ট্রী পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি, তার আগেই আল্লাহ তাকে লক্ষ্য করে একটি পাথর নিক্ষেপ করলেন। পাথরটি তার মাথার মগজে গিয়ে পড়ল এবং তার মলদ্বার দিয়ে বের হয়ে গেল, যার ফলে সে মারা গেল। অতঃপর অবতীর্ণ হলো: "এক যাচনাকারী শাস্তি প্রার্থনা করেছে, যা অবশ্যই ঘটবে" (সূরা আল-মা'আরিজ: ১)
ভিডিও কিল্ক করুন :ঐতিহাসিক ১৮ ই জিলহজ্ব/মাওলা আলীর বেলায়াত দিবস।
Your Comment