আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): লেবাননের হিজবুল্লাহ’র মহাসচিব সাইয়্যেদ
হাসান নাসরুল্লাহ, তার গত শুক্রবারের ভাষণে আমেরিকা ও ইহুদিবাদী সরকারকে সতর্ক
করে বলেন,
গাজায় ইসরায়েলের হত্যাযজ্ঞ অব্যাহত থাকলে,
প্রতিরোধ ফ্রন্ট তাদের আক্রমণ বৃদ্ধি করবে।
কুদসের জন্য শহীদদের সম্মানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সৈয়দ হাসান নাসরুল্লাহর ভাষণে পরও, ইহুদিবাদী সরকার সাধারণ জনগণ, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের উপর তাদের বর্বরতা অব্যাহত রেখেছে।
গতকাল বিকালে, ইসরায়েল গাজার আশ-শাফা হাসপাতালের প্রবেশপথ লক্ষ্য করে রকেট হামলা চালালে আরও অসংখ্য নিরপরাধ গাজাবাসীর রক্ত ঝরে যায়।
অন্যদিকে, গাজার একটি স্কুলকে লক্ষ্য করে রকেট হামলা চালিয়েছে দখলদার সৈন্যরা। যেখানে গৃহহীন লোকেরা আশ্রয় নিয়েছিল। এর বিপর্যয় এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, অনেক সংবাদ মাধ্যম এবং মিডিয়া কর্মীরা এর ছবি প্রকাশ করতে অস্বীকার করে।
হাসপাতাল, স্কুল ও বাড়িঘরকে লক্ষ্যবস্তু করা এবং নারী ও শিশুদের হত্যার পাশাপাশি, ইহুদিবাদী সরকার যাচাই-বাছাই ছাড়া সবখানে রকেট হামলা চালাচ্ছে। ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান গাজার গুরুত্বপূর্ণ আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়কে শক্তিশালী বোমা হামলার মাধ্যমে মাটির সাথে দেয়।
সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহর হুঁশিয়ারির পর এবং ইহুদিবাদী সরকার কর্তৃক নৃশংস হত্যাযজ্ঞের ধারাবাহিকতায়, লেবাননের হিজবুল্লাহ দখলদার ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
অধিকৃত অঞ্চলের উত্তরের সর্বশেষ পরিস্থিতি হচ্ছে, হিজবুল্লাহ প্রথমবারের মতো "বারকান" ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে অধিকৃত ফিলিস্তিনের উত্তরে ইহুদিবাদী শাসকের বেশ কয়েকটি ঘাঁটি ধ্বংস করেছে। প্রাপ্ত তথ্যানুসারে, বারকান একটি বহনযোগ্য স্বল্প-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র যার নামের অর্থ আগ্নেয়গিরি।
এছাড়াও, হিজবুল্লাহ আজ ইহুদিবাদী সরকারের একটি গুপ্তচর বেলুনকে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে।
আল-মানারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই গুপ্তচর বেলুনটি অধিকৃত ফিলিস্তিনের উত্তরে "মিসকাফ আম" নামক ইহুদিবাদী বসতির উপর দিয়ে উড়েছিল, যা প্রতিরোধ যোদ্ধাদের চালানো ক্ষেপণাস্ত্র দ্বারা ধ্বংস করা হয়। এর আগে, লেবাননের হিজবুল্লাহ সীমান্তবর্তী দখলদার সরকারের ইহুদিবাদী ঘাঁটিতে অবস্থিত গুপ্তচরবৃত্তির সরঞ্জামগুলিকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করে।
আজ, প্রতিরোধ যোদ্ধারা অধিকৃত অঞ্চলের উত্তরে ইহুদিবাদী সরকারের ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এই ঘাঁটিগুলি আল-জারদাহ, হাদব আল বুস্তান, জালুল আলম, আল মালিকিয়্যাহ, আল মাতলা এবং রিশা অঞ্চলে অবস্থিত; যেগুলি প্রতিরোধ যোদ্ধাদের রকেট হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
আল-মায়াদিনের প্রতিবেদন অনুসারে, এ বিষয়ে লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ বলে, আমাদের মুজাহিদিনরা রকেট ও উপযুক্ত অস্ত্র নিয়ে একসাথে দখলদার সরকারের বেশ কয়েকটি সেনা ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। লক্ষ্যবস্তুর স্থানগুলি হল; জালুল আলম, আল জারদাহ, হাদব আল বুস্তান, আল মালিকিয়্যাহ এবং আল মাতলা।
লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আরও বলেন, দখলদার সরকারের এই ঘাঁটিগুলিতে লক্ষ্য করে চালানো হামলায় সরাসরি শত্রুর প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম ধ্বংস এবং একাধিক সৈন্য হতাহত হয়েছে।
আক্রমণের নতুন মাত্র ইঙ্গিত দেয় যে, ইহুদিবাদী শত্রুর প্রতি লেবাননের হিজবুল্লাহ মহাসচিবের সতর্কবার্তা ছিল মূলতঃ নিজেদেরকে যুদ্ধের একটি নতুন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা এবং আগামী দিনগুলিতে ইসরায়েলের অপরাধযজ্ঞ অব্যাহত থাকলে, লেবাননের প্রতিরোধ ফ্রন্ট একটি ভিন্ন মাত্রার সংঘাত প্রদর্শন করবে।#176S