(ABNA24.com) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৮ সালের ৮মে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ইরানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির নীতি গ্রহণ করেছেন। এরই অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন তেহরানের বিরুদ্ধে একের পর এক নিষেধাজ্ঞা দিয়েই চলেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও গতকাল (রবিবার) ইরানের বিরুদ্ধে আরো কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা জানিয়েছেন। তিনি ইরানকে মোকাবেলা এবং দেশটির ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ফের বলবত করার জন্য আমেরিকার ব্যাপক পরিকল্পনার কথা জানান। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, 'ইরানকে মোকাবেলার জন্য পশ্চিম এশিয়াব্যাপী ব্যাপক তৎপরতা শুরু করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে জাতিসংঘের মাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের চেষ্টা করা হচ্ছে এবং এটা হবে ইরান ও পরমাণু সমঝোতার ওপর চূড়ান্ত ও সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক আঘাত।' মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পম্পেও আরো বলেন, 'খুব শিগগিরি এ নিয়ে জাতিসংঘে প্রস্তাব উত্থাপনের ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।'
যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো কোনো পদক্ষেপ নেননি কিন্তু অনেক আগে থেকেই এ ব্যাপারে ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করে চলেছেন। ট্রাম্প প্রশাসন এর আগে দাবি করেছিল ইরানের বিরুদ্ধে ইতিহাসের নজিরবিহীন ও কঠোরতম নিষেধাজ্ঞা দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পম্পেও'র ঘোষিত ১২টি দাবি মেনে নিতে তেহরানকে বাধ্য করা হবে। তবে ইরানের জনগণ এখন পর্যন্ত যেভাবে মার্কিন একতরফা নিষেধাজ্ঞা মোকাবেলা করে এসেছে তাতে ট্রাম্প প্রশাসন এক ধরনের হতাশাগ্রস্ত ও অচলাবস্থার সম্মুখীন হয়েছে। এ কারণে ট্রাম্প এখন ইরানবিরোধী নিষেধাজ্ঞায় জাতিসংঘকে জড়ানোর চেষ্টা করছেন।
এর আগে ওয়াশিংটন তার ইউরোপীয় মিত্র অর্থাৎ ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছিল যাতে তারা 'মশে’ নামক ম্যাকানিজম চালু না করে যেখানে ইরানকে আর্থিক সুবিধা দেয়ার কথা বলা হয়েছে।
যাইহোক, বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসন সর্বশক্তি দিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞা আরোপের চেষ্টা করছেন যাতে নিষেধাজ্ঞার আর কিছু বাকি না থাকে। কিন্তু চীন ও রাশিয়া এ ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে আছে। ওই দুই দেশ জাতিসংঘের মাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের তীব্র বিরোধী। কারণ তাদের যুক্তি হচ্ছে ইরান পরমাণু সমঝোতায় দেয়া সব প্রতিশ্রুতিই পালন করেছে।
প্রকৃতপক্ষে, ইরানের প্রতিরক্ষা শক্তি বৃদ্ধিতে আমেরিকা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। এ কারণে তারা নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত ২২৩১ নম্বর প্রস্তাব উপেক্ষা করে বেআইনিভাবে ইরানের বিরুদ্ধে ফের জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা বলব করার চেষ্টা করছে।
...........
340