৬ জুন ২০২৪ - ১৯:৫৮
ইয়েমেনি ড্রোনের ভয়ে আতঙ্কিত মার্কিন নৌবহর

ইরান যে ইয়ামানের হূসিদের অস্ত্রে সজ্জিত করেছে তা এখন দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট। তবে ইরান ইয়ামানীদেরকে সরাসরি এ সব ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ইত্যাদি সরবরাহ না করলেও সেগুলো নির্মাণ ও তৈরির প্রযুক্তি দিয়েছে এবং সেগুলো তৈরির পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণও, বিষয়টি এখন আর কারো অজানা নয়।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): ইয়ামানীরা ইরানী সামরিক (ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন) প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিশ্বের প্রথম (এক নম্বর) পরাশক্তি মাযুরা (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) ও বিশ্বের পঞ্চম পরাশক্তি যুরার (যুক্তরাজ্য) মহাশক্তিধর ও অত্যাধুনিক নৌবাহিনী এবং অত্যাধিক ব্যয়বহুল ও অত্যাধুনিক বিমানবাহী রণতরী আইযেনহাওয়ারকে লোহিত সাগরে সমস্যা ও বিপদে ফেলেছে।

ইরান যে ইয়ামানের হূসিদের অস্ত্রে সজ্জিত করেছে তা অস্বীকার করা থেকে এখন সরে আসার পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটি; অর্থাৎ এখন এ দেশটি তা স্বীকার করছে। তথ্য ব্রকিংডিফেন্স ওয়েব সাইট।

 ব্রেকিংডিফেন্সের ঐ প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করেছেন বিশিষ্ট গবেষক ও বিশ্লেষক মুহাম্মাদ মুনীর হুসাইন খান।

ইরান যে ইয়ামানের হূসিদের অস্ত্রে সজ্জিত করেছে তা এখন দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট। তবে ইরান ইয়ামানীদেরকে সরাসরি এ সব ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ইত্যাদি সরবরাহ না করলেও সেগুলো নির্মাণ ও তৈরির প্রযুক্তি দিয়েছে এবং সেগুলো তৈরির পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণও, -বিষয়টি এখন আর কারো অজানা নয়।

আর ইয়ামানী হুসিরা ইরান প্রদত্ত মিসাইল ও ড্রোন প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে সেগুলো তৈরি সমরাস্ত্র মাযুরা (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) ও যুরার (যুক্তরাজ্য) নৌশক্তির বিরুদ্ধে সফল ও সার্থকভাবে ব্যবহার করে লোহিত সাগরে অবস্থিত ও বিদ্যমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শত শত কোটি ডলারের বিমানবাহী রণতরী আইযেনহাওয়ার ও অন্যান্য যুদ্ধ জাহাজকে সমস্যায় ফেলে দিয়েছে যা প্রসিদ্ধ মার্কিন পত্রিকা দ্য ন্যাশনাল ইন্টারেস্টও স্বীকার ও ব্যক্ত করেছে । আর এ থেকে ইরানী সামরিক প্রযুক্তির কার্যকারিতা ও পারঙ্গমতা স্পষ্ট হয়ে যায় ।

একটা বিষয় স্পষ্ট করা দরকার এখানে। আর তা হলো যে হত দরিদ্র যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ইয়ামান ইরানী সামরিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌ শক্তিকে ধ্বজভঙ্গ অবস্থায় ফেলে দিয়েছে। বর্তমানে সেগুলোকে সমস্যা কবলিত এবং এ বছর অর্থাৎ ২০২৪ এর জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত বিগত ছয় মাস ধরে বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ ধনী, শক্তিশালী ও সামরিক প্রযুক্তি ও শিল্পে সবচেয়ে উন্নত দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (বিশ্বের ১নং পরাশক্তি) এবং যুক্তরাজ্য (বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম পরাশক্তি) একযোগে বহুবার আগ্রাসন ও আক্রমণ চালিয়েও দরিদ্র মুস্তায'আফ (মযলূম ও নিপীড়িত) ইয়ামানীদের সমর শক্তি নষ্ট, বিকল ও অকেজো করতে পারে নি । এই সপ্তাহ খানেক আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য ইয়ামানীদের বিভিন্ন অবস্থানে বিমান হামলা চালিয়ে ১৬ জন ইয়ামানীকে শহীদ এবং অপর ৪২ জনকে আহত করার ঘটনায়, বর্তমান বিশ্বের শয়তানি শক্তির অন্যতম বড় জোট মার্কিনীদের ও ব্রিটিশদের অপরাধের উপযুক্ত শাস্তি প্রদান ও নৃশংস ঐ হামলার প্রতিশোধ নিতে ইয়ামান গত শুক্রবার (৩১-৫-২০২৩ ) এবং শনিবার (১-৬-২০২৪) লোহিত সাগরে অবস্থানরত মার্কিন বিমান বাহী রণতরী আইযেনহাওয়ারের ওপর সফল হামলা চালিয়ে প্রভুত ক্ষতি সাধন করলে দ্য ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট (৪-৬-২০২৪ তারিখে) এক প্রতিবেদনে প্রকাশ করে যাতে লেখা হয়েছে যে "ঝাঁকে ঝাঁকে মোতায়েন করা ড্রোন ইয়ামানের সমুদ্র উপকূল থেকে দূরে (লোহিত সাগরে) অবস্থানরত সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও অত্যাধুনিক মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর জন্য সমস্যা সৃষ্টি করেছে । এ সব বিমানবাহী রণতরীকে অতি সহজেই লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হচ্ছে। " [দ্রঃ Harrison Kass প্রণীত The Navy's Aircraft Carrier Nightmare Is Good News For Russia & China (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহী রণতরীর দুঃস্বপ্ন, রাশিয়া ও চীনের জন্য দারুন সুখবর) নিবন্ধটি।

-মুহাম্মদ মুনীর হুসাইন খান