৫ এপ্রিল ২০২৫ - ০০:০৭
Source: Parstoday
কেশম থেকে মাকু; ইরানে বিনিয়োগের সোনালী দ্বার: ৮টি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলের ভূমিকা

ইরানে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ করা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহজতর করার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।

মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় সকল দেশেরই মূল লক্ষ্য হলো অন্যান্য দেশের সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলা। ইরানও এই নিয়মের ব্যতিক্রম নয়। পার্সটুডে'র এই নিবন্ধে আমরা এই অঞ্চলগুলোর কয়েকটির সাথে পরিচয় করিয়ে দেব:

কেশমপারস্য উপসাগরের বৃহত্তম দ্বীপে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল

পারস্য উপসাগরের বৃহত্তম দ্বীপে অবস্থিত কেশম মুক্ত বাণিজ্য ও শিল্প অঞ্চল আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। হরমুজ প্রণালীতে কৌশলগত অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক জলসীমায় সরাসরি প্রবেশাধিকারের কারণে, কেশম দ্বীপ বাণিজ্যিক, শিল্প এবং পর্যটন কর্মকাণ্ডের জন্য বিশেষ সুযোগ প্রদান করে। কেশম জৈবপ্রযুক্তি, সামুদ্রিক সম্পদ, তেল সহায়ক শিল্প এবং পর্যটন উন্নয়নের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। পারস্য উপসাগর, কমনওয়েলথ এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর ভোক্তা বাজারে সহজ প্রবেশাধিকারের কারণে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অঞ্চলে পরিণত হয়েছে।

কেশম থেকে মাকু; ইরানে বিনিয়োগের সোনালী দ্বার: ৮টি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলের ভূমিকা

কেশম মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল

চ'বাহার মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলইরানের একমাত্র সমুদ্র বন্দর

দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের সিস্তান ও বালুচিস্তান প্রদেশে অবস্থিত চ'বাহার মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলটি উত্তর-দক্ষিণ এবং পূর্ব-পশ্চিম ট্রানজিট রুটের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল হিসেবে পরিচিত। ১৪০ বর্গকিলোমিটারেরও বেশি এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই অঞ্চলটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ইরানের একমাত্র মহাসাগরীয় বন্দর হিসেবে, বিস্তীর্ণ জলসীমায় সরাসরি প্রবেশাধিকার রয়েছে।

কেশম থেকে মাকু; ইরানে বিনিয়োগের সোনালী দ্বার: ৮টি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলের ভূমিকা

চাবাহার মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল

৭১ হাজার হেক্টরেরও বেশি আয়তনের আরাস মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল

৭১,০০০ হেক্টরেরও বেশি আয়তনের 'আরাস' মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলটি উত্তর-পশ্চিম ইরান, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান প্রজাতন্ত্র এবং নাখচিভান স্বায়ত্তশাসিত প্রজাতন্ত্রের সীমান্তের শূন্য বিন্দুতে অবস্থিত। এই অঞ্চলটি ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিকভাবে ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুক্ত অঞ্চল হিসেবে পরিচিত এবং এর সীমান্ত অবস্থানের কারণে আরাস পূর্ব ও পশ্চিমের সংযোগকারী রুটের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও শিল্প কেন্দ্রগুলোর অন্যতম হয়ে উঠেছে। এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ধাতু, মোটরগাড়ি, ইলেকট্রনিক্স, তেল ও গ্যাস এবং কৃষি শিল্প, যা দেশী ও বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

কেশম থেকে মাকু; ইরানে বিনিয়োগের সোনালী দ্বার: ৮টি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলের ভূমিকা

আরাস মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল

আনজালি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল; ইরানের উত্তরাঞ্চলীয় প্রতিবেশীদের সাথে বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার

গিলান প্রদেশে এবং কাস্পিয়ান সাগরের তীরে অবস্থিত আনজালি শিল্প মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলটি ইরানের উত্তরাঞ্চলীয় প্রতিবেশীদের, বিশেষ করে রাশিয়ার সাথে বাণিজ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত। উত্তর-দক্ষিণ করিডোরে কৌশলগত অবস্থানের কারণে, এই অঞ্চলটি পূর্ব এশিয় দেশগুলো এবং ইউরোপের মধ্যে পণ্য পরিবহন সহজতর করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আনজালি কেবল তার বাণিজ্যিক গুরুত্বের জন্যই নয় বরং পর্যটন আকর্ষণ এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যও বিখ্যাত। এই অঞ্চলে দুটি শিল্প নগর এবং ১৪৩টি কারখানা রয়েছে যা উৎপাদন, পর্যটন এবং পরিষেবার বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করে।

কেশম থেকে মাকু; ইরানে বিনিয়োগের সোনালী দ্বার: ৮টি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলের ভূমিকা

আনজালি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল

আরভান্দ মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলইরান-ইরাক সীমান্তে কৌশলগত এলাকা

পারস্য উপসাগরের উত্তর-পশ্চিম এবং খুজেস্তান প্রদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত আরভান্দ মুক্ত বাণিজ্য শিল্প অঞ্চলটি আরভান্দ এবং কারুন নদীর সংযোগস্থলে অবস্থিত। ৩৭,৪০০ হেক্টরেরও বেশি আয়তনের এই অঞ্চলে আবাদান, খোররামশাহর এবং মিনু দ্বীপ শহর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ইরাক ও কুয়েতের সীমান্তে কৌশলগত অবস্থান এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থল, আকাশ ও সমুদ্র পরিবহন রুটে প্রবেশাধিকারের কারণে এই মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলটিকে ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলগুলোর একটি হিসাবে বিবেচনা করা হয়।

কেশম থেকে মাকু; ইরানে বিনিয়োগের সোনালী দ্বার: ৮টি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলের ভূমিকা

আরভান্দ মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল

কিশপারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্য ও পরিবহনের প্রধান কেন্দ্র

ইরানের কিশ দ্বীপ বিনোদন ও পর্যটনের জন্য একটি অঞ্চল হিসেবে সর্বাধিক পরিচিত। এই দ্বীপে ইরানের প্রথম মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, এটি পারস্য উপসাগরের দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বীপ। সারা বছর ধরে দশ লক্ষেরও বেশি দেশি-বিদেশি পর্যটক আকর্ষণ করার পাশাপাশি এখানে সক্রিয় রয়েছে বহু রকমের শিল্প-কারখানা। বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, ইলেকট্রনিক্স, পোশাক, খাদ্য ও ওষুধ, রাসায়নিক ও সেলুলোজ উৎপাদনসহ অফশোর ড্রিলিং ইত্যাদি আরও অনেক শিল্প। পর্যটকদের ভিসা-মুক্ত প্রবেশের কারণে এই দ্বীপটি আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত।

কেশম থেকে মাকু; ইরানে বিনিয়োগের সোনালী দ্বার: ৮টি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলের ভূমিকা

কিশ মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল

মাকোবিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল

উত্তর-পশ্চিম ইরানে অবস্থিত, তুর্কিয়ে এবং নাখচিভান স্বায়ত্তশাসিত প্রজাতন্ত্রের সীমান্ত সংলগ্ন মাকু মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলটি ইরানের বৃহত্তম মুক্ত অঞ্চলগুলোর। এই মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম হিসেবে পরিচিত। উত্তর-দক্ষিণ ট্রানজিট করিডোরের সাথে অবস্থিত এই অঞ্চলটি এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে বাণিজ্য সহজতর করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিস্তৃত সীমান্ত এবং পরিবহন অ্যাক্সেসের কারণে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক হাব হিসাবেও বিবেচিত হয়।

কেশম থেকে মাকু; ইরানে বিনিয়োগের সোনালী দ্বার: ৮টি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলের ভূমিকা

মাকো মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল

ইমাম খোমেনি বিমানবন্দর মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলইরানের রাজধানী শহরে বিমানের প্রবেশদ্বার

দক্ষিণ-পশ্চিম তেহরানে অবস্থিত ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলটি ইরানের রাজধানী শহরের অন্যতম বিমান প্রবেশদ্বার। ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই এলাকায় এখন দুটি টার্মিনাল রয়েছে যার বার্ষিক ধারণক্ষমতা ১ কোটি ১৫ লক্ষ যাত্রী এবং ১২০,০০০ টন পণ্য পরিবহনের ক্ষমতা রয়েছে। এই বিমানবন্দরটিকে এ অঞ্চলের প্রথম বিমান পণ্য পরিবহন কেন্দ্র এবং ইরানের দ্বিতীয় যাত্রী পরিবহন কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

Your Comment

You are replying to: .
captcha