১৭ এপ্রিল ২০১৩ - ০৫:৫২
মিশরে শিয়া বিরোধী সম্মেলন + ছবি

মিশরের মুসলিম ব্রাদারহুড ও এদেশের অধিকাংশ জনগণ যখন ইরান ও মিশরের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়নের কথা বলছে তখন মিশরের সালাফী দলসমূহ সৌদি আরব ও কাতারের ইশারায় মিশরের বিভিন্ন প্রদেশে আলোচনা সভা ও সম্মেলনের আয়োজন করে এ বিষয়টি বোঝানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে যে, ইরান ও মিশরের সম্পর্ক পূনরায় স্থাপিত হল মিশরে শিয়াদের অনুপ্রবেশ বৃদ্ধি পাবে।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনার রিপোর্ট : শিয়া বিরোধী কর্মসূচীর ধারাবাহিকতায় মিশরীয় সালাফীদের একটি দল ‘আশ-শিয়া হুমুল আদু ফাহযারুহুম’ (শিয়ারা হচ্ছে শত্রু তাদের হতে সতর্ক থাকো) শিরোনামে এক সম্মেলনের আয়োজন করেছে। এ সম্মেলনে শেইখ মুহাম্মাদ ইব্রাহিম মানসুর, শেইখ হুসাইন আবু খাইর, শেইখ মুহাম্মাদ ফারিদ ও শেইখ সায়াদ যুলহুফ প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

চলতি সপ্তাহের রবিবার -১৪ই এপ্রিল- মিশরের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের কাফর আল-শেইখ প্রদেশের কানতারাহ শহরে অবস্থিত নূরুল ঈমান মসজিদে আয়োজিত এ সম্মেলনে মিশরের জাতীয় সংসদের সাবেক সদস্য ও মিশরের সংবিধানের খসড়া প্রস্তুতকারী পরিষদের সদস্য মুহাম্মাদ ইব্রাহিম মানসুর বলেছেন : শিয়ারা প্রথমে আহলে বাইত (আ.) এর ভালবাসা ও তাদের মজলুমিয়্যাতের প্রচার করে। এরপর তারা ‘যারা আহলে বাইত (আ.) কে ভালবাসে তারা যে কোন কাজ করুক না কেন, বেহেশতে যাবে; বিপরীতে যারা আহলে বাইত (আ.) কে ভালবাসবে না তারা জাহান্নামে যাবে’ –এমন প্রচার চালিয়ে জনগণকে নিজেদের প্রতি আকৃষ্ট করে।

মানসুর অতঃপর শিয়া মাযহাবের শিক্ষাকে আকর্ষণীয় আখ্যায়িত করে এবং এ মাযহাব দিনের পর দিন মিশরের উন্নতি করছে –এ কথা স্বীকার করে বলেন : সম্প্রতি মিশরের বিভিন্ন অঞ্চলে শিয়াদের নানান কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করছি।

ইবনে তাইমিয়্যাহ হাদীস শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষক শেইখ মুহাম্মাদ ফরিদ এ সম্মেলনে বক্তৃতাকালে, ‘খোমাইনিজম’ বিভিন্ন উদ্ভট আকিদার অধিকারী(!) -এ দাবী করে বলেন : শিয়া মাযহাবের বিষয়টি অত্যন্ত কঠিন এবং শিয়ারা বৃহত ও ভয়াবহ হুমকি স্বরূপ। যারা শিয়াদের বিষয়কে হাল্কাভাবে নেয় তারা ইতিহাস সম্পর্কে জ্ঞান রাখে না!

শেইখ সায়াদ যুলহুফ দাবী করেন যে, শিয়ারাই ইমাম হুসাইন (আ.) কে হত্যা করেছে(!) এবং সর্বদা মুসলমানদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে!!!

অনুষ্ঠানের শেষাংশে শেইখ হুসাইন আবুল খাইর প্রজেক্টরের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্লিপ ও ছবি প্রদর্শনের পাশাপাশি বর্ণনা দিতে গিয়ে শিয়াদের আকিদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন।

অন্যান্যদের মত তিনিও এমন একটি প্রশ্ন উত্থাপন করেন যার জবাব বহুবার শিয়া আলেমদের পক্ষ হতে দেওয়া হয়েছে। তিনি দাবী করেন : শিয়ারা বিশ্বাস করে যে, কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে আলী তা পাঠ করতো এবং রাসূলের পূর্বে আলীর উপর ওহী অবতীর্ণ হত!!!

বলাবাহুল্য, মিশরের মুসলিম ব্রাদারহুড ও এদেশের অধিকাংশ জনগণ যখন ইরান-মিশরের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়নের কথা বলছে তখন মিশরের সালাফী দলসমূহ সৌদি আরব ও কাতারের ইশারায় মিশরের বিভিন্ন প্রদেশে আলোচনা সভা ও সম্মেলনের আয়োজন করে এ বিষয়টি বোঝানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে যে, ইরান ও মিশরের সম্পর্ক পূনরায় স্থাপিত হল মিশরে শিয়াদের অনুপ্রবেশ বৃদ্ধি পাবে।

শিয়া বিরোধী পদক্ষেপের ধারাবাহিকতায় (কথিত) ‘সাহাবা প্রতিরক্ষা’ জোটের সদস্য ও মিশরের সালাফী আলেম ‘হাযেম ইসমাঈল’, মিশরের শিয়া চিন্তাবিদ আহমাদ রাসেম আল-নাফিসের সাথে এক বিতর্কে –যা মিশরের আল-নাহার চ্যানেলের ‘আখেরুন নাহার’ অনুষ্ঠানে অনুষ্ঠিত হয়- শিয়াদের উপর আক্রমণ করে শিয়াদেরকে মুনাফিক ও মাজুস (অগ্নিউপাসক) বলে আখ্যায়িত করে বলেন : আমরা ইসরাইলের সাথে সমঝোতা করতে প্রস্তুত কিন্তু শিয়াদের সাথে নয়।

তিনি আরো দাবী করেন যে, ইসরাইলীরা ইহুদী ও আহলে কিতাব এবং মহানবী (স.) ইহুদী ও খ্রিষ্টানদের সাথে সমঝোতা করেছেন, কিন্তু মাজুসদের সাথে করেননি!!!!