আহলে বাইত (আ.)
বার্তা সংস্থা (আবনা): দখলদার ইসরাইলের কারাগারে জীবনের ২০ বছর বন্দি জীবন কাটানোর
পর ফিলিস্তিনের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেনিনের সানুর শহরের ‘রিয়াদ ওয়ালাদ আলী’কে মুক্তি
দিয়েছে ইহুদিবাদী সরকার।
মুক্তির পর মা ও আত্মীয়-স্বজনের পাশে প্রথম দিনটি কিভাবে কাটালেন সে কথা তুলে ধরতে ‘আল-আলাম’ নিউজের একটি দল মুক্তিপ্রাপ্ত ঐ ফিলিস্তিনীর বাড়িতে পৌঁছায়।
মুক্তিপ্রাপ্ত ফিলিস্তিনি বন্দী রিয়াদ ওয়ালাদ আলী বলে, স্বাধীনতার অনুভূতি অবর্ণনীয়। স্বাধীনতা অনেক সুন্দর। জীবনের সবচেয়ে আনন্দময় মুহূর্ত হল পরিবারের সদস্যদের সাথে সময় কাটানো। হয়তো কেউ কেউ দাবি করতে পারে যে, প্রতিরোধ শেষ হয়ে গেছে, তবে আবারও প্রতিরোধের পলিতায় আগুন ধরবে, প্রতিরোধের আগুন আরও তীব্র হবে এবং সকলের মাঝে আশার সঞ্চার ঘটাবে।
রিয়াদের মা জনাবা খাইরিয়া তার অনুভূতি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, সন্তানের সাথে প্রথম সাক্ষাতের আনন্দ অবর্ণনীয়; কেননা তিনি সর্বদা তার সন্তানের সাথে দেখা করার ইচ্ছা রাখতেন। তার এই ইচ্ছা পূরণের পর তিনি সকল বন্দি, শহীদ ও নিজ মাতৃভূমির জন্য দোয়া করেন; যে মাতৃভূমিকে রিয়াদ ওয়ালাদ আলী ২০ বছর বন্দিত্বের মাধ্যমে রক্ষা করে গেছে।
এই ফিলিস্তিনি বন্দির মা বলেন: তারা খুব কমই আমাদেরকে কারাগারে দেখা করতে দিত। আমি সেখানে চিৎকার করতাম যে, আমি আমার প্রিয় সন্তানকে দেখতে চাই। আমি সবসময় ভাবতাম, আমি হয়তো আমার সন্তানকে মুক্ত না দেখেই মারা যাব।
বন্দিদশায় কাটানো বছরগুলোতে রিয়াদ ওয়ালাদ আলী বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করতে সক্ষম হন। তিনি বই পড়ার ক্ষেত্রে সমস্ত সমস্যা এবং অসুবিধা এড়িয়ে যেতেন; কেননা দখলদার শাসকগোষ্ঠী সব সময় কারাগারে তাকে চাপের মধ্যে রাখতো।
রিয়াদের বাবা তার ছেলের বন্দিত্বের বছরগুলিতে মারা যায়; দখলদার শাসকের কারাগারে ছেলের সাথে প্রথম সাক্ষাতের কথা তার মা এখনো মনে রেখেছেন। তিনি বলেন, ঐ বছরগুলিতে, তার চোখ সর্বদা অশ্রুসিক্ত ছিল এবং তিনি চিন্তিত ছিলেন যে, হয়তো তার সন্তানকে আর দেখতে পাবেন না।
বন্দিদের বাড়ির একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে; বন্দি সন্তানকে দেখতে পাওয়ার জন্য মায়েদের চোখ সর্বদা অশ্রু সজল থাকে। ২০ বছর পর মুক্ত হওয়া বন্দী ছেলেকে কেন্দ্র করে এই মায়ের আনন্দ বর্ণনাতীত; যে বন্দি একজন প্রতিরোধ যোদ্ধা হিসাবে বাড়ি ছেড়েছিলেন এবং বীরের বেশে ঘরে ফিরেছেন।#176