আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): ব্যক্তিগত, সামাজিক, ধর্মীয় শিক্ষায়তনিক (সেমিনারি), রাজনৈতিক ও সামরিক—এই বিভিন্ন ক্ষেত্রে আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতাবা খামেনেয়ীর প্রায় পঞ্চাশ বছরের দীর্ঘ পথচলায় বিনয় এবং প্রচারবিমুখতা তাঁর চরিত্রের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে।
বস্তুত, ধর্মীয় শিক্ষায়তনগুলোতে টানা প্রায় ত্রিশ বছর ধরে পাঠদানের সময়—যার মধ্যে কোম সেমিনারিতে ফিকহ (ইসলামি আইনশাস্ত্র) ও উসুল (আইনশাস্ত্রের মূলনীতি) বিষয়ক উচ্চতর পাঠক্রম বা ‘খারেজ’ পর্যায়ের ক্লাস পরিচালনার বিশ বছরও অন্তর্ভুক্ত—তিনি কখনোই তাঁর এসব ক্লাসের প্রচার, পাঠদানকালীন সময়ের ছবি প্রকাশ কিংবা এসব জ্ঞানগর্ভ আলোচনা থেকে সংকলিত লেকচার নোট ও বই জনসমক্ষে প্রচারের অনুমতি দেননি।
গত দুই দশক ধরে—ইসলামি ধর্মতাত্ত্বিক শিক্ষাব্যবস্থার সর্বোচ্চ স্তর হিসেবে বিবেচিত ফিকহ (আইনশাস্ত্র) ও উসুল আল-ফিকহ (আইনশাস্ত্রের মূলনীতি)-এর ‘খারেজ’ (উচ্চতর) পর্যায়ের পাঠদানের পাশাপাশি—আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতাবা খামেনেয়ীর পাণ্ডিত্যপূর্ণ ও কর্মমুখী কার্যক্রমের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা (যেমন—হযরত-এ কায়েম (আ.ফা.) উচ্চতর ফিকহ ও উসুল শিক্ষালয়, ইমাম আলী ইবনে মুসার-রেযা (আ.) উচ্চতর ফিকহ শিক্ষালয়, শামস আশ-শুমুস ফিকহ শিক্ষালয় এবং ফিকহুর-রেযা (আ.) ফিকহ কেন্দ্র); সমগ্র ইরান জুড়ে অভাবী মানুষের সহায়তায় দাতব্য সংস্থা গঠন; এবং বিশেষায়িত সামরিক ও ‘জিহাদি’ প্রকল্প পরিচালনার পাশাপাশি কৌশলগত গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা।
এই বছরগুলিতেই তাঁর পিতা—আল্লামা সাইয়্যেদ আলী হোসেইনি খামেনেয়ীর (রহ.) নির্দেশে সংস্কৃতি, বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও তার নানাবিধ দিক, সাংস্কৃতিক শিল্প, ‘প্রতিরোধমূলক অর্থনীতি’, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মতো বিষয়গুলোর ওপর কৌশলগত গবেষণা পরিচালনা করেন; এই গবেষণামূলক কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য, ইংরেজি ও অন্যান্য ভাষার সর্বশেষ প্রাসঙ্গিক নিবন্ধগুলো সরাসরি অধ্যয়ন করতেন অথবা অন্য ভাষা থেকে সেগুলোর অনুবাদের ব্যবস্থা করতেন।
এই কার্যক্রমগুলোর মধ্যে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি লক্ষণীয়, তা হলো এসব কেন্দ্র ও উদ্যোগের সাথে তাঁর নাম যুক্ত করার বিষয়টি সচেতনভাবে এড়িয়ে যাওয়া; বস্তুত, এমনকি কোনো কোনো প্রশাসনের ধর্মীয় বিষয়ক উপদেষ্টারাও জানতেন না যে তিনি এসব কেন্দ্র পরিচালনা করতেন।
অন্যদিকে, সুবিধাবঞ্চিত গ্রহীতারা—তাঁরা বেনামী দাতাদের উপহার হিসেবেই হোক কিংবা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ীর কার্যালয় থেকে পাঠানো জীবনধারণের প্রয়োজনীয় সামগ্রী হিসেবেই হোক—যে সহায়তা পেতেন, তাতে এই শিক্ষামূলক বা সমাজসেবামূলক কার্যক্রমের সাথে আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতাবা খামেনেয়ীর সম্পৃক্ততার কোনো উল্লেখ বা ইঙ্গিত থাকত না।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সভ্যতা-বিষয়ক গবেষণা, নগর-পরিকল্পনা (বিশেষ করে ইসলামি ও উৎপাদনমুখী শহরের প্রেক্ষাপটে), উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি, কৃষি, খাদ্যনিরাপত্তা এবং মাটিবিহীন চাষাবাদ (হাইড্রোপনিক্স)-এর মতো ক্ষেত্রগুলোতে বিশেষজ্ঞ বিভিন্ন পণ্ডিত-গোষ্ঠী প্রায়শই তাঁর সাথে মতবিনিময় করেছেন;
এসব বিষয়ে তাঁর জ্ঞানের বিশালতা ও গভীরতা দেখে তাঁরা অভিভূত হয়েছেন। এসব বিশেষ আলোচনার সূত্র ধরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট অধ্যাপকরা মন্তব্য করেছেন যে, এর মধ্য দিয়ে যেন এক আধুনিক যুগের ‘শেখ বাহাই’-এর আবির্ভাব ঘটেছে।
এই নিবন্ধের পরবর্তী অংশগুলোতে তাঁর ব্যক্তিগত আচরণ এবং পাণ্ডিত্যপূর্ণ ও সামাজিক জীবনের বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ ও আগে কখনো প্রকাশিত হয়নি এমন সব দিক তুলে ধরা হবে।
সৈয়দ আলী-আসগার হোসেইনি / আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা) নিউজ এজেন্সি
Your Comment